ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরান পেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা Logo মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন, বাজারমূল্যে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে ইরান Logo ৫-৭ খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত Logo  জলাশয় ও  শিশু সুরক্ষায় সাত দফা প্রস্তাবনা প্রকাশ করল সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’ Logo রাজাপুরে খালের জরাজীর্ণ ব্রিজের লোহার বিম নড়বড়ে; বাঁশ-সুপারী গাছ দিয়ে চলছে পারাপার Logo নীলফামারীর ডিমলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন  Logo গাজীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের ৩০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার Logo কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা, চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচিত শিপ্রা রানী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন 

মাঘের আগেই হাড়কাঁপানো শীত: করুণ অবস্থায় ছিন্নমূল মানুষ-প্রাণীকূল !

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৪ ২২৮ বার পঠিত

আয়েশা আক্তার :

মাঘের আগেই হাড়কাঁপনো শীতে সারাদেশসহ কাঁপছে রাজধানীও। প্রতিদিনই হ্রাস পাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও কোথাও তো সূর্য্যরে দেখাই মিলছে না। এমনকি রাজধানীতে একদিনেই তাপমাত্রা কমেছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায়সময়ই কুয়াশার চাদরে ঢাকা সকাল দেখছে দেশবাসী। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি। প্রচন্ড ঠান্ডায় কষ্টে দিন পার করছে ছিন্নমূল মানুষ আর পথে পথে ঘুরাফেরা করা প্রাণীকূল। যখন আমরা ঘরে বসেও ঠান্ডায় টিকে থাকতে পারছি না, সেসময় এই মানুষগুলো আর প্রাণীরা সামন্য উষ্ণতা খুঁজতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরু কোনো অলি-গলির ভেতরে যেখানে একটু কম বাতাসই বইছে। তাদের অবস্থা একেবারেই করুণ। শীতবস্ত্র বা গরম কাপড়ের অভাবে প্রান্তিক জনপদে শীতার্ত মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। আবার ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাঘাত ঘটছে যান চলাচলে। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণও।

আবহাওয়াবিদগণ জানান, পৌষের শেষে যেমন শীত অনুভূত হচ্ছে, মাঘের শুরুতেও তা থাকতে পারে। তবে এ সময় রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঘন কুয়াশাও থাকবে সপ্তাহ জুড়ে। শক্তিশালী পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি দেশব্যাপী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এ মাসে দেশে এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছী ও চুয়াডাঙ্গায়। আর ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি। বড় এলাকা জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও। বুধবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মঙ্গলবার ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাটগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানচলাচল করতে দেখা গেছে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। কুয়াশার কারণে সূর্যের আলোর তীব্রতা চরাচরে না পড়ায় শীতের কনকনে অনুভূতি বাড়ছে।

এ কয়েকদিন বিভিন্ন জেলায় ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যালোক দেখতে না পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নৌযান চলাচল প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের সব বড় নদনদীতে ভারী কুয়াশার আস্তর থাকবে। রাতে দূরপাল্লার বাস-ট্রাকসহ সব পরিবহন চলাচলে গতিসীমা সীমিত করতে হবে। দেশের সব বড় বড় নদনদীর নৌপথের দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।

এ দিকে কনকনে শীতে সর্দি, কাশি ও হাপানিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের।

মাঘের আগেই হাড়কাঁপানো শীত: করুণ অবস্থায় ছিন্নমূল মানুষ-প্রাণীকূল !

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৪

আয়েশা আক্তার :

মাঘের আগেই হাড়কাঁপনো শীতে সারাদেশসহ কাঁপছে রাজধানীও। প্রতিদিনই হ্রাস পাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও কোথাও তো সূর্য্যরে দেখাই মিলছে না। এমনকি রাজধানীতে একদিনেই তাপমাত্রা কমেছে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায়সময়ই কুয়াশার চাদরে ঢাকা সকাল দেখছে দেশবাসী। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি। প্রচন্ড ঠান্ডায় কষ্টে দিন পার করছে ছিন্নমূল মানুষ আর পথে পথে ঘুরাফেরা করা প্রাণীকূল। যখন আমরা ঘরে বসেও ঠান্ডায় টিকে থাকতে পারছি না, সেসময় এই মানুষগুলো আর প্রাণীরা সামন্য উষ্ণতা খুঁজতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরু কোনো অলি-গলির ভেতরে যেখানে একটু কম বাতাসই বইছে। তাদের অবস্থা একেবারেই করুণ। শীতবস্ত্র বা গরম কাপড়ের অভাবে প্রান্তিক জনপদে শীতার্ত মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। আবার ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাঘাত ঘটছে যান চলাচলে। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণও।

আবহাওয়াবিদগণ জানান, পৌষের শেষে যেমন শীত অনুভূত হচ্ছে, মাঘের শুরুতেও তা থাকতে পারে। তবে এ সময় রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঘন কুয়াশাও থাকবে সপ্তাহ জুড়ে। শক্তিশালী পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি দেশব্যাপী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এ মাসে দেশে এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছী ও চুয়াডাঙ্গায়। আর ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি। বড় এলাকা জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও। বুধবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মঙ্গলবার ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাটগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানচলাচল করতে দেখা গেছে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠাণ্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। কুয়াশার কারণে সূর্যের আলোর তীব্রতা চরাচরে না পড়ায় শীতের কনকনে অনুভূতি বাড়ছে।

এ কয়েকদিন বিভিন্ন জেলায় ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যালোক দেখতে না পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নৌযান চলাচল প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের সব বড় নদনদীতে ভারী কুয়াশার আস্তর থাকবে। রাতে দূরপাল্লার বাস-ট্রাকসহ সব পরিবহন চলাচলে গতিসীমা সীমিত করতে হবে। দেশের সব বড় বড় নদনদীর নৌপথের দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।

এ দিকে কনকনে শীতে সর্দি, কাশি ও হাপানিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের।