ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাসদ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন নাকচ Logo এসএসসির খাতা মূল্যায়নে ‘দুর্বলতা’, শিক্ষকদের জবাবদিহিতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo বাংলাদেশের বাজারে হাইফিউচার ব্রান্ডের ফ্লেক্সক্লিপ প্রিমিয়াম ক্লিপ ইয়ারবাডস Logo বাঁধ মেরামতের অর্থে ম্যুরাল নির্মাণের অভিযোগ পাউবোর প্রকৌশলী প্রবীরের বিরুদ্ধে Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় বন্দুক হামলা, নিহত ১৭ Logo নতুন বুটে ইনজুরিতে পড়তে পারেন এমবাপ্পে, আগেই সতর্ক করেছিলেন ফিজিও Logo অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে: সাদিয়া আয়মান Logo চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, মামলা করলে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ফেসবুক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী মিথ্যাচার চালাচ্ছে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. মঈন খান Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূর সাড়ে-৯ ভরি স্বর্ণ আত্মসাত-২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এসআই সোহেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদনের অভিযোগ

পথচারীদের মল-মূত্রে একাকার জবির সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা ফুটপাত

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৬৬ বার পঠিত

সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ফটকের (জীম-ওয়াসি গেট) দক্ষিণ-পূর্ব পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রী কমনরুমের পেছনের দেয়াল তথা ফুটপাতের পাশের প্রধান সীমানাপ্রাচীরটি টয়লেটে পরিণত হয়েছে। পথচারীদের মল-মূত্রে স্থানটি হয়ে উঠেছে দুর্গন্ধময়। তীব্র গন্ধে প্রতিনিয়ত অস্বস্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ।

সরজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের ওপর প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা ভাসছে পথচারীর মূত্রে। স্থানে স্থানে পড়ে আছে মল। নাকে কাপড় চাপা দিয়ে ফুটপাত থেকে নেমে, স্থানটি পার হয়ে, পুনরায় ফুটপাতে উঠে হাঁটছেন অনেকে। ফুটপাতের কোল ঘেঁষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বাসের গুলো পার্কিং করে রাখায় অনেকেই ফুটপাত থেকে নেমে হাঁটার জায়গা না পেয়ে, লাফিয়ে পার হচ্ছেন স্থানটি। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ডাক দিয়ে পথচারীদের সতর্ক করতে দেখা যায় কিন্তু ফাঁকা পেলেই কোনো না কোনো পথচারী প্রসাব করতে ঠিকই বসে পড়ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রী কমনরুমের অবস্থান নতুন ভবনের নিচতলার একপাশে অবস্থিত সদরঘাটগামী রাস্তা এবং জীম ওয়াসী গেইট যা সবার কাছে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেইট নামেও পরিচিত। রাস্তার মুখোমুখি কমনরুমের একপাশে উন্মুক্ত করিডোর ও সিঁড়িতে বসে ছাত্রীদের অবসরের অধিকাংশ সময় পার হয়। তবে এখন যেন সেই অবসরের সময়টাই গুটিয়ে নিতে হচ্ছে ছাত্রীদেরকে। রুমের সামনে দেয়াল ঘেঁষে সদরঘাটগামী রাস্তার ফুটপাতে অংশটি যেন এখন হয়ে গেছে সাধারণের টয়লেট। যেখানে বসে ছাত্রীরা ক্লাসের ফাঁকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সেখানে দুর্গগ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। সময়ের বিবর্তনে জীম-ওয়াসি চত্বর এখন যেন সদরঘাট এলাকার মানুষের মূত্র ত্যাগের স্থান। দিনে কিংবা রাতে অনায়াসেই সবাই সেখানে মূত্র ত্যাগ করছে, যেন বাধা দেয়ার কেউ নাই।

প্রধান সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরটি দীর্ঘদিন ভাঙ্গা অবস্থায় থাকার সেটিকে সংস্কার করে তার একপাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্বলিত বেরিকেড দেয়া হয়। তবে বছর না পেরোতেই সেখানে বাহাদুর শাহ পরিবহনের গাড়ি যাতায়াতের ফলে সেগুলোর অধীকাংশই ভেঙ্গে গেছে। ফলে এর পাশে পথচারীরা নিয়মিত মূত্র বিসর্জন করছে। এর আগে এই দেয়ালে গ্রাফিতি অংকন করা হলেও তখনও সেখানে একই হাল করেন পথচারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা দেয়ালে পথচারীদের এভাবে মূত্র ত্যাগের ফলে অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে হয়। একটু অসাবধান হলেই প্রায়শই জুতায় ও কাপড়ে মল, মূত্র লেগে যায়। দেয়ালে ছোট কাগজে মূত্র ত্যাগের শাস্তি ৫০০ টাকা জরিমানার কথা লিখা থাকলেও কেউই তা মানছেনা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ও অবর্জনায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা তো যায়ই না, আশেপাশে দাঁড়িয়েও কথা বলা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জানালা লাগিয়ে বসে থাকতেও কষ্ট হয়। দেয়াল ঘেঁষেই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের কমন রুমের করিডোর। অনেকেই অবসর সময় কাটাতে করিডোরে বসে আড্ডা দেয়। তীব্র গন্ধে করিডোরে বসতে পারেনা তারা। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় করিডোরে কাটিয়ে অস্বস্তিবোধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রী কমনরুমের সিঁড়ির অংশটায় অনেক ছাত্রীরাই বসে তাদের অবসর কাটায়, বই পড়ে। ক্যাম্পাসের এতো অধিক সংখ্যক ছাত্রীর তুলনায় কমনরুমের জায়গার পরিমাণ শোচনীয় হওয়ায় ছাত্রীদেরকে সংকলিত জায়গার মধ্যেই তাদের অবসর সময় কাটাতে হয়। কিন্তু এ অবস্থাতে দুর্গন্ধে বসে থাকা দায়। সেই শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন এই একই সুরে তাল মেলান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের পরিসর ছোট হওয়ায় আমরা প্রায়ই বাসে বসে আড্ডা দেই। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধে বাসে বসাই যায় না। কিছুক্ষণ পর পরই পথচারীদের কেউ না কেউ, প্রসাব করতে বসে যায়, তাদেরকে আমাদের সতর্ক করতে হয়। যেখানে সতর্ক কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা ছিল প্রশাসনের, সেখানে আমাদের সতর্ক করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন নিশু বলেন, প্রসাবের তীব্র দুর্গন্ধ এ কমন রুমের করিডোরে বসতে পারি না। ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গেলেই প্রায়শই অপ্রীতিকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। প্রায়শই হাঁটার সময় জামা কাপড় নষ্ট হয়। অতিসত্বর এভাবে রাস্তাঘাটে মল-মূত্র ত্যাগ বন্ধ না করতে পারলে, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্যে সেখান দিয়ে চলাচল করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হোসাইন আহমেদ রনি বলেন, এতো সুন্দর একটি জায়গা প্রশাসনের অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের পাশের একটি জায়গায় সাধারণ মানুষ মূত্র ত্যাগ করে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরা জায়গাটি আবারও আগের মতো করে চাই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের বলেন, আমি থাকাকালীন সমস্যার সমাধান হিসেবে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলেছিলাম, কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। আমাদের কমিটির মেয়াদ আগস্টে শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যাপারে আমার কিছু করার এখতিয়ার নেই, তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর এই ব্যাপারে উপাচার্যের সাথে কথা বলবো।
এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকের পাশে সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে কোনো বাস পার্কিং না করার বিষয়ে নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে। গাড়ি রাখলে সরিয়ে নেয়ার জন্যে যেনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে যেনো জায়গাটা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে শীগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

পথচারীদের মল-মূত্রে একাকার জবির সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা ফুটপাত

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ফটকের (জীম-ওয়াসি গেট) দক্ষিণ-পূর্ব পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রী কমনরুমের পেছনের দেয়াল তথা ফুটপাতের পাশের প্রধান সীমানাপ্রাচীরটি টয়লেটে পরিণত হয়েছে। পথচারীদের মল-মূত্রে স্থানটি হয়ে উঠেছে দুর্গন্ধময়। তীব্র গন্ধে প্রতিনিয়ত অস্বস্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ।

সরজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের ওপর প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা ভাসছে পথচারীর মূত্রে। স্থানে স্থানে পড়ে আছে মল। নাকে কাপড় চাপা দিয়ে ফুটপাত থেকে নেমে, স্থানটি পার হয়ে, পুনরায় ফুটপাতে উঠে হাঁটছেন অনেকে। ফুটপাতের কোল ঘেঁষে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বাসের গুলো পার্কিং করে রাখায় অনেকেই ফুটপাত থেকে নেমে হাঁটার জায়গা না পেয়ে, লাফিয়ে পার হচ্ছেন স্থানটি। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ডাক দিয়ে পথচারীদের সতর্ক করতে দেখা যায় কিন্তু ফাঁকা পেলেই কোনো না কোনো পথচারী প্রসাব করতে ঠিকই বসে পড়ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রী কমনরুমের অবস্থান নতুন ভবনের নিচতলার একপাশে অবস্থিত সদরঘাটগামী রাস্তা এবং জীম ওয়াসী গেইট যা সবার কাছে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেইট নামেও পরিচিত। রাস্তার মুখোমুখি কমনরুমের একপাশে উন্মুক্ত করিডোর ও সিঁড়িতে বসে ছাত্রীদের অবসরের অধিকাংশ সময় পার হয়। তবে এখন যেন সেই অবসরের সময়টাই গুটিয়ে নিতে হচ্ছে ছাত্রীদেরকে। রুমের সামনে দেয়াল ঘেঁষে সদরঘাটগামী রাস্তার ফুটপাতে অংশটি যেন এখন হয়ে গেছে সাধারণের টয়লেট। যেখানে বসে ছাত্রীরা ক্লাসের ফাঁকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সেখানে দুর্গগ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। সময়ের বিবর্তনে জীম-ওয়াসি চত্বর এখন যেন সদরঘাট এলাকার মানুষের মূত্র ত্যাগের স্থান। দিনে কিংবা রাতে অনায়াসেই সবাই সেখানে মূত্র ত্যাগ করছে, যেন বাধা দেয়ার কেউ নাই।

প্রধান সড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরটি দীর্ঘদিন ভাঙ্গা অবস্থায় থাকার সেটিকে সংস্কার করে তার একপাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্বলিত বেরিকেড দেয়া হয়। তবে বছর না পেরোতেই সেখানে বাহাদুর শাহ পরিবহনের গাড়ি যাতায়াতের ফলে সেগুলোর অধীকাংশই ভেঙ্গে গেছে। ফলে এর পাশে পথচারীরা নিয়মিত মূত্র বিসর্জন করছে। এর আগে এই দেয়ালে গ্রাফিতি অংকন করা হলেও তখনও সেখানে একই হাল করেন পথচারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা দেয়ালে পথচারীদের এভাবে মূত্র ত্যাগের ফলে অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে হয়। একটু অসাবধান হলেই প্রায়শই জুতায় ও কাপড়ে মল, মূত্র লেগে যায়। দেয়ালে ছোট কাগজে মূত্র ত্যাগের শাস্তি ৫০০ টাকা জরিমানার কথা লিখা থাকলেও কেউই তা মানছেনা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ও অবর্জনায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা তো যায়ই না, আশেপাশে দাঁড়িয়েও কথা বলা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জানালা লাগিয়ে বসে থাকতেও কষ্ট হয়। দেয়াল ঘেঁষেই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের কমন রুমের করিডোর। অনেকেই অবসর সময় কাটাতে করিডোরে বসে আড্ডা দেয়। তীব্র গন্ধে করিডোরে বসতে পারেনা তারা। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় করিডোরে কাটিয়ে অস্বস্তিবোধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রী কমনরুমের সিঁড়ির অংশটায় অনেক ছাত্রীরাই বসে তাদের অবসর কাটায়, বই পড়ে। ক্যাম্পাসের এতো অধিক সংখ্যক ছাত্রীর তুলনায় কমনরুমের জায়গার পরিমাণ শোচনীয় হওয়ায় ছাত্রীদেরকে সংকলিত জায়গার মধ্যেই তাদের অবসর সময় কাটাতে হয়। কিন্তু এ অবস্থাতে দুর্গন্ধে বসে থাকা দায়। সেই শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন এই একই সুরে তাল মেলান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের পরিসর ছোট হওয়ায় আমরা প্রায়ই বাসে বসে আড্ডা দেই। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধে বাসে বসাই যায় না। কিছুক্ষণ পর পরই পথচারীদের কেউ না কেউ, প্রসাব করতে বসে যায়, তাদেরকে আমাদের সতর্ক করতে হয়। যেখানে সতর্ক কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা ছিল প্রশাসনের, সেখানে আমাদের সতর্ক করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন নিশু বলেন, প্রসাবের তীব্র দুর্গন্ধ এ কমন রুমের করিডোরে বসতে পারি না। ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গেলেই প্রায়শই অপ্রীতিকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। প্রায়শই হাঁটার সময় জামা কাপড় নষ্ট হয়। অতিসত্বর এভাবে রাস্তাঘাটে মল-মূত্র ত্যাগ বন্ধ না করতে পারলে, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্যে সেখান দিয়ে চলাচল করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হোসাইন আহমেদ রনি বলেন, এতো সুন্দর একটি জায়গা প্রশাসনের অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের পাশের একটি জায়গায় সাধারণ মানুষ মূত্র ত্যাগ করে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরা জায়গাটি আবারও আগের মতো করে চাই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের বলেন, আমি থাকাকালীন সমস্যার সমাধান হিসেবে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলেছিলাম, কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। আমাদের কমিটির মেয়াদ আগস্টে শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যাপারে আমার কিছু করার এখতিয়ার নেই, তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর এই ব্যাপারে উপাচার্যের সাথে কথা বলবো।
এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকের পাশে সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে কোনো বাস পার্কিং না করার বিষয়ে নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে। গাড়ি রাখলে সরিয়ে নেয়ার জন্যে যেনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে যেনো জায়গাটা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে শীগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।