ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাঁধ মেরামতের অর্থে ম্যুরাল নির্মাণের অভিযোগ পাউবোর প্রকৌশলী প্রবীরের বিরুদ্ধে Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় বন্দুক হামলা, নিহত ১৭ Logo নতুন বুটে ইনজুরিতে পড়তে পারেন এমবাপ্পে, আগেই সতর্ক করেছিলেন ফিজিও Logo অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে: সাদিয়া আয়মান Logo চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, মামলা করলে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ফেসবুক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী মিথ্যাচার চালাচ্ছে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূর সাড়ে-৯ ভরি স্বর্ণ আত্মসাত-২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদনের অভিযোগ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতির মিথ্যা মামলায় এক যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে এক মায়ের আকুতি Logo এশিয়ান গেমসের ব্যাডমিন্টনে বাংলাদেশের ইতিহাস, শেষ ষোলোতে গৌরব-আয়মান Logo ডাবল গ্র্যামি জয়ী কণ্ঠশিল্পী ক্যাসান্দ্রা উইলসন মারা গেছেন

জ্ঞানচর্চার আধার সবিতা চক্রবর্ত্তী স্মৃতি গ্রন্থাগার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪ ২৬০ বার পঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার বালুভরা গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৮৬৬ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন স্বর্গীয় শশীভূষণ চক্রবর্ত্তী। শিক্ষা জীবনে গ্রাজুয়েশনসহ কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঊর্ধ্বে থেকে সকলকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করায় ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

যখন এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কোন বিদ্যাপীঠ ছিল না। শিক্ষিত লোকজনও ছিল হাতেগোনা। ঠিক সে সময় বালুভরা নিজ গ্রামে শশীভূষণ চক্রবর্ত্তী একক চেষ্টায় গড়ে তুলেন ‘বালুভরা রাজেন্দ্র-ব্রজকিশোরী (আর,বি) উচ্চ বিদ্যালয়’। ১৯০৭ সালে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শশীভূষণ নিজে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে বিনা পয়সায় শুরু করেন পাঠ দান (১৯০৭-১৯৪৫)। এর আগে তিনি বর্তমান জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরে ১৯০৪ সালে অনুরুপ আরেকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন “সোনামুখী উচ্চ বিদ্যালয়”। সেখানে আজও তাঁর চেয়ার সংরক্ষিত আছে। কেবল পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা দেয়া বিদ্যালয়টি এক পর্যায়ে ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। সত্যিকারের আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা রাজেন্দ্র-ব্রজকিশোরী (আর.বি) বিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে চালু হয়েছে ইন্টারমিডিয়েট কোর্স।

বর্তমানে শশীভূষণ চক্রবর্ত্তীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘শশীভূষণ মেধাবৃত্তি’ প্রদান করে থাকে। অপরদিকে শশুর শশীভূষণ চক্রবর্ত্তীর মতো সবিতা চক্রবর্ত্তীও বৃহত্তর বালুভরা অঞ্চলে শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন, সে জন্য এলাকার মানুয় এই বিদুষী নারীকে স্মরণ করেন। আর সেই জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বালুভরাবাসীর দাবি ও আগ্রহেই এ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিটির ‘সবিতা চক্রবর্ত্তী স্মৃতি গ্রন্থাগার’ নামকরণ হয়। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল জ্ঞানদানে একটি সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব করা হয়েছে এখানে।

গ্রামীণ জনপদের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার চোখে পড়ে না। মফস্বলের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গ্রন্থাগার বিরল। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক জ্ঞানপিপাসু মানুষ ও শিক্ষার্থী গ্রন্থাগার দর্শণে আসে। যেখানে একাডেমিক বই ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের ছবি টানানো আছে। এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর প্রচেষ্টায় প্রায় ৬হাজার বই ও দেশ-বিদেশের সাত শত ৫০টি বিখ্যাত ব্যক্তির ছবি সন্বলিত দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরি, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে টাঙানো রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বছরের বয়সের ছবি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত। টাঙানো রয়েছে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলের ছবিও। তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনেও ছবিগুলো সংগ্রহ করেছেন শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ভালোবেসে। পাশাপাশি নিজ বিদ্যালয়টির উন্নয়ন, জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন শশীভূষণের নাতি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, উন্নয়ন সহযোগী ও সাবেক সিনিয়র সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী (সৌরেন)। তাঁরই প্রচেষ্টায় কেবলমাত্র বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে তাই নয়, এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ব্রিজ কালভার্ট, বিদ্যু সংযোগ, তাদের জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিক, ঈদগাহ, কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দিরসহ অনেক কাজও করেছেন।

এই গ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মাসুদা আক্তার জানালেন, সপ্তাহে ৫ দিন প্রতিদিন ১টি করে ৫টি ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ক্লাস রুটিনে। ছাত্রছাত্রীদের গ্রন্থাগারে এসে বই পড়ার আগ্রহ বেশ। তাই রুটিন মাফিক ক্লাসে এসে তারা তাদের চাহিদামত বই নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী উপমা রাণী মহন্ত, ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী সানজিদা আক্তার উর্মি, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সিমা আক্তার ও একই শ্রেণীর ছাত্র মিরাজ দৌলা, ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী বৃষ্টি আক্তার ও একই শ্রেণীর নূসরাত জাহান বলেন, শিক্ষকরা আমাদের ভালোবেসে পড়ান। পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সবসময় শিক্ষকরা বলে থাকেন। গ্রন্থাগার ও নতুন নতুন বিল্ডিং পেয়ে খুশি তারা।
বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জানালেন, আমি ১৯৯০ সালে এখানে যোগদান করি, তখন মাটির তিনটি ঘরে চলতো শিক্ষা কার্যক্রম। এই বিদ্যালয়ের যতো উন্নয়ন দেখছেন এর সবকিছুর মূলে সাবেক সচিব স্যার। এরকম একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেকে গর্বিত বোধ করছি। তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৪৭৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদ্যালয়ের পাশের হারও অনেক ভালো। এই প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন তাদের সম্পত্তি আছে যেখানে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিবেন তিনি।
বালুভরা রাজেন্দ্র-ব্রজকিশোরী (আর.বি) উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোত্তালেব হোসেন জানান, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বর্গীয় শশীভূষণের অবদানের কথা ভূলার না। তিনি শত বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর তাঁর দেখানো পথেই এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সফলতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী (সৌরেন)। তিনি বলেন, ১১৬ বছর বয়সের প্রাচীন এই বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এছাড়া জ্ঞান অর্জনে বই পড়ার পাশাপাশি এই বিদ্যলয়ের “সবিতা চক্রবর্ত্তী” লাইব্রেরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী সৌরেন নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহদেবপুর) আসনে এবার নৌকা প্রতীকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন। আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা তাঁকে দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই সৌরেন্দ্র নাথ ক্লিন ইমেজের হওয়ায় ব্যাপক ভালোবাসা ও সাড়া পাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। ফলে হতে চলেছেন সাবেক সরকারী কর্মকর্তা থেকে জনপ্রতিনিধি। ফলে জনগণের পাশে থেকে আরও উন্নয়ন করতে পারবেন বলে এলাকাবাসীর আশা।

প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র সচিব এবং নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী (সৌরেন) বলেন, প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়ে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি বিজয়ী হয়ে সেই দায়িত্বের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করবো। পাশাপাশি তাঁর নির্দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো।

বিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ের পিছনে আমাদের জমি আছে, সেখানে অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও আবাসনের ব্যবস্থা করার ইচ্ছে আছে। এছাড়া আমার মায়ের নামে (সবিতা চক্রবর্ত্তী) একটা ফাউন্ডেশন খুলবো। যেখান থেকে অসহায়-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশুনার ব্যবস্থাসহ নানাবিধ সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। এবং যেসকল শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমার পূর্বপুরুষ থেকেই এলাকার মানুষের কল্যাণমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই চেতনা এবং সামাজিক দায়বোধ থেকেই আমার এলাকা এবং এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সবসময় কিছু করার চেষ্টা করে যাবো।

জ্ঞানচর্চার আধার সবিতা চক্রবর্ত্তী স্মৃতি গ্রন্থাগার

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার বালুভরা গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৮৬৬ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন স্বর্গীয় শশীভূষণ চক্রবর্ত্তী। শিক্ষা জীবনে গ্রাজুয়েশনসহ কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঊর্ধ্বে থেকে সকলকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করায় ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

যখন এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কোন বিদ্যাপীঠ ছিল না। শিক্ষিত লোকজনও ছিল হাতেগোনা। ঠিক সে সময় বালুভরা নিজ গ্রামে শশীভূষণ চক্রবর্ত্তী একক চেষ্টায় গড়ে তুলেন ‘বালুভরা রাজেন্দ্র-ব্রজকিশোরী (আর,বি) উচ্চ বিদ্যালয়’। ১৯০৭ সালে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শশীভূষণ নিজে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে বিনা পয়সায় শুরু করেন পাঠ দান (১৯০৭-১৯৪৫)। এর আগে তিনি বর্তমান জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরে ১৯০৪ সালে অনুরুপ আরেকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন “সোনামুখী উচ্চ বিদ্যালয়”। সেখানে আজও তাঁর চেয়ার সংরক্ষিত আছে। কেবল পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা দেয়া বিদ্যালয়টি এক পর্যায়ে ১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। সত্যিকারের আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা রাজেন্দ্র-ব্রজকিশোরী (আর.বি) বিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে চালু হয়েছে ইন্টারমিডিয়েট কোর্স।

বর্তমানে শশীভূষণ চক্রবর্ত্তীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘শশীভূষণ মেধাবৃত্তি’ প্রদান করে থাকে। অপরদিকে শশুর শশীভূষণ চক্রবর্ত্তীর মতো সবিতা চক্রবর্ত্তীও বৃহত্তর বালুভরা অঞ্চলে শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন, সে জন্য এলাকার মানুয় এই বিদুষী নারীকে স্মরণ করেন। আর সেই জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বালুভরাবাসীর দাবি ও আগ্রহেই এ প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিটির ‘সবিতা চক্রবর্ত্তী স্মৃতি গ্রন্থাগার’ নামকরণ হয়। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল জ্ঞানদানে একটি সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব করা হয়েছে এখানে।

