ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন নাকচ Logo এসএসসির খাতা মূল্যায়নে ‘দুর্বলতা’, শিক্ষকদের জবাবদিহিতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo বাংলাদেশের বাজারে হাইফিউচার ব্রান্ডের ফ্লেক্সক্লিপ প্রিমিয়াম ক্লিপ ইয়ারবাডস Logo বাঁধ মেরামতের অর্থে ম্যুরাল নির্মাণের অভিযোগ পাউবোর প্রকৌশলী প্রবীরের বিরুদ্ধে Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় বন্দুক হামলা, নিহত ১৭ Logo নতুন বুটে ইনজুরিতে পড়তে পারেন এমবাপ্পে, আগেই সতর্ক করেছিলেন ফিজিও Logo অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে: সাদিয়া আয়মান Logo চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, মামলা করলে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ফেসবুক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী মিথ্যাচার চালাচ্ছে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূর সাড়ে-৯ ভরি স্বর্ণ আত্মসাত-২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদনের অভিযোগ

৫২তম আবর্তন পিছনে ফেলে ৫৩তম আবর্তন বরণে ব্যস্ত জাবি প্রশাসন, ক্লাস বর্জনের ডাক

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪ ৩০৮ বার পঠিত

ইউসূফ জামিল, জাবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) স্নাতক (সম্মান) (২০২৩-২০২৪) সেশন ৫৩তম ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রকাশিত হলেও এখনো ৫২তম আবর্তনের সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করতে ব্যর্থ প্রশাসন। তাই, অনলাইন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২-২৩ সেশনের ভর্তিপরীক্ষা ২০২৩ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পথ পাড়ি দিয়ে জাবি প্রশাসন তাদের অনলাইন ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা তাদের এতো অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত না পেয়ে প্রশাসনের প্রতি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গত ৩০ নভেম্বর অনলাইন মাধ্যমে শুরু হয় ৫২ ব্যাচের ক্লাস। পরবর্তীতে নতুন হল উদ্বোধনের পরে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জানুয়ারি অবধি ক্লাস শুরু করতে প্রশাসন ব্যর্থ।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এবার ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। মুলত, ৫২তম আবর্তনের অনলাইন কার্যক্রম শেষ না করে পরবর্তী ব্যাচের ভর্তি শুরু করায় ক্ষুব্ধ হয়েই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসন হয়নি বরং বিড়ম্বনা আরও বেড়েছে। অনিয়মিত ক্লাস, উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতাও দৃশ্যমান। একদিন রুটিনে ৩ ক্লাস থাকলে সেখানে ঠিকমতো ১-২ টা হয়। আবার অনেকসময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের রোল নিতে অনাগ্রহ পোষণ করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলছে।

এ বিষয়ে ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ভর্তি পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের আসার সুযোগ হয়নি। তার মধ্যেই বিভিন্ন বিভাগ অনলাইন ক্লাস, দিয়ে দিয়েছেন কোর্স বণ্ঠনও সাথে চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ জুড়ে দিয়েছেন। আমরা এখনও আমাদের ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে। অন্যদিকে ২০২৩-২০২৪ সেশনেরও ভর্তি পরীক্ষার তারিখ দিয়ে দিয়েছে। আর এইদিকে আমরা ভালোভাবে চিনিই না আমাদের বন্ধুদেরকে, আমাদের ক্যাম্পাসকে।’

৫২তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকরা ক্লাসে অনিয়মিত। রুটিনে ক্লাসের টাইম ১০ টায় থাকলে সেখানে শিক্ষকরা অনেক দেরি করে ক্লাসে আসেন এবং অর্ধেক ক্লাসের পর রোল না নিয়েই ক্লাস শেষ করে দেন।ফলে আমরা ক্লাস করার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছি; পড়াশোনার ধরণ বুঝে উঠতে পারছিনা। শুধু কোর্সের নাম শুনেছি কিন্তু বুকলিস্টও সব দেয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, ২২-২৩ ব্যাচের এখনো হল এলোটমেন্ট এবং অন্যান্য কিছু দাপ্তরিক কার্যক্রম বাকি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ জানান, নতুন হল গুলোতে যদি আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ করতে পারি তাহলে আশা রাখি আমরা শীঘ্রই হল চালু করতে পারবো। তবে সেটি এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
হল অ্যালটমেন্টের ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, হল অ্যালোর্টমেন্ট তো আসলে অফিসিয়ালি দেয়, রেজিস্টার অফিস থেকে দেয়। সেজন্য সব প্রোভোস্ট এবং রেজিস্ট্রার অফিস মিটিং করে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে কবে হল দেয়া হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটা এখন প্রসেসিং এর মধ্যেই আছে। জানুয়ারি মাসের আগামী এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের মধ্যে এই ব্যাপারে সকল সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। মিটিং ছাড়া একজ্যাক্টলি ডেট বলা যাবে না, তবে জানুয়ারির মধ্যেই ইনশাল্লাহ সবকিছু হয়ে যাবে এটুকু বলতে পারি।

