ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ:ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গাজা এখন মৃত্যু উপত্যকা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০৫ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে অমীমাংসীত এক সংঘাতে। ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলি হামলা নতুন কোনো ঘটনা না হলেও এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল (ইয়ম কিপুর) যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকীর পরদিন, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে (অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড) ইসরায়েলের ভেতরে আক্রমণ করে। তাদের হামলায় ২৯৯ সৈনিকসহ নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ইসরায়েলি নাগরিক। হামাসের এই আক্রমণের মাত্রা ও কৌশলের দিক ইসরায়েলকে ভীষণ বিস্মিত করে তোলে। অতীতে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর অনেক কৌশল অবলম্বন করলেও আগে কখনো এত দুঃসাহস দেখায়নি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এমনকি ইসরায়েলের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এটি ছিল তাদের জন্য ঐতিহাসিক অপমান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলও গাজায় হামলা শুরু করে। তাদের অবিরাম বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণে গাজার বিস্তৃত এলাকা ধুলায় মিশে যায়। টানা আড়াই মাস ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ৮০ শতাংশের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক এই হামলায় গাজা এখন মৃত্যু উপত্যকা। মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটেছে গাজায়। বর্তমানে গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এমন পরিস্থিতিতে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার সবাই বিপর্যয়কর ক্ষুধার মোকাবিলা করছে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন (আইপিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় খাদ্যসংকট বা উচ্চ পর্যায়ের তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে গাজার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ।

গাজা অবরুদ্ধ করে রেখে সেখানে খাবার, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। গাজার সকল হাসপাতালও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে অনেক নারী, শিশু ও নবজাতকও। দেয়া হয়েছে গণকবর।

পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ায় রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিশর থেকে গাজায় ট্রাকযোগে কিছু ত্রাণ পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব ট্রাকে করে খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, যে পরিমাণ খাবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা গাজার বাসিন্দাদের প্রয়োজনের মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়ে রয়েছে।

আইপিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আছে আর তা দিন দিন বাড়ছে। তীব্র শত্রুতা ও মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধ বজায় থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।

ইসরায়েলের হামলা, তাদের দাবি মতো ত্রাণ যাচাই করার সুযোগ দেওয়া, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ও জ্বালানি-সংকটের কারণে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অপ্রতুল সরবরাহের মধ্যে গাজার কিছু বেপরোয়া বাসিন্দা ত্রাণ ট্রাকগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়ে খাবার ও অন্যান্য পণ্য ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। গাজার বাসিন্দারা গাধা জবাই করে সেগুলোর মাংস খাচ্ছে ও ক্ষীণ হয়ে পড়া রোগীরা চিকিৎসা-সহায়তা চাইছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলের চলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির আহ্বানে প্রস্তাব পেশ করেছেন অনেক মুসলিম দেশ তবে এই প্রস্তাব উপেক্ষা করে ইসরায়েলের আত্মরক্ষায় সমর্থন জানিয়েছে পশ্চিমা কিছু দেশ।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ:ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গাজা এখন মৃত্যু উপত্যকা

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে অমীমাংসীত এক সংঘাতে। ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলি হামলা নতুন কোনো ঘটনা না হলেও এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল (ইয়ম কিপুর) যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকীর পরদিন, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে (অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড) ইসরায়েলের ভেতরে আক্রমণ করে। তাদের হামলায় ২৯৯ সৈনিকসহ নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ইসরায়েলি নাগরিক। হামাসের এই আক্রমণের মাত্রা ও কৌশলের দিক ইসরায়েলকে ভীষণ বিস্মিত করে তোলে। অতীতে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর অনেক কৌশল অবলম্বন করলেও আগে কখনো এত দুঃসাহস দেখায়নি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এমনকি ইসরায়েলের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এটি ছিল তাদের জন্য ঐতিহাসিক অপমান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলও গাজায় হামলা শুরু করে। তাদের অবিরাম বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণে গাজার বিস্তৃত এলাকা ধুলায় মিশে যায়। টানা আড়াই মাস ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ৮০ শতাংশের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক এই হামলায় গাজা এখন মৃত্যু উপত্যকা। মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটেছে গাজায়। বর্তমানে গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এমন পরিস্থিতিতে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার সবাই বিপর্যয়কর ক্ষুধার মোকাবিলা করছে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন (আইপিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় খাদ্যসংকট বা উচ্চ পর্যায়ের তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে গাজার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ।

গাজা অবরুদ্ধ করে রেখে সেখানে খাবার, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। গাজার সকল হাসপাতালও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে অনেক নারী, শিশু ও নবজাতকও। দেয়া হয়েছে গণকবর।

পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ায় রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিশর থেকে গাজায় ট্রাকযোগে কিছু ত্রাণ পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব ট্রাকে করে খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, যে পরিমাণ খাবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা গাজার বাসিন্দাদের প্রয়োজনের মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়ে রয়েছে।

আইপিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আছে আর তা দিন দিন বাড়ছে। তীব্র শত্রুতা ও মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধ বজায় থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।

ইসরায়েলের হামলা, তাদের দাবি মতো ত্রাণ যাচাই করার সুযোগ দেওয়া, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ও জ্বালানি-সংকটের কারণে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অপ্রতুল সরবরাহের মধ্যে গাজার কিছু বেপরোয়া বাসিন্দা ত্রাণ ট্রাকগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়ে খাবার ও অন্যান্য পণ্য ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। গাজার বাসিন্দারা গাধা জবাই করে সেগুলোর মাংস খাচ্ছে ও ক্ষীণ হয়ে পড়া রোগীরা চিকিৎসা-সহায়তা চাইছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলের চলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির আহ্বানে প্রস্তাব পেশ করেছেন অনেক মুসলিম দেশ তবে এই প্রস্তাব উপেক্ষা করে ইসরায়েলের আত্মরক্ষায় সমর্থন জানিয়েছে পশ্চিমা কিছু দেশ।