ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পথচারী নিহত Logo বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ Logo বরিশালে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই নিয়ে তোলপাড় Logo রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠিত Logo বনানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট Logo গাজীপুরে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে গাকৃবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo শুল্ক হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি চীনের Logo জ্বালানি চাহিদা পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি চাহিদা পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪২ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সহায়তা কামনা করেছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পদক্ষেপ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকা উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানান। বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এ সংকট পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি সমন্বয়ের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস ব্যবহার করে সরবরাহ সচল রাখা এবং জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এছাড়া মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও গুরুতর হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই অগ্রগতিকে ব্যাহত করার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একা এ সংকটে পড়েনি, তাই এককভাবে এর সমাধানও সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি। সম্মেলন আয়োজনের জন্য তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান। ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ ভবন থেকে বিকেলে ভার্চুয়ালি এ সম্মেলনে অংশ নেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

জ্বালানি চাহিদা পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সহায়তা কামনা করেছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পদক্ষেপ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকা উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানান। বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এ সংকট পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করেছে। এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি সমন্বয়ের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস ব্যবহার করে সরবরাহ সচল রাখা এবং জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এছাড়া মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও গুরুতর হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই অগ্রগতিকে ব্যাহত করার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একা এ সংকটে পড়েনি, তাই এককভাবে এর সমাধানও সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি। সম্মেলন আয়োজনের জন্য তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান। ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ ভবন থেকে বিকেলে ভার্চুয়ালি এ সম্মেলনে অংশ নেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।