ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৮ বার পঠিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। ৫০ শয্যার এই ওয়ার্ডে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ১৩০ জন। জায়গার সংকটে ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে। ফলে কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ২৪ শয্যা নিয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। তবে বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি ১৩০ রোগীর মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১০ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ জন।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আজ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১৩ জন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খেলন সরকার (৬৫) নামের এক নারী মারা যান। তিনি ময়মনসিংহ নগরের রামবাবু রোড এলাকার বাসিন্দা। গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন গৌরীপুরের নপই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে বিল্লাল (২৫)। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মা শিরিনা আক্তারকে মেঝেতে মাদুর পেতে ছেলের মাথায় জলপট্টি দিতে দেখা যায়।

শিরিনা আক্তার বলেন, ১০-১২ দিন জ্বর থাকার পর পরীক্ষায় ছেলের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে এই টাকা জোগাড় করতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ নগরের গোহাইলকান্দি এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (২২) একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। গতকাল বুধবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বারান্দার মেঝেতে ছেলের পাশে ছিলেন তার বাবা ইমামুল ইসলাম।

ইমামুল ইসলাম বলেন, প্রথমে চারদিন জ্বর, বমিভাব ও শরীরব্যথা ছিল। বাড়িতে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর পরও দুর্বলতা বাড়লে হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে তার ছেলের প্লাটিলেট ৬৬ হাজারে নেমে গেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ শহর থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন। আশপাশের জেলা-উপজেলা ও গ্রাম থেকেও রোগী আসছেন। বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা রয়েছে। কারও কারও পাতলা পায়খানা, বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও খাবারে অরুচি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও জায়গার মধ্যে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আতঙ্কে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের একটি অংশ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন।

ট্যাগস :

৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। ৫০ শয্যার এই ওয়ার্ডে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ১৩০ জন। জায়গার সংকটে ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে। ফলে কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ২৪ শয্যা নিয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। তবে বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি ১৩০ রোগীর মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১০ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ জন।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আজ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১৩ জন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খেলন সরকার (৬৫) নামের এক নারী মারা যান। তিনি ময়মনসিংহ নগরের রামবাবু রোড এলাকার বাসিন্দা। গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন গৌরীপুরের নপই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে বিল্লাল (২৫)। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মা শিরিনা আক্তারকে মেঝেতে মাদুর পেতে ছেলের মাথায় জলপট্টি দিতে দেখা যায়।

শিরিনা আক্তার বলেন, ১০-১২ দিন জ্বর থাকার পর পরীক্ষায় ছেলের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে এই টাকা জোগাড় করতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ নগরের গোহাইলকান্দি এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (২২) একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। গতকাল বুধবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বারান্দার মেঝেতে ছেলের পাশে ছিলেন তার বাবা ইমামুল ইসলাম।

ইমামুল ইসলাম বলেন, প্রথমে চারদিন জ্বর, বমিভাব ও শরীরব্যথা ছিল। বাড়িতে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর পরও দুর্বলতা বাড়লে হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে তার ছেলের প্লাটিলেট ৬৬ হাজারে নেমে গেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ শহর থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন। আশপাশের জেলা-উপজেলা ও গ্রাম থেকেও রোগী আসছেন। বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা রয়েছে। কারও কারও পাতলা পায়খানা, বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও খাবারে অরুচি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও জায়গার মধ্যে নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আতঙ্কে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের একটি অংশ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন।