ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী, বোর্ডভিত্তিক সংখ্যা কত Logo দেশের বর্তমান গ্যাস মজুত দিয়ে আগামী ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভবঃ জ্বালানিমন্ত্রী Logo কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পথচারী নিহত Logo বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ Logo বরিশালে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই নিয়ে তোলপাড় Logo রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠিত Logo বনানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট Logo গাজীপুরে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে গাকৃবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মিয়ানমারে ৫ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যেই হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ।। রবিবার।। ২৮ ডিসেম্বর।। ২০২৫।।

প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ চলছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের ৫ বছর পর মিয়ানমারের নাগরিকরা এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু দেশজুড়ে চলছে সাংঘাত, বিরোধী দলের অনুপুস্থিতি এবং সেনা সেনাশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেকেই এই নির্বাচনে সত্যনিষ্ঠা নিয়ে সন্দিহান।

এএফপির খবর অনুযায়ী, জান্তাশাসিত মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট তিন ধাপে হবে– ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আজ রোববার প্রথম ধাপে ভোট নেওয়া হচ্ছে রাজধানী নেইপিদো, বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত কিছু শহর ও গ্রামে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক সংসদের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকা ও প্রদেশে ভোট হবেনা। মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে তিন ধাপে ২৬৫টিতে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও সব জায়গায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে।ওই নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় লাভ করে। কিন্তু সেনারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

অভ্যুত্থানের পর সান সু চিসহ এনএলডির বহু নেতা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয় এবং তারা এখনও কারাগারে আছেন। সু চির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে তা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।২০২৩ সালে জান্তানিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে এনএলডি অংশ নিচ্ছে না।

এর পাশাপাশি ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলও ভোট বর্জন করেছে। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সমর্থিত ইউএসডিপি নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তিশালী দল। অনুমান করা হচ্ছে, তারাই সরকার গঠন করবে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও একাধিক পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচন নিয়ে সমালচনা করছে। হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে জনগণের স্বাধীন ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।

তবে জান্তা সরকার মনে করছে, এই নির্বাচন দেশকে সংকট থেকে বের করে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে।

ট্যাগস :

মিয়ানমারে ৫ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যেই হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন

আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ কন্ঠ।। রবিবার।। ২৮ ডিসেম্বর।। ২০২৫।।

প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ চলছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের ৫ বছর পর মিয়ানমারের নাগরিকরা এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু দেশজুড়ে চলছে সাংঘাত, বিরোধী দলের অনুপুস্থিতি এবং সেনা সেনাশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেকেই এই নির্বাচনে সত্যনিষ্ঠা নিয়ে সন্দিহান।

এএফপির খবর অনুযায়ী, জান্তাশাসিত মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট তিন ধাপে হবে– ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আজ রোববার প্রথম ধাপে ভোট নেওয়া হচ্ছে রাজধানী নেইপিদো, বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত কিছু শহর ও গ্রামে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক সংসদের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকা ও প্রদেশে ভোট হবেনা। মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে তিন ধাপে ২৬৫টিতে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও সব জায়গায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে।ওই নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় লাভ করে। কিন্তু সেনারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

অভ্যুত্থানের পর সান সু চিসহ এনএলডির বহু নেতা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয় এবং তারা এখনও কারাগারে আছেন। সু চির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে তা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।২০২৩ সালে জান্তানিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে এনএলডি অংশ নিচ্ছে না।

এর পাশাপাশি ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলও ভোট বর্জন করেছে। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সমর্থিত ইউএসডিপি নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তিশালী দল। অনুমান করা হচ্ছে, তারাই সরকার গঠন করবে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও একাধিক পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচন নিয়ে সমালচনা করছে। হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে জনগণের স্বাধীন ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।

তবে জান্তা সরকার মনে করছে, এই নির্বাচন দেশকে সংকট থেকে বের করে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে।