ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

আবারও ৬ জনকে বহিষ্কার করলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩ ৪৫৭ বার পঠিত

ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেডিক্যাল সেন্টার ভাঙচুর ও নবীন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় তিনজনকে স্থায়ী এবং অপর তিনজনকে এক বছর জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষার্থীরা হলেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মিজানুর ইমন, শুভ এবং আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেজোয়ান সিদ্দিকী কাব্য। অপরদিকে তিনজন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আকিব, সাকিব ও পুলককে এক বছর জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন, আইন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান সহ ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাশেষে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে মিজানুর ইমন ও শুভর অধিকতর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় বলে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং বাকী তিনজন আকিব, পুলক ও সাকিবের সংশ্লিষ্টতা কম থাকায় তাদের এক বছর করে বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়াও গত ১০ জুলাই মেডিক্যাল ভাংচুরের ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেজোয়ান সিদ্দিক কাব্যের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সাথে থাকা অন্য দুই শিক্ষার্থী সালমান আজিজ, আতিক আরমান কাব্যের সঙ্গে থাকলেও সরাসরি সংশ্লিষ্ট না থাকায় তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে সর্বক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন বলেন, অভিযোগ গুলো প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের এই শাস্তি গুলো দেয়া হয়েছে।

র‌্যাগিংয়ে শিকার শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমান বলেন, আমি মনে করি প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এগ্রেসিভ ভাবে আমাকে র‌্যাগ দিয়েছিল। তাই আমি মনে করি সঠিক সিদ্ধান্তই হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম আমার সাথেই যা হয়েছে আর কেউ যেনো এর শিকার না হয় তাই আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এই সময়টাতে পরিবার আমার পাশে ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া পরিবেশ থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা সহাবস্থানে একে অপরের সহযোগিতা করবেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা শিক্ষাবান্ধব এবং র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি।

এর পূর্বে, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর র‌্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দেয় ঐ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ঘটনা তদন্তে ১০ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন প্রফেসর সাইফুল ইসলাম।

আবারও ৬ জনকে বহিষ্কার করলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩

ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেডিক্যাল সেন্টার ভাঙচুর ও নবীন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় তিনজনকে স্থায়ী এবং অপর তিনজনকে এক বছর জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষার্থীরা হলেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মিজানুর ইমন, শুভ এবং আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেজোয়ান সিদ্দিকী কাব্য। অপরদিকে তিনজন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আকিব, সাকিব ও পুলককে এক বছর জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন, আইন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান সহ ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাশেষে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে মিজানুর ইমন ও শুভর অধিকতর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় বলে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং বাকী তিনজন আকিব, পুলক ও সাকিবের সংশ্লিষ্টতা কম থাকায় তাদের এক বছর করে বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়াও গত ১০ জুলাই মেডিক্যাল ভাংচুরের ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেজোয়ান সিদ্দিক কাব্যের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সাথে থাকা অন্য দুই শিক্ষার্থী সালমান আজিজ, আতিক আরমান কাব্যের সঙ্গে থাকলেও সরাসরি সংশ্লিষ্ট না থাকায় তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে সর্বক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন বলেন, অভিযোগ গুলো প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের এই শাস্তি গুলো দেয়া হয়েছে।

র‌্যাগিংয়ে শিকার শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমান বলেন, আমি মনে করি প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এগ্রেসিভ ভাবে আমাকে র‌্যাগ দিয়েছিল। তাই আমি মনে করি সঠিক সিদ্ধান্তই হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম আমার সাথেই যা হয়েছে আর কেউ যেনো এর শিকার না হয় তাই আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এই সময়টাতে পরিবার আমার পাশে ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া পরিবেশ থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা সহাবস্থানে একে অপরের সহযোগিতা করবেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা শিক্ষাবান্ধব এবং র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি।

এর পূর্বে, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর র‌্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দেয় ঐ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ঘটনা তদন্তে ১০ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন প্রফেসর সাইফুল ইসলাম।