ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

অতিরিক্ত রাগ দেখিয়ে মারাত্মক রোগ ডেকে আনছেন না তো?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৭০১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

অনেকেই অতিরিক্ত রাগের সমস্যায় ভোগেন। রাগ অনেক সময় মানসিক রোগের কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই রেগে উত্তেজিত হয়ে ভুল সিদ্দান্ত নেয় বা অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন।

রাগ মানসিক চাপ বাড়ায়। এছাড়া রাগের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও হয়। ২০১৮ সালে গ্যালাপের (গ্লোবাল ইমোশনস রিপোর্ট) রিপোর্ট অনুসারে, ১৪০টি দেশের ১৫১,০০০ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২২ শতাংশই অত্যধিক রাগে ভুগছিলেন।

অন্যদিকে, ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী রাগের কারণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। আসলে রাগ হল মনের একটি অবস্থা যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন আমাদের চাপের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন তা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

যদিও একেক জনের রাগের কারণ একেক রকম। কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতিতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। জেনে নিন অতিরিক্ত রাগ ও চিৎকার কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়-

রাগে চিৎকার করলে শরীরে ৫টি জিনিস ঘটে। এর মধ্যে একটি হ’ল হঠাৎ হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি। খেয়াল করলে দেখবেন, বেশির ভাগ মানুষ রাগ করে কিছু বললে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো রাগও রক্তচাপ বাড়ায়।

এর কারণে ত্বক ও মুখ লাল হয়ে যায় এবং শিরা বেরিয়ে আসে। রেগে গেলে দ্রুত শ্বাস নিতে হয় এবং হাত পা স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। বুঝতেই পারছেন হঠাৎ রেগে গেলে শরীরের সমস্ত সিস্টেম বদলে যায়। যা কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন যে অতীতের উত্তপ্ত তর্ক স্মরণ করা বা রাগে চিৎকার করা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ ঘন্টার জন্য কমিয়ে দেয়। যারা সহজে রেগে যায় তারা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন! কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। অতিরিক্ত রাগান্বিত ব্যক্তিরা অজান্তেই বিভিন্ন শারীরিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আমরা যখন রেগে যাই, তখন স্ট্রেস রাসায়নিক আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীরকে প্লাবিত করে। একই সঙ্গে এটি মেটাবলিজমেও পরিবর্তন আনে। যারা অতিরিক্ত রাগের সমস্যা পোষণ করেন তারা নিয়মিত মাথাব্যথা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং হজমের সমস্যায় ভুগতে পারেন।

এ ছাড়া ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন একজিমা এবং বিভিন্ন চর্মরোগও শরীরে শিকড় গাড়তে পারে। এই ধরনের ব্যক্তিদের স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি থাকে।

রেগে কারও সঙ্গে তর্ক করা কিংবা উত্তপ্ত ও কঠোর শব্দ বিনিময় আপনার মস্তিষ্কেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অনেকেই রাগের মাথায় এটা সেটা বলে ফেললেও পরবর্তী সময়ে আবার সেসব কিছু মনে করতে পারেন না।

যদিও অনেকে মনে করেন এটা মিথ্যা, আসলে বেশিরভাগ মানুষই রাগের মাথায় বলা কথাগুলো খুব সহজেই ভুলে যায়!

জেনে অবাক হতে পারেন যে রাগ করে চিৎকার করলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে! কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামনে বাবা-মায়ের চিৎকার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে বাধা দেয়। তাদের মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। এই ধরনের শিশুরা বড় হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে পারে। এর মধ্যে পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা ও বাতের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

অতিরিক্ত রাগ দেখিয়ে মারাত্মক রোগ ডেকে আনছেন না তো?

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধি:

অনেকেই অতিরিক্ত রাগের সমস্যায় ভোগেন। রাগ অনেক সময় মানসিক রোগের কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই রেগে উত্তেজিত হয়ে ভুল সিদ্দান্ত নেয় বা অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন।

রাগ মানসিক চাপ বাড়ায়। এছাড়া রাগের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও হয়। ২০১৮ সালে গ্যালাপের (গ্লোবাল ইমোশনস রিপোর্ট) রিপোর্ট অনুসারে, ১৪০টি দেশের ১৫১,০০০ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২২ শতাংশই অত্যধিক রাগে ভুগছিলেন।

অন্যদিকে, ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী রাগের কারণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। আসলে রাগ হল মনের একটি অবস্থা যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন আমাদের চাপের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন তা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

যদিও একেক জনের রাগের কারণ একেক রকম। কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতিতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। জেনে নিন অতিরিক্ত রাগ ও চিৎকার কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়-

রাগে চিৎকার করলে শরীরে ৫টি জিনিস ঘটে। এর মধ্যে একটি হ’ল হঠাৎ হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি। খেয়াল করলে দেখবেন, বেশির ভাগ মানুষ রাগ করে কিছু বললে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো রাগও রক্তচাপ বাড়ায়।

এর কারণে ত্বক ও মুখ লাল হয়ে যায় এবং শিরা বেরিয়ে আসে। রেগে গেলে দ্রুত শ্বাস নিতে হয় এবং হাত পা স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। বুঝতেই পারছেন হঠাৎ রেগে গেলে শরীরের সমস্ত সিস্টেম বদলে যায়। যা কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন যে অতীতের উত্তপ্ত তর্ক স্মরণ করা বা রাগে চিৎকার করা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ ঘন্টার জন্য কমিয়ে দেয়। যারা সহজে রেগে যায় তারা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন! কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। অতিরিক্ত রাগান্বিত ব্যক্তিরা অজান্তেই বিভিন্ন শারীরিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আমরা যখন রেগে যাই, তখন স্ট্রেস রাসায়নিক আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীরকে প্লাবিত করে। একই সঙ্গে এটি মেটাবলিজমেও পরিবর্তন আনে। যারা অতিরিক্ত রাগের সমস্যা পোষণ করেন তারা নিয়মিত মাথাব্যথা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং হজমের সমস্যায় ভুগতে পারেন।

এ ছাড়া ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন একজিমা এবং বিভিন্ন চর্মরোগও শরীরে শিকড় গাড়তে পারে। এই ধরনের ব্যক্তিদের স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি থাকে।

রেগে কারও সঙ্গে তর্ক করা কিংবা উত্তপ্ত ও কঠোর শব্দ বিনিময় আপনার মস্তিষ্কেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অনেকেই রাগের মাথায় এটা সেটা বলে ফেললেও পরবর্তী সময়ে আবার সেসব কিছু মনে করতে পারেন না।

যদিও অনেকে মনে করেন এটা মিথ্যা, আসলে বেশিরভাগ মানুষই রাগের মাথায় বলা কথাগুলো খুব সহজেই ভুলে যায়!

জেনে অবাক হতে পারেন যে রাগ করে চিৎকার করলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে! কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামনে বাবা-মায়ের চিৎকার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে বাধা দেয়। তাদের মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। এই ধরনের শিশুরা বড় হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে পারে। এর মধ্যে পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা ও বাতের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।