ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজীপুরে জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo গাজীপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ Logo সাবেক এমপি হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোক  Logo বেনজীরকে ফেরাতে সব নথি পাঠানো হয়েছে, দ্রুত প্রত্যর্পণের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী Logo বটতলায় জমজমাট ফাইনাল: চ্যাম্পিয়ান ভাতকাঠি একতা ফাউন্ডেশন। Logo সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ Logo অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর Logo জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী

ভাত খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব!

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ২৪৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই ভাত খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেন। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা ভাত ছাড়া থাকতে পারেন না। ফলে ওজন কমাতে গিয়ে ভাত না খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েন।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাত খেলে ওজন কমানো যায়। সেক্ষেত্রে পরিমিত ভাত এবং এর সঙ্গে কী খাবেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভাত খেলেই যে মানুষ মোটা হয়ে যায় কিংবা ওজন কমে না এ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

১০০ গ্রাম চাল থেকে ৩৪০ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়। এতে প্রায় ৮ গ্রাম চর্বি, ৭৮ গ্রাম ফাইবার, ৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং অন্যান্য দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে।

তবে এতে স্টার্চও রয়েছে, যা শরীরে গ্লুকোজ বিশ্লেষণ করে অগ্ন্যাশয়ের কাজকে ব্যাহত করে। রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায় যা ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দেয়।

অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম ময়দায়ও চালের মতো একই পরিমাণ ক্যালোরি থাকে। তাই দু’বেলা যদি ১৫০ গ্রামও ভাত খান; তাহলেও তা ৫০০ কিলো ক্যালোরি ছাড়ায় না।

ভাত কম রাখলে এবং সালাদ, স্যুপ, মাছ ইত্যাদির সাথে সুষম খাদ্য বজায় রাখলে পেটে বাড়তি মেদ জমতে পারবে না। জেনে নিন ভাতের উপকারিতা সম্পর্কে-

>>ভাতের গ্লাইকোজেন শরীরে দ্রুত হজম হয় তাই অন্যান্য সম্পূরক খাবারের তুলনায় ভাতের একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে।

>> ভাতে ট্রান্স ফ্যাট বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট নেই তাই কোলেস্টেরল বাড়ানোর চাপ নেই।

>>ভাত হলো লো ফ্যাট ও হাই কার্ব সমৃদ্ধ ফ্রি ফুড যাতে সোডিয়াম, গ্লুটেন জাতীয় ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে না। বরং ভাতের বিকল্প হিসেবে যেসব খাবার খাওয়া হয়; সেগুলোতে ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

>> একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক ক্যালরির ৬০-৭০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থেকে আসা উচিত। যা ভাত পূরন করে থাকে।

>>ভাত হিসেবে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বাছুন। এতে সাধারণ পলিসড চালের তুলনায় বেশি থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পাইরিডক্সিন ও ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। যা শরীরে হোল গ্রেনের ২/৩ অংশ চাহিদা পূরণে সক্ষম।

>>ব্ল্যাক রাইস বা ওয়াইল্ড রাইসে চালের আবরণীতে অরাইজনল, টোকোটেরিনল ইত্যাদি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। লাল চালে থাকে অ্যান্থোসায়ানিন।

ভাত খেয়ে ওজন যাতে না বাড়ে, সে জন্য ভাত বিশেষভাবে রান্না করা দরকার। জেনে নিন কীভাবে ভাত রান্না করবেন-

>> বারবার চাল ধুবেন না। এর ভিটামিন ও মিনারেল বের করা হয়।

>> একটি পাত্রে অল্প পানি দিয়ে চাল রাখুন। ভাতের মাড় ফেলে দেবেন না। আপনি চাইলে ফুটন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখা চালও যোগ করতে পারেন। অথবা প্রেসার কুকারেও ভাত রান্না করতে পারেন।

>> ঢাকনা দিয়ে বাষ্প করুন এবং ধীরে ধীরে ঠান্ডা করুন। এতে স্টার্চ জমাট বাঁধবে এবং এই ভাত কম খেলে পেট ভরে যাবে।

ভাত খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন-

>> ভাতের সাথে ড্রেসিং না করে সালাদ, সবজি যোগ করুন। এতে খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং বেশি ভাত খাওয়ার প্রবণতাও কমবে।

>> ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমাবেন না। ১৫-২০ মিনিট হাঁটুন। এতে তন্দ্রা কমে যাবে।

>> ঘুমের জন্য ভাত খাওয়ার পরপরই কালো কফি খেতে পারেন। গ্রিন টিও পান করতে পারেন।

>> বেশ কিছু তরকারি পাতে রাখুন। ভাত দিয়ে তরকারি নয়, তরকারি দিয়ে ভাত খান। প্লেটে বারবার ভাত তুলে নেবেন না। এতে বেশি খাওয়া হয়ে যাবে।

ভাত খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব!

