ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে: অপটার সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী, কারা উঠবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে?
- আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ২৬ বার পঠিত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াইকে শেষ আটের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নরওয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ম্যাচটিকে করে তুলেছে অনিশ্চয়তায় ভরা।
পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকেই সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, থ্রি লায়ন্সদের জয়ের সম্ভাবনা ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ, আর নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অপটা ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনার তুলনায় ইংল্যান্ডকে তুলনামূলক কম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
নরওয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অংশ। প্রথমবারের মতো তারা কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা স্টালে সলবাকেনের দল এখন বড় চমকের স্বপ্ন দেখছে। পাঁচ ম্যাচে তাদের একমাত্র হার এসেছে গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যেখানে বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর প্রমাণিত হয়, কারণ আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করে নরওয়ে।
চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিটি ম্যাচেই দুই দলই গোল করেছে। এখন পর্যন্ত তারা ১২টি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে ৯টি। ফলে আক্রমণভাগ যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৫৪ সালের পশ্চিম জার্মানির পর প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের পথে ১০টির বেশি গোল করার পাশাপাশি ১০টির কাছাকাছি গোল হজমের নজির গড়েছে তারা।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল উত্থান-পতনে ভরা। কখনও তারা আধিপত্য দেখিয়েছে, আবার কিছু ম্যাচে সমালোচনার মুখেও পড়েছে। তবে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেই ম্যাচে থমাস টুখেলের শিষ্যরা কঠিন পরিস্থিতি সামলে জয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে।
ইংল্যান্ড এবার ১১তম বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে। ব্রাজিল ও জার্মানি ছাড়া আর কোনো দল এতবার শেষ আটে উঠতে পারেনি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের অতীত পরিসংখ্যান খুব বেশি স্বস্তিদায়ক নয়। আগের ১০টি কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছে তারা।
আজকের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের দিকে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি এবং মোট সাতটি গোল নিয়ে আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়। মাত্র ১৮টি শট থেকেই এসেছে এই সাত গোল। আজ গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার বিরল কীর্তিতে নিজের নাম লেখাবেন হালান্ড।
শুধু গোলসংখ্যাই নয়, হালান্ডের গোলগুলোর গুরুত্বও অসাধারণ। তার সাত গোলের মধ্যে চারটিই এসেছে ম্যাচজয়ী হিসেবে। নরওয়ের জার্সিতে তার পরিসংখ্যান আরও বিস্ময়কর—মাত্র ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করে এই সময়ে তিনি করেছেন ২৭টি গোল।
হালান্ডকে থামানোর কঠিন দায়িত্ব থাকবে ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের ওপর। তবে ক্লাব ফুটবলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পিকফোর্ডের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। প্রিমিয়ার লিগে হালান্ডের নেওয়া ১০টি অন-টার্গেট শটের মধ্যে সাতটিই জালে জড়িয়েছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি হালান্ডের ঠিক পেছনেই রয়েছেন, তার গোল সংখ্যা ছয়। আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে কেইনের ধারাবাহিকতাও দারুণ। ১২টি নকআউট ম্যাচে তিনি করেছেন ১১টি গোল।
মিডফিল্ডে ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসা জুড বেলিংহ্যামও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার। এক আসরে কোনো ইংলিশ মিডফিল্ডারের এত গোল করার নজির এর আগে নেই।
দুই দলে তারকার ছড়াছড়ি থাকলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্স। অতীত পরিসংখ্যানও কিছুটা ইংল্যান্ডের পক্ষেই। দুই দলের ১২টি মুখোমুখি লড়াইয়ে নরওয়ে জয় পেয়েছে মাত্র দুইবার। এছাড়া সর্বশেষ চার দেখায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো গোলও করতে পারেনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি।
সব দিক বিবেচনায় অপটার সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালের সম্ভাব্য দল হিসেবে এগিয়ে রাখলেও ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। তাই শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে হালান্ডের নরওয়ে।

