গ্রামীণ জনপদের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার চোখে পড়ে না। মফস্বলের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গ্রন্থাগার বিরল। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক জ্ঞানপিপাসু মানুষ ও শিক্ষার্থী গ্রন্থাগার দর্শণে আসে। যেখানে একাডেমিক বই ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের ছবি টানানো আছে। এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর প্রচেষ্টায় প্রায় ৬হাজার বই ও দেশ-বিদেশের সাত শত ৫০টি বিখ্যাত ব্যক্তির ছবি সন্বলিত দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরি, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে টাঙানো রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বছরের বয়সের ছবি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত। টাঙানো রয়েছে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলের ছবিও। তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনেও ছবিগুলো সংগ্রহ করেছেন শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ভালোবেসে। পাশাপাশি নিজ বিদ্যালয়টির উন্নয়ন, জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন শশীভূষণের নাতি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, উন্নয়ন সহযোগী ও সাবেক সিনিয়র সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী (সৌরেন)। তাঁরই প্রচেষ্টায় কেবলমাত্র বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে তাই নয়, এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ব্রিজ কালভার্ট, বিদ্যু সংযোগ, তাদের জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিক, ঈদগাহ, কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দিরসহ অনেক কাজও করেছেন।

এই গ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মাসুদা আক্তার জানালেন, সপ্তাহে ৫ দিন প্রতিদিন ১টি করে ৫টি ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ক্লাস রুটিনে। ছাত্রছাত্রীদের গ্রন্থাগারে এসে বই পড়ার আগ্রহ বেশ। তাই রুটিন মাফিক ক্লাসে এসে তারা তাদের চাহিদামত বই নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে।

ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী উপমা রাণী মহন্ত, ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী সানজিদা আক্তার উর্মি, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সিমা আক্তার ও একই শ্রেণীর ছাত্র মিরাজ দৌলা, ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী বৃষ্টি আক্তার ও একই শ্রেণীর নূসরাত জাহান বলেন, শিক্ষকরা আমাদের ভালোবেসে পড়ান। পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সবসময় শিক্ষকরা বলে থাকেন। গ্রন্থাগার ও নতুন নতুন বিল্ডিং পেয়ে খুশি তারা।
বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জানালেন, আমি ১৯৯০ সালে এখানে যোগদান করি, তখন মাটির তিনটি ঘরে চলতো শিক্ষা কার্যক্রম। এই বিদ্যালয়ের যতো উন্নয়ন দেখছেন এর সবকিছুর মূলে সাবেক সচিব স্যার। এরকম একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেকে গর্বিত বোধ করছি। তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৪৭৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদ্যালয়ের পাশের হারও অনেক ভালো। এই প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন তাদের সম্পত্তি আছে যেখানে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিবেন তিনি।
বালুভরা রাজেন্দ্র-ব্রজকিশোরী (আর.বি) উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোত্তালেব হোসেন জানান, এই প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বর্গীয় শশীভূষণের অবদানের কথা ভূলার না। তিনি শত বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর তাঁর দেখানো পথেই এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সফলতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী (সৌরেন)। তিনি বলেন, ১১৬ বছর বয়সের প্রাচীন এই বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এছাড়া জ্ঞান অর্জনে বই পড়ার পাশাপাশি এই বিদ্যলয়ের “সবিতা চক্রবর্ত্তী” লাইব্রেরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী সৌরেন নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহদেবপুর) আসনে এবার নৌকা প্রতীকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন। আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা তাঁকে দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই সৌরেন্দ্র নাথ ক্লিন ইমেজের হওয়ায় ব্যাপক ভালোবাসা ও সাড়া পাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। ফলে হতে চলেছেন সাবেক সরকারী কর্মকর্তা থেকে জনপ্রতিনিধি। ফলে জনগণের পাশে থেকে আরও উন্নয়ন করতে পারবেন বলে এলাকাবাসীর আশা।

প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র সচিব এবং নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী (সৌরেন) বলেন, প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়ে যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমি বিজয়ী হয়ে সেই দায়িত্বের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করবো। পাশাপাশি তাঁর নির্দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো।

বিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ের পিছনে আমাদের জমি আছে, সেখানে অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও আবাসনের ব্যবস্থা করার ইচ্ছে আছে। এছাড়া আমার মায়ের নামে (সবিতা চক্রবর্ত্তী) একটা ফাউন্ডেশন খুলবো। যেখান থেকে অসহায়-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশুনার ব্যবস্থাসহ নানাবিধ সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। এবং যেসকল শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমার পূর্বপুরুষ থেকেই এলাকার মানুষের কল্যাণমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই চেতনা এবং সামাজিক দায়বোধ থেকেই আমার এলাকা এবং এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সবসময় কিছু করার চেষ্টা করে যাবো।