আপডেট সময় : ০২:০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই ভাত খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেন। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা ভাত ছাড়া থাকতে পারেন না। ফলে ওজন কমাতে গিয়ে ভাত না খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েন।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাত খেলে ওজন কমানো যায়। সেক্ষেত্রে পরিমিত ভাত এবং এর সঙ্গে কী খাবেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভাত খেলেই যে মানুষ মোটা হয়ে যায় কিংবা ওজন কমে না এ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

১০০ গ্রাম চাল থেকে ৩৪০ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়। এতে প্রায় ৮ গ্রাম চর্বি, ৭৮ গ্রাম ফাইবার, ৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং অন্যান্য দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে।

তবে এতে স্টার্চও রয়েছে, যা শরীরে গ্লুকোজ বিশ্লেষণ করে অগ্ন্যাশয়ের কাজকে ব্যাহত করে। রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায় যা ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দেয়।

অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম ময়দায়ও চালের মতো একই পরিমাণ ক্যালোরি থাকে। তাই দু’বেলা যদি ১৫০ গ্রামও ভাত খান; তাহলেও তা ৫০০ কিলো ক্যালোরি ছাড়ায় না।

ভাত কম রাখলে এবং সালাদ, স্যুপ, মাছ ইত্যাদির সাথে সুষম খাদ্য বজায় রাখলে পেটে বাড়তি মেদ জমতে পারবে না। জেনে নিন ভাতের উপকারিতা সম্পর্কে-

>>ভাতের গ্লাইকোজেন শরীরে দ্রুত হজম হয় তাই অন্যান্য সম্পূরক খাবারের তুলনায় ভাতের একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে।

>> ভাতে ট্রান্স ফ্যাট বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট নেই তাই কোলেস্টেরল বাড়ানোর চাপ নেই।

>>ভাত হলো লো ফ্যাট ও হাই কার্ব সমৃদ্ধ ফ্রি ফুড যাতে সোডিয়াম, গ্লুটেন জাতীয় ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে না। বরং ভাতের বিকল্প হিসেবে যেসব খাবার খাওয়া হয়; সেগুলোতে ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

>> একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক ক্যালরির ৬০-৭০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থেকে আসা উচিত। যা ভাত পূরন করে থাকে।

>>ভাত হিসেবে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বাছুন। এতে সাধারণ পলিসড চালের তুলনায় বেশি থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পাইরিডক্সিন ও ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। যা শরীরে হোল গ্রেনের ২/৩ অংশ চাহিদা পূরণে সক্ষম।

>>ব্ল্যাক রাইস বা ওয়াইল্ড রাইসে চালের আবরণীতে অরাইজনল, টোকোটেরিনল ইত্যাদি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। লাল চালে থাকে অ্যান্থোসায়ানিন।

ভাত খেয়ে ওজন যাতে না বাড়ে, সে জন্য ভাত বিশেষভাবে রান্না করা দরকার। জেনে নিন কীভাবে ভাত রান্না করবেন-

>> বারবার চাল ধুবেন না। এর ভিটামিন ও মিনারেল বের করা হয়।

>> একটি পাত্রে অল্প পানি দিয়ে চাল রাখুন। ভাতের মাড় ফেলে দেবেন না। আপনি চাইলে ফুটন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখা চালও যোগ করতে পারেন। অথবা প্রেসার কুকারেও ভাত রান্না করতে পারেন।

>> ঢাকনা দিয়ে বাষ্প করুন এবং ধীরে ধীরে ঠান্ডা করুন। এতে স্টার্চ জমাট বাঁধবে এবং এই ভাত কম খেলে পেট ভরে যাবে।

ভাত খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন-

>> ভাতের সাথে ড্রেসিং না করে সালাদ, সবজি যোগ করুন। এতে খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং বেশি ভাত খাওয়ার প্রবণতাও কমবে।

>> ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমাবেন না। ১৫-২০ মিনিট হাঁটুন। এতে তন্দ্রা কমে যাবে।

>> ঘুমের জন্য ভাত খাওয়ার পরপরই কালো কফি খেতে পারেন। গ্রিন টিও পান করতে পারেন।

>> বেশ কিছু তরকারি পাতে রাখুন। ভাত দিয়ে তরকারি নয়, তরকারি দিয়ে ভাত খান। প্লেটে বারবার ভাত তুলে নেবেন না। এতে বেশি খাওয়া হয়ে যাবে।