দৈনন্দিন পণ্যের তুলনায় আরেকদফা সস্তা হবে তামাকপণ্য
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩ ১৯৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পাশ হলে দৈনন্দিন পণ্যের তুলনায় আরেকদফা সস্তা হয়ে পড়বে তামাকপণ্য। তরুণরা তামাক ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে, তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতা বাড়বে ও একই সঙ্গে এখাতে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। উইজডম ফর প্রগ্রেস (প্রজ্ঞা) এবং অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) বৃহস্পতিবার একটি দ্রুত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, তামাকবিরোধী প্রস্তাবগুলো আমলে না নেওয়ায় সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। একই সঙ্গে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারও বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শলাকার দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র পঞ্চাশ পয়সা (১২ দশমিক ৫০ শতাংশ)। শুধু করের হার প্রায় অপরিবর্তিত রেখে দামের স্তর বাড়ালে, বর্ধিত মূল্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তামাক কোম্পানিগুলোর পকেটে চলে যাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৭ টাকা (৩.০৮ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১১১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৩ টাকা (১.৮০ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৪২ টাকা থেকে ১৫০ টাকা (৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে জর্দা ও গুলের খুচরা মূল্য যথাক্রমে ৫ টাকা ও ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিড়ির দাম ও করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেশের ৮টি মেট্রোপলিটন শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের গড় খুচরা মূল্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২২ সালের (৭ মার্চ) তুলনায় ২০২৩ সালে (৭ মার্চ) খোলা আটার দাম বেড়েছে ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগির দাম ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ, চিনির দাম ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ডিমের দাম ২২ দশমিক ৩ শতাংশ, গুঁড়ো দুধের দাম ২১ দশমিক ২ শতাংশ, মসুর ডালের দাম ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ও মোটা চালের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকপণ্যের দাম নামমাত্র বাড়ানো অথবা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য আরো সস্তা হয়ে পড়বে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।


























