ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৃহৎ পরিসরের এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড উন্মোচন করল হুয়াওয়ে Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানায় অভিযোগ করায় বাদী পক্ষের ওপর ফের হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, আহত ৪ Logo মিউজিক্যাল নাইট নিয়ে আসছে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ প্রেজেন্টস ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ Logo চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ, বাদীই বলছেন ‘চিনি না’ Logo অবাধ নৌচলাচলে হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত-ফ্রান্স Logo বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা Logo ছয় মাসের জন্য গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞায় সালাহ Logo ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন Logo বিশ্বের প্রথম কেইজ ফ্রেম ডিজাইন করা স্মার্টফোন নিয়ে বাজারে এলো আইটেল পাওয়ার ৮০

মিয়ানমারে ৫ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যেই হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৬৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ।। রবিবার।। ২৮ ডিসেম্বর।। ২০২৫।।

প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ চলছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের ৫ বছর পর মিয়ানমারের নাগরিকরা এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু দেশজুড়ে চলছে সাংঘাত, বিরোধী দলের অনুপুস্থিতি এবং সেনা সেনাশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেকেই এই নির্বাচনে সত্যনিষ্ঠা নিয়ে সন্দিহান।

এএফপির খবর অনুযায়ী, জান্তাশাসিত মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট তিন ধাপে হবে– ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আজ রোববার প্রথম ধাপে ভোট নেওয়া হচ্ছে রাজধানী নেইপিদো, বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত কিছু শহর ও গ্রামে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক সংসদের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকা ও প্রদেশে ভোট হবেনা। মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে তিন ধাপে ২৬৫টিতে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও সব জায়গায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে।ওই নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় লাভ করে। কিন্তু সেনারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

অভ্যুত্থানের পর সান সু চিসহ এনএলডির বহু নেতা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয় এবং তারা এখনও কারাগারে আছেন। সু চির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে তা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।২০২৩ সালে জান্তানিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে এনএলডি অংশ নিচ্ছে না।

এর পাশাপাশি ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলও ভোট বর্জন করেছে। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সমর্থিত ইউএসডিপি নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তিশালী দল। অনুমান করা হচ্ছে, তারাই সরকার গঠন করবে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও একাধিক পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচন নিয়ে সমালচনা করছে। হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে জনগণের স্বাধীন ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।

তবে জান্তা সরকার মনে করছে, এই নির্বাচন দেশকে সংকট থেকে বের করে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে।

ট্যাগস :

মিয়ানমারে ৫ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যেই হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন

আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ কন্ঠ।। রবিবার।। ২৮ ডিসেম্বর।। ২০২৫।।

প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ চলছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের ৫ বছর পর মিয়ানমারের নাগরিকরা এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। কিন্তু দেশজুড়ে চলছে সাংঘাত, বিরোধী দলের অনুপুস্থিতি এবং সেনা সেনাশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেকেই এই নির্বাচনে সত্যনিষ্ঠা নিয়ে সন্দিহান।

এএফপির খবর অনুযায়ী, জান্তাশাসিত মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট তিন ধাপে হবে– ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আজ রোববার প্রথম ধাপে ভোট নেওয়া হচ্ছে রাজধানী নেইপিদো, বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত কিছু শহর ও গ্রামে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক সংসদের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকা ও প্রদেশে ভোট হবেনা। মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে তিন ধাপে ২৬৫টিতে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও সব জায়গায় জান্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে।ওই নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় লাভ করে। কিন্তু সেনারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

অভ্যুত্থানের পর সান সু চিসহ এনএলডির বহু নেতা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয় এবং তারা এখনও কারাগারে আছেন। সু চির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে তা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।২০২৩ সালে জান্তানিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে এনএলডি অংশ নিচ্ছে না।

এর পাশাপাশি ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দলও ভোট বর্জন করেছে। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সমর্থিত ইউএসডিপি নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তিশালী দল। অনুমান করা হচ্ছে, তারাই সরকার গঠন করবে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও একাধিক পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচন নিয়ে সমালচনা করছে। হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে জনগণের স্বাধীন ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।

তবে জান্তা সরকার মনে করছে, এই নির্বাচন দেশকে সংকট থেকে বের করে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে।