শিক্ষার্থীদের চাপ কমাতে বদলাচ্ছে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি
- আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৩১ বার পঠিত

দেশের দুটি বড় পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসির সময়কাল কমানো এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষাজনিত চাপ হ্রাসের লক্ষ্যে বিদ্যমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার মোট কর্মদিবস উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর একটি ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সম্প্রতি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে, যেখানে শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম ও মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেবেন। কর্মশালায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ থেকে ৩৫ বা তারও বেশি কর্মদিবস প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অন্যান্য শ্রেণির নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখনঘণ্টা কমে যায়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনা, খাতা মূল্যায়ন, ফল প্রকাশ ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় সেশনজটের আশঙ্কাও তৈরি হয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে পাঠদান কার্যক্রমের বাইরে থাকতে হওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে এসএসসি ও এইচএসসির বর্তমান বিষয় কাঠামো পর্যালোচনা, পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত করার কৌশল নির্ধারণ, ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই, ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ন্যূনতম কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া উচিত তা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে কোন কোন বিষয় একীভূত করা সম্ভব, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্বিন্যাস, প্রশ্নপত্রের কাঠামো, ব্যবহারিক মূল্যায়নের আধুনিকায়ন এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও আলোচনা হবে। প্রস্তাবিত কর্মশালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ, এনসিটিবির প্রতিনিধি, অভিজ্ঞ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ প্রায় ৯০ জন অংশীজন এতে যুক্ত থাকবেন। বিশেষজ্ঞ প্যানেলে থাকবেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ এবং অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম-এর মতো শিক্ষাবিদরা। কর্মশালায় ছয়টি পৃথক দল কাজ করবে। তারা কোন বিষয়গুলো একীভূত করা যায়, ন্যূনতম কতটি বিষয়ে সামষ্টিক পরীক্ষা হওয়া উচিত, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সামঞ্জস্য এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা আধুনিকায়নের বিষয়ে সুপারিশ দেবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষে একটি চূড়ান্ত সুপারিশমালা তৈরি করা হবে, যেখানে পুনর্বিন্যাসকৃত বিষয় কাঠামো, সম্ভাব্য বিষয়সংখ্যা, পরীক্ষার মোট সময়কাল এবং গ্রেডিং ও সনদ প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত রূপরেখা থাকবে। এনসিটিবির মতে, এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে পাবলিক পরীক্ষার সময়কাল কমবে এবং শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পাঠদান আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এনসিটিবি, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়সংখ্যা ও পরীক্ষার কর্মদিবস কমানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর জানান, বর্তমানে সংস্থার অধিকাংশ কর্মকর্তা আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই সংশোধন ও হালনাগাদের কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।






















