ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

দেশে প্রসাধনীর বড় বাজার, কালোবাজারিতে কম রাজস্ব

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ৩০৪ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

বিশ্বজুড়ে প্রসাধনীর বাজার অনেক বড়। বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। মানুষের সৌন্দর্য সচেতনতা ও ক্রমক্ষমতা বাড়ায় বড় হচ্ছে এ বাজার। দেশি-বিদেশি কোম্পানির পুরোনো পণ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। কালার কসমেটিকসেও এসেছে বড় দেশি বিনিয়োগ। তবে নকল ও কালোবাজারিদের দাপটে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

প্রসাধনীর সবশেষ বাজার নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি গবেষণা বলছে, কসমেটিকস খাতের প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালার কসমেটিকস ও সাধারণ ত্বকচর্চার সঙ্গে মেডিকেটেড ত্বকচর্চার পণ্য।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌন্দর্যপণ্যের এ দুই ধরনের বাজারই বড় হলেও কালার কসমেটিকসে দেশি বিনিয়োগের বেশ কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কালার কসমেটিকসের আওতায় পড়ে মেকআপ ও মেকওভারের জন্য প্রয়োজনীয় সৌন্দর্যপণ্য। এ তালিকায় রয়েছে ফাউন্ডেশন, কনসিলার, ফেসপাউডার, লিপস্টিক, মাসকারা, আইলাইনার, ব্লাশ ইত্যাদি। এসব পণ্যের প্রায় পুরোটা আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে আবার বড় অংশ নকল।

ত্বকচর্চায় দেশের ছয় থেকে সাতটি স্থানীয় কোম্পানি এ খাতের ৮০ শতাংশ বাজার নিজেদের দখলে রেখেছে। এর মধ্যে আছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ, কোহিনূর কেমিক্যালস, কেয়া কসমেটিকস, অ্যারোমেটিক কসমেটিকসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সম্প্রতি এ বাজারে বড় বিনিয়োগ করেছে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। যারা এ ত্বকচর্চা পণ্যের সঙ্গে কালার কসমেটিকসেও বিনিয়োগ করছে।

এদিকে দেশে প্রসাধনীর বাজারের তদারকি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই। সংস্থাটির মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের বাজারে যে হারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায় তার ভিড়ে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতায় পড়ে। সেক্ষেত্রে নতুন নতুন দেশি প্রতিষ্ঠান অথেনটিক পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে যেভাবে কাজ করছে তা দেশের জন্য অনুসরণীয়। তাই পর্যাপ্ত সুযোগ ও নীতি সহায়তায় এই শিল্পখাত থেকে সরকার আরও বেশি রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।’

তবে এ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, লাগেজ ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম শুষ্ক দিয়ে বিদেশি পণ্য আমদানি করেন। কসমেটিকস পণ্যের আমদানিকারকদের হয়ে ফ্রেইট এজেন্সিগুলো এতে জড়িত থাকে। কিছু পণ্যের শুল্ক বেশি থাকায় বাজারে অনেক সময় সেসব পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা সেসব পণ্য নকল করে বাজারে ছাড়েন। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও এনবিইআর চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, ‘প্রায় ৩শ কোটি ডলারের কসমেটিকস বাজারের শিল্পে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বৈষম্যের কারণ হবে। কারণ এ শিল্পের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ১২ শতাংশ। তাই দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সহায়তা জরুরি।’

ট্যাগস :

দেশে প্রসাধনীর বড় বাজার, কালোবাজারিতে কম রাজস্ব

আপডেট সময় : ০৩:০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

বিশ্বজুড়ে প্রসাধনীর বাজার অনেক বড়। বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে নেই। মানুষের সৌন্দর্য সচেতনতা ও ক্রমক্ষমতা বাড়ায় বড় হচ্ছে এ বাজার। দেশি-বিদেশি কোম্পানির পুরোনো পণ্যগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন পণ্য। কালার কসমেটিকসেও এসেছে বড় দেশি বিনিয়োগ। তবে নকল ও কালোবাজারিদের দাপটে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

প্রসাধনীর সবশেষ বাজার নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি গবেষণা বলছে, কসমেটিকস খাতের প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালার কসমেটিকস ও সাধারণ ত্বকচর্চার সঙ্গে মেডিকেটেড ত্বকচর্চার পণ্য।

এ খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌন্দর্যপণ্যের এ দুই ধরনের বাজারই বড় হলেও কালার কসমেটিকসে দেশি বিনিয়োগের বেশ কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কালার কসমেটিকসের আওতায় পড়ে মেকআপ ও মেকওভারের জন্য প্রয়োজনীয় সৌন্দর্যপণ্য। এ তালিকায় রয়েছে ফাউন্ডেশন, কনসিলার, ফেসপাউডার, লিপস্টিক, মাসকারা, আইলাইনার, ব্লাশ ইত্যাদি। এসব পণ্যের প্রায় পুরোটা আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে আবার বড় অংশ নকল।

ত্বকচর্চায় দেশের ছয় থেকে সাতটি স্থানীয় কোম্পানি এ খাতের ৮০ শতাংশ বাজার নিজেদের দখলে রেখেছে। এর মধ্যে আছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ, কোহিনূর কেমিক্যালস, কেয়া কসমেটিকস, অ্যারোমেটিক কসমেটিকসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সম্প্রতি এ বাজারে বড় বিনিয়োগ করেছে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। যারা এ ত্বকচর্চা পণ্যের সঙ্গে কালার কসমেটিকসেও বিনিয়োগ করছে।

এদিকে দেশে প্রসাধনীর বাজারের তদারকি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই। সংস্থাটির মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের বাজারে যে হারে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায় তার ভিড়ে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতায় পড়ে। সেক্ষেত্রে নতুন নতুন দেশি প্রতিষ্ঠান অথেনটিক পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে যেভাবে কাজ করছে তা দেশের জন্য অনুসরণীয়। তাই পর্যাপ্ত সুযোগ ও নীতি সহায়তায় এই শিল্পখাত থেকে সরকার আরও বেশি রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।’

তবে এ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, লাগেজ ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম শুষ্ক দিয়ে বিদেশি পণ্য আমদানি করেন। কসমেটিকস পণ্যের আমদানিকারকদের হয়ে ফ্রেইট এজেন্সিগুলো এতে জড়িত থাকে। কিছু পণ্যের শুল্ক বেশি থাকায় বাজারে অনেক সময় সেসব পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা সেসব পণ্য নকল করে বাজারে ছাড়েন। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও এনবিইআর চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, ‘প্রায় ৩শ কোটি ডলারের কসমেটিকস বাজারের শিল্পে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বৈষম্যের কারণ হবে। কারণ এ শিল্পের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ১২ শতাংশ। তাই দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সহায়তা জরুরি।’