ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভাও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান  Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সভা Logo বড়ইয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ Logo পবিত্র ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে মাছিয়াতা দরবার শরীফে তিনশতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী মহা সম্মেলন ও ৫৬ তম ওরশ মাহফিল সম্পন্ন Logo শালিস-থানা-এমপি মানল না’—গালুয়া বাজারে জমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo আওয়ারাপন ২ বক্স অফিস: ২০০ কোটির দোরগোড়ায় ইমরান হাশমির সিনেমা Logo অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ও সাদা বলের সিরিজ Logo অসহায় ৯০ বছরের জারিনার পাশে জেলা প্রশাসন, নির্মাণ করে দেয়া হবে নতুন ঘর Logo কেরালার নাম বদলে ‘কেরালম’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভাও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান 

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৭৭ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জিয়া থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন দিক, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
শনিবার ২৯ আগস্ট বিকেল ৪ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এম পি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। প্রধান আলোচক ছিলেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অফ নিউজ শরিফুল ইসলাম খান, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান মোল্লা
 কচি, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাদ, স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আহাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আরেফিন। আরও বক্তব্যে রাখেন,  সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ক্বারী মাহিনুর হালমি।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের আন্দোলন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরেন। তাই তাদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা যা কিছু করেছে, সবকিছুই আমাদের নজরে আছে।
সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান
প্রধান আলোচক নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক চর্চায় তার অবদান রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শরিফুল ইসলাম খান বলেন, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহস, সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
উদ্বোধনী বক্তব্যে আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমান-বিএনপির নেতৃত্বে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অসঙ্গতি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভয়, চাপ কিংবা হয়রানি ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।
স্বাগত বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম আহাদ
স্বাগত বক্তব্যে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আহাদ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আজকের এই আলোচনা সভার মাধ্যমে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের পেশাগত ঐক্য ও সৌহার্দ্য আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্যের আহ্বান
আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকলেও পেশাগত স্বার্থে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশে কাজের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
নির্যাতিত নেতাদের সম্মাননা
আলোচনা সভা শেষে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কাচি, পনিক চৌধুরী, মুখলেদুর রহমান, জয় হোসেন, জাবু আবদুল্লাহ এবং অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক শরিফুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথি, সাংবাদিক ও উপস্থিত সুধীজনদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভাও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান 

আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জিয়া থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান-গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন দিক, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
শনিবার ২৯ আগস্ট বিকেল ৪ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এম পি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। প্রধান আলোচক ছিলেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অফ নিউজ শরিফুল ইসলাম খান, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান মোল্লা
 কচি, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহাদ, স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আহাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আরেফিন। আরও বক্তব্যে রাখেন,  সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ক্বারী মাহিনুর হালমি।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের আন্দোলন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরেন। তাই তাদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা যা কিছু করেছে, সবকিছুই আমাদের নজরে আছে।
সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান
প্রধান আলোচক নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক চর্চায় তার অবদান রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শরিফুল ইসলাম খান বলেন, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহস, সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
উদ্বোধনী বক্তব্যে আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমান-বিএনপির নেতৃত্বে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অসঙ্গতি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভয়, চাপ কিংবা হয়রানি ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।
স্বাগত বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম আহাদ
স্বাগত বক্তব্যে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আহাদ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আজকের এই আলোচনা সভার মাধ্যমে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের পেশাগত ঐক্য ও সৌহার্দ্য আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্যের আহ্বান
আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকলেও পেশাগত স্বার্থে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশে কাজের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
নির্যাতিত নেতাদের সম্মাননা
আলোচনা সভা শেষে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কাচি, পনিক চৌধুরী, মুখলেদুর রহমান, জয় হোসেন, জাবু আবদুল্লাহ এবং অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক শরিফুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথি, সাংবাদিক ও উপস্থিত সুধীজনদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।