ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নলছিটিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ Logo বাবাকে হারানোর পর প্রথম গোল মেসির, ফিলাডেলফিয়ার সঙ্গে মায়ামির ড্র Logo ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম Logo বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিচ্ছে তুরস্ক, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের Logo ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্র সংঘর্ষে  আহত ৩৫ Logo আপনার লাশ বিলের পানিতে ভাসিয়ে দেবো’ -নওগাঁয় ভূমি কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি সেবাগ্রহীতার Logo নবীনগরে কুপ্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ, Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে বিষ প্রয়োগে ২০ লাখ টাকার মাছ নিধন, থানায় অভিযোগ Logo উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ‘ফরচুন গ্লোবাল ৫০০’-এ ২৩২তম শাওমি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্র সংঘর্ষে  আহত ৩৫

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৮০ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পণ্ড হয়ে যায় জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠান উপভোগ করে চলে যাওয়ার পরও সেখানে গানবাজনা চলছিল।
এ সময় উচ্চস্বরে গানবাজনায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এমন অভিযোগ তুলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। তখন মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুরো পুলিশ লাইন্স এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের পরীক্ষা রয়েছে। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে গানবাজনার কারণে পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। কিছু সময় শব্দ কম থাকলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গানবাজনা শুরু হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
এদিকে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাও সাজিদুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম তাৎক্ষণিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্র সংঘর্ষে  আহত ৩৫

আপডেট সময় : ০৯:০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পণ্ড হয়ে যায় জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠান উপভোগ করে চলে যাওয়ার পরও সেখানে গানবাজনা চলছিল।
এ সময় উচ্চস্বরে গানবাজনায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এমন অভিযোগ তুলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। তখন মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুরো পুলিশ লাইন্স এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের পরীক্ষা রয়েছে। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে গানবাজনার কারণে পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। কিছু সময় শব্দ কম থাকলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গানবাজনা শুরু হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
এদিকে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাও সাজিদুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম তাৎক্ষণিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।