ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৃহৎ পরিসরের এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড উন্মোচন করল হুয়াওয়ে Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানায় অভিযোগ করায় বাদী পক্ষের ওপর ফের হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, আহত ৪ Logo মিউজিক্যাল নাইট নিয়ে আসছে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ প্রেজেন্টস ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ Logo চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ, বাদীই বলছেন ‘চিনি না’ Logo অবাধ নৌচলাচলে হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত-ফ্রান্স Logo বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা Logo ছয় মাসের জন্য গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞায় সালাহ Logo ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন আসাদ আলম সিয়াম Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন Logo বিশ্বের প্রথম কেইজ ফ্রেম ডিজাইন করা স্মার্টফোন নিয়ে বাজারে এলো আইটেল পাওয়ার ৮০

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ

বাংলাদেশে কত শুল্ক দেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা, কতটা কমানো যাবে?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ৫২৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাজার হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেসিপ্রকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক হল একটি বাণিজ্যনীতি যা ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চালু করেছিল। এই নীতি অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ আমেরিকার পণ্যতে ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে আমেরিকা ওই দেশের পণ্যে সমান পরিমাণ ট্যারিফ আরোপ করবে। আমেরিকা বলছে, দেশটি তাদের পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করতে ৭০ শতাংশের বেশি ট্যারিফ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক হার বিবেচনা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রের স্বার্থে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করবে তারা। করণীয় ঠিক করতে আগামী রোববার (৬ এপ্রিল) সরকারের একাধিক সংস্থার সঙ্গে আলাপ করবেন এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা তথ্যউপাত্তগুলো সংগ্রহ করছি। সেগুলো বিশ্লেষণ করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিসের ভিত্তিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, তার ভিত্তি কী, কিভাবে কী করা যায়, এ ব্যাপারে আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যা যা করণীয় আমরা তা করবো। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ যে শুল্ক রাজস্ব হিসেবে পায়, তা কমিয়ে দিলে কেমন প্রভাব পড়বে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো প্রভাবই পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্র যেসব পণ্যের কথা বলছে, সেগুলোর শুল্ক শূন্যের কোঠায়ই আছে। আমরা এগুলো দেখছি। তাদের ক্যালকুলেশন মেথডটা একটু অন্য রকম। সত্যিকার অর্থে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার মতো কোনো আইটেমই নেই। রাজস্ব বোর্ড ও আমদানি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য (খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম ও ভুট্টা), যন্ত্রপাতি এবং গাড়ি, পেট্রোলিয়াম, লোহা ও ইস্পাত পণ্য। আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইলসামগ্রী ও কৃষিপণ্য। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ৮৩৬ কোটি ডলারের পণ্য। বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে ২২১ কোটি ডলারের পণ্য। এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৬১৫ কোটি ডলার। রপ্তানির জন্য বাংলাদেশে আমদানি করা কাঁচামালে শূন্য শুল্ক সুবিধা পান আমেরিকান ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানি হওয়া ২৬২ কোটি ডলারের পণ্যের মধ্যে ১৩৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানিতে কোনো শুল্ক–কর দিতে হয়নি আমেরিকান ব্যবসায়ীদের। সয়াবিন গম, তুলার মতো পণ্যে শুল্ক-কর নেই। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে গড়ে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ শুল্ক-কর দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে কাস্টমস শুল্ক-কর আদায় করেছে ১ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ট্যারিফ রেট সব দেশের জন্য সমান। তবে সরকার চাইলে এনবিআর এসআরও জারির মাধ্যমে একক একটি দেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের বিপরীতে শুল্কহার নির্ধারণ করতে পারে। সরকার ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে এনবিআর।বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দুটো জায়গায় কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে। তাদের সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি এনবিআরকে কিছু জিনিস রিভিউ করতে হবে। আমেরিকায় রপ্তানির ক্ষেত্রে কত শতাংশ শুল্ক আছে। আমাদেশ শুল্কহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এর ওপর নানান কর থাকে। ওই করগুলো কীভাবে কমানো যায়, তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এনবিআরকে ট্যারিফ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ

বাংলাদেশে কত শুল্ক দেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা, কতটা কমানো যাবে?

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

বাংলাদেশ কণ্ঠ ।।

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাজার হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেসিপ্রকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক হল একটি বাণিজ্যনীতি যা ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চালু করেছিল। এই নীতি অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ আমেরিকার পণ্যতে ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে আমেরিকা ওই দেশের পণ্যে সমান পরিমাণ ট্যারিফ আরোপ করবে। আমেরিকা বলছে, দেশটি তাদের পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করতে ৭০ শতাংশের বেশি ট্যারিফ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক হার বিবেচনা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রের স্বার্থে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করবে তারা। করণীয় ঠিক করতে আগামী রোববার (৬ এপ্রিল) সরকারের একাধিক সংস্থার সঙ্গে আলাপ করবেন এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা তথ্যউপাত্তগুলো সংগ্রহ করছি। সেগুলো বিশ্লেষণ করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিসের ভিত্তিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, তার ভিত্তি কী, কিভাবে কী করা যায়, এ ব্যাপারে আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যা যা করণীয় আমরা তা করবো। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ যে শুল্ক রাজস্ব হিসেবে পায়, তা কমিয়ে দিলে কেমন প্রভাব পড়বে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো প্রভাবই পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্র যেসব পণ্যের কথা বলছে, সেগুলোর শুল্ক শূন্যের কোঠায়ই আছে। আমরা এগুলো দেখছি। তাদের ক্যালকুলেশন মেথডটা একটু অন্য রকম। সত্যিকার অর্থে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার মতো কোনো আইটেমই নেই। রাজস্ব বোর্ড ও আমদানি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য (খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম ও ভুট্টা), যন্ত্রপাতি এবং গাড়ি, পেট্রোলিয়াম, লোহা ও ইস্পাত পণ্য। আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইলসামগ্রী ও কৃষিপণ্য। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ৮৩৬ কোটি ডলারের পণ্য। বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে ২২১ কোটি ডলারের পণ্য। এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৬১৫ কোটি ডলার। রপ্তানির জন্য বাংলাদেশে আমদানি করা কাঁচামালে শূন্য শুল্ক সুবিধা পান আমেরিকান ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানি হওয়া ২৬২ কোটি ডলারের পণ্যের মধ্যে ১৩৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানিতে কোনো শুল্ক–কর দিতে হয়নি আমেরিকান ব্যবসায়ীদের। সয়াবিন গম, তুলার মতো পণ্যে শুল্ক-কর নেই। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে গড়ে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ শুল্ক-কর দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে কাস্টমস শুল্ক-কর আদায় করেছে ১ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ট্যারিফ রেট সব দেশের জন্য সমান। তবে সরকার চাইলে এনবিআর এসআরও জারির মাধ্যমে একক একটি দেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের বিপরীতে শুল্কহার নির্ধারণ করতে পারে। সরকার ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে এনবিআর।বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দুটো জায়গায় কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে। তাদের সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি এনবিআরকে কিছু জিনিস রিভিউ করতে হবে। আমেরিকায় রপ্তানির ক্ষেত্রে কত শতাংশ শুল্ক আছে। আমাদেশ শুল্কহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এর ওপর নানান কর থাকে। ওই করগুলো কীভাবে কমানো যায়, তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এনবিআরকে ট্যারিফ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।