অসহায় ৯০ বছরের জারিনার পাশে জেলা প্রশাসন, নির্মাণ করে দেয়া হবে নতুন ঘর
- আপডেট সময় : ০৩:০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি:
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একাকিত্ব আর অসহায়ত্বকে সঙ্গী করে দিন কাটছিল ৯০ বছর বয়সী জারিনা আক্তারের। দৃষ্টিহীন এই বৃদ্ধার রয়েছে সাত মেয়ে। তবে বার্ধক্য ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যের সহযোগিতায় দিন কাটছিল তাঁর। থাকার মতো ভালো ঘরও ছিল না।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অসহায় এই বৃদ্ধার দুর্দশার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের নজরে আসে। বিষয়টি তাঁদের নজরে আসার পর জারিনার পাশে দাঁড়ায় গাজীপুর জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার নির্দেশনায় তাঁর জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় টিন, বিছানা, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন সরেজমিনে জারিনার বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধার হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাপনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
জারিনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাত মেয়ে থাকলেও জীবনের শেষ বয়সে এসে তিনি অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছেন। দৃষ্টিশক্তি হারানোয় নিজের দৈনন্দিন কাজও ঠিকভাবে করতে পারেন না। ফলে অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তাঁর জীবন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, জারিনার অসহায়ত্বের বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় দ্রুত তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি নিরাপদ ঘরের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনের বিষয়টিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু একটি ঘর নির্মাণ করেই দায়িত্ব শেষ করা হবে না। জারিনার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও নজর রাখা হবে। নতুন ঘর ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জারিনা।
সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
























