ইবির ৪৫তম জন্মদিন পালন
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০২৩ ৪৫০ বার পঠিত

সাকিব আসলাম, ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র্যালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়ানোর মধ্য দিয়ে দিবস উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হয়।
এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরাল চত্বরে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে সমবেত হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে ৪৫তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও স্টুডেন্টস ই-পেমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ৪৫তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ. এম. আলী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনে আমরা যে পবিত্র মানসিকতা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেছি সেই আনন্দ উপভোগ করি। আমরা আজ এই জন্মদিনকে শুভ করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে ই-পেমেন্ট সিস্টেম এর ব্যবস্থা করেছি। আজ থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে কোনো ফি জমা দিতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরির যে ভিশন, তার প্রধান দুটি কম্পোনেন্টের মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যাশ-লেস সোসাইটি এবং অন্যটি পেপারলেস সোসাইটি। এই দুটি ভিশন মাথায় রেখে আমরা অলরেডি স্মার্ট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি এবং এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আরও অনেকগুলো বিষয় গোপন রেখেছি যা কিছুদিনের মধ্যে হয়তো উদ্ভোদন করবো।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনুকূল-প্রতিকূল পরিস্থিতি পার হয়ে শিক্ষা গবেষণা সংস্কৃতি ক্রীড়াঙ্গণে অর্জন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে চলার ছোঁয়া অব্যাহত আছে। শৈশব থেকে কৈশোর পার হয়ে যৌবনে পা রাখছে বিশ্ববিদ্যালয়। পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয় মানে বার্ধক্য না বরং নবযৌবন ফিরে পেয়েছি এবং বছর বছর টিকে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে সন্ধান, উন্মোচন, সৃজন ও বিতরণ। ৪৫ বর্ষে পদার্পণ করা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকে কী কী দেওয়া হয়েছে তা যদি বলতে যাই তাহলে আমরা কতটুকু অনুসন্ধান ও উন্মোচন করেছি, কতজন সৃজন করতে পেরেছি, কতটুকু বিতরণ করতে পেরেছি এবং যারা রিসিভার তাদের কতটুকু উপকার আসতেছে এই বিশ্লেষণটা স্ব-স্ব স্টেকহোল্ডাররা করলে সেটাই হবে জন্মদিনের প্রকৃত উপলব্ধি।
তিনি আরও বলেন, পূর্ব ও পশ্চিমে যে অবকাঠামো নির্মাণাধীন কাজ চলছে আমি বিশ্বাস করি আগামী এক বা দু’বছরের মধ্যে ক্যাম্পাসের চেহেরা পাল্টে যাবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে দাবি থাকে তন্মধ্যে স্টুডেন্টস ই-পেমেন্ট কার্যক্রম চালু করেছি এবং অন্যান্য দাবিগুলোও পূরণ করেছি, করে যাব। আশাকরি খুব দ্রুত স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।






















