ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আল-আজহারের বৃত্তি বেড়ে ২৪, উচ্চশিক্ষায় নতুন সুযোগ Logo ৩২ হাজার অডিশন পেরিয়ে ডিজনির ‘মোয়ানা’ হলেন ক্যাথরিন, কে এই নতুন তারকা? Logo ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে: অপটার সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী, কারা উঠবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে? Logo হরমুজে জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চাইবে যুক্তরাষ্ট্র Logo চট্টগ্রামে বন্যায় ৯১ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি, ডুবেছে ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি Logo সংবিধান সংস্কারে বিলম্ব নয়, চলতি অধিবেশনেই কমিশন গঠনের আহ্বান জামায়াতের Logo বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে নিজস্ব ‘মেসি’ জামাল ভূঁইয়ার সাথে হাত মেলালো অপো Logo ইরানের দাবি: যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার অনুরোধ করা হয়নি, Logo রাজাপুরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo ঢাকা মেডিকেল দেশের আস্থার প্রতীক, স্বাস্থ্যখাতে বড় সংস্কারের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মেডিকেল দেশের আস্থার প্রতীক, স্বাস্থ্যখাতে বড় সংস্কারের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পঠিত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং জাতীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু দক্ষ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কলেজটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি নিজেদের কর্মজীবনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছেন কিন্তু বর্তমানে আর জীবিত নেই, তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শুধু খ্যাতিমান চিকিৎসকই বেরিয়ে আসেননি; এখানকার শিক্ষার্থীদের অনেকেই শিক্ষক, গবেষক, সমাজসেবক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। মানুষের জীবন রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন।

তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে রাজধানীবাসীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন এই হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও করিডোরে অসংখ্য মানুষের আশা-নিরাশা, বেদনা ও আনন্দের গল্প রচিত হয়। এখানে যেমন অনেক জীবন শেষ হয়, তেমনি নতুন জীবনের সূচনাও ঘটে। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ককে তিনি বিশ্বাস ও মানবিকতার অন্যতম শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীর সঙ্গে আন্তরিক আচরণ এবং সঠিক পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করাও প্রতিটি চিকিৎসকের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চিকিৎসকদের মানুষের দুর্দিনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলেও উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য পাঁচ হাজার নতুন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে আগাম সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। বর্তমানে এটি জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারও করা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাই পর্যায়ক্রমে ৩১ ও ৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশুস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। এতে রাজধানীর বাইরে বসবাসকারী শিশুরাও উন্নত চিকিৎসাসেবা সহজে পাবে।

মেডিকেল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং মেডিকেল বর্জ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের বর্তমান মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং আন্তরিক সেবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ট্যাগস :

ঢাকা মেডিকেল দেশের আস্থার প্রতীক, স্বাস্থ্যখাতে বড় সংস্কারের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য এবং জাতীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু দক্ষ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কলেজটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি নিজেদের কর্মজীবনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছেন কিন্তু বর্তমানে আর জীবিত নেই, তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শুধু খ্যাতিমান চিকিৎসকই বেরিয়ে আসেননি; এখানকার শিক্ষার্থীদের অনেকেই শিক্ষক, গবেষক, সমাজসেবক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। মানুষের জীবন রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন।

তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে রাজধানীবাসীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন এই হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও করিডোরে অসংখ্য মানুষের আশা-নিরাশা, বেদনা ও আনন্দের গল্প রচিত হয়। এখানে যেমন অনেক জীবন শেষ হয়, তেমনি নতুন জীবনের সূচনাও ঘটে। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ককে তিনি বিশ্বাস ও মানবিকতার অন্যতম শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীর সঙ্গে আন্তরিক আচরণ এবং সঠিক পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করাও প্রতিটি চিকিৎসকের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চিকিৎসকদের মানুষের দুর্দিনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলেও উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য পাঁচ হাজার নতুন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে আগাম সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনের বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। বর্তমানে এটি জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারও করা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাই পর্যায়ক্রমে ৩১ ও ৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশুস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। এতে রাজধানীর বাইরে বসবাসকারী শিশুরাও উন্নত চিকিৎসাসেবা সহজে পাবে।

মেডিকেল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং মেডিকেল বর্জ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের বর্তমান মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং আন্তরিক সেবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।