ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি সড়ক বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি গণপূর্ত বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  শুভেচ্ছা। Logo মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, ইসির হাতে ভোটার তালিকা; শিগগির তফসিল Logo ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলের Logo ধামরাইয়ে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত Logo যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Logo ২৪০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের কিউডি-ওএলইডি মনিটর আনলো গিগাবাইট

অতিরিক্ত রাগ দেখিয়ে মারাত্মক রোগ ডেকে আনছেন না তো?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৬১৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

অনেকেই অতিরিক্ত রাগের সমস্যায় ভোগেন। রাগ অনেক সময় মানসিক রোগের কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই রেগে উত্তেজিত হয়ে ভুল সিদ্দান্ত নেয় বা অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন।

রাগ মানসিক চাপ বাড়ায়। এছাড়া রাগের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও হয়। ২০১৮ সালে গ্যালাপের (গ্লোবাল ইমোশনস রিপোর্ট) রিপোর্ট অনুসারে, ১৪০টি দেশের ১৫১,০০০ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২২ শতাংশই অত্যধিক রাগে ভুগছিলেন।

অন্যদিকে, ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী রাগের কারণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। আসলে রাগ হল মনের একটি অবস্থা যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন আমাদের চাপের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন তা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

যদিও একেক জনের রাগের কারণ একেক রকম। কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতিতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। জেনে নিন অতিরিক্ত রাগ ও চিৎকার কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়-

রাগে চিৎকার করলে শরীরে ৫টি জিনিস ঘটে। এর মধ্যে একটি হ’ল হঠাৎ হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি। খেয়াল করলে দেখবেন, বেশির ভাগ মানুষ রাগ করে কিছু বললে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো রাগও রক্তচাপ বাড়ায়।

এর কারণে ত্বক ও মুখ লাল হয়ে যায় এবং শিরা বেরিয়ে আসে। রেগে গেলে দ্রুত শ্বাস নিতে হয় এবং হাত পা স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। বুঝতেই পারছেন হঠাৎ রেগে গেলে শরীরের সমস্ত সিস্টেম বদলে যায়। যা কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন যে অতীতের উত্তপ্ত তর্ক স্মরণ করা বা রাগে চিৎকার করা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ ঘন্টার জন্য কমিয়ে দেয়। যারা সহজে রেগে যায় তারা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন! কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। অতিরিক্ত রাগান্