৫২তম আবর্তন পিছনে ফেলে ৫৩তম আবর্তন বরণে ব্যস্ত জাবি প্রশাসন, ক্লাস বর্জনের ডাক

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

ইউসূফ জামিল, জাবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) স্নাতক (সম্মান) (২০২৩-২০২৪) সেশন ৫৩তম ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রকাশিত হলেও এখনো ৫২তম আবর্তনের সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করতে ব্যর্থ প্রশাসন। তাই, অনলাইন ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২-২৩ সেশনের ভর্তিপরীক্ষা ২০২৩ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পথ পাড়ি দিয়ে জাবি প্রশাসন তাদের অনলাইন ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা তাদের এতো অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত না পেয়ে প্রশাসনের প্রতি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গত ৩০ নভেম্বর অনলাইন মাধ্যমে শুরু হয় ৫২ ব্যাচের ক্লাস। পরবর্তীতে নতুন হল উদ্বোধনের পরে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জানুয়ারি অবধি ক্লাস শুরু করতে প্রশাসন ব্যর্থ।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এবার ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। মুলত, ৫২তম আবর্তনের অনলাইন কার্যক্রম শেষ না করে পরবর্তী ব্যাচের ভর্তি শুরু করায় ক্ষুব্ধ হয়েই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসন হয়নি বরং বিড়ম্বনা আরও বেড়েছে। অনিয়মিত ক্লাস, উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতাও দৃশ্যমান। একদিন রুটিনে ৩ ক্লাস থাকলে সেখানে ঠিকমতো ১-২ টা হয়। আবার অনেকসময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের রোল নিতে অনাগ্রহ পোষণ করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলছে।

এ বিষয়ে ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাইমুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ভর্তি পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের আসার সুযোগ হয়নি। তার মধ্যেই বিভিন্ন বিভাগ অনলাইন ক্লাস, দিয়ে দিয়েছেন কোর্স বণ্ঠনও সাথে চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ জুড়ে দিয়েছেন। আমরা এখনও আমাদের ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে। অন্যদিকে ২০২৩-২০২৪ সেশনেরও ভর্তি পরীক্ষার তারিখ দিয়ে দিয়েছে। আর এইদিকে আমরা ভালোভাবে চিনিই না আমাদের বন্ধুদেরকে, আমাদের ক্যাম্পাসকে।’

৫২তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকরা ক্লাসে অনিয়মিত। রুটিনে ক্লাসের টাইম ১০ টায় থাকলে সেখানে শিক্ষকরা অনেক দেরি করে ক্লাসে আসেন এবং অর্ধেক ক্লাসের পর রোল না নিয়েই ক্লাস শেষ করে দেন।ফলে আমরা ক্লাস করার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছি; পড়াশোনার ধরণ বুঝে উঠতে পারছিনা। শুধু কোর্সের নাম শুনেছি কিন্তু বুকলিস্টও সব দেয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, ২২-২৩ ব্যাচের এখনো হল এলোটমেন্ট এবং অন্যান্য কিছু দাপ্তরিক কার্যক্রম বাকি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ জানান, নতুন হল গুলোতে যদি আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ করতে পারি তাহলে আশা রাখি আমরা শীঘ্রই হল চালু করতে পারবো। তবে সেটি এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
হল অ্যালটমেন্টের ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, হল অ্যালোর্টমেন্ট তো আসলে অফিসিয়ালি দেয়, রেজিস্টার অফিস থেকে দেয়। সেজন্য সব প্রোভোস্ট এবং রেজিস্ট্রার অফিস মিটিং করে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে কবে হল দেয়া হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটা এখন প্রসেসিং এর মধ্যেই আছে। জানুয়ারি মাসের আগামী এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের মধ্যে এই ব্যাপারে সকল সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। মিটিং ছাড়া একজ্যাক্টলি ডেট বলা যাবে না, তবে জানুয়ারির মধ্যেই ইনশাল্লাহ সবকিছু হয়ে যাবে এটুকু বলতে পারি।