ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১১৯ বার পঠিত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর বিদেশে অবস্থানের পর আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন বলেও জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের ঝুঁকিও রয়েছে—এ বিষয়টি জেনেও তিনি নিজের দেশে ফিরে আসতে চান। তার ভাষায়, দলের নেতাকর্মীরা বর্তমানে ব্যাপক নিপীড়নের মুখে রয়েছেন। তাই যদি মৃত্যুও আসে, সেটি তিনি নিজের জন্মভূমিতেই বরণ করতে চান, যেখানে তার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাদের রক্ত মিশে আছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই বিষয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। দেশে ফিরে তাদের সঙ্গে নিয়েই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। তার দাবি, বিচার কার্যক্রম শুরু হলে বর্তমান বিচারব্যবস্থার প্রকৃতি জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে কবে এবং কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পাশাপাশি ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।
বর্তমান সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরা নিয়ে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান শেখ হাসিনা। তার মতে, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার কিংবা ন্যায়বিচারের মতো বিষয় গোপন আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, তার সরকারের কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়নের দায়িত্ব দেশের জনগণের।
ভারতে অবস্থান করেই আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। তার দাবি, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান নিষিদ্ধ অবস্থার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে রায় হতে পারে বা তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে নাও পারেন, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনগণের বিচারেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতেও তিনি কারাগারে ছিলেন। আশির দশকে দেশে ফেরার পর এবং ২০০৭ সালেও তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। তাই জেলে যাওয়ার বিষয়টি তাকে ভয় দেখায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশ্যে জানালেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও রাজনৈতিক মেরুকরণের সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ভারতে তার অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, দেশে ফিরে এলে সেই পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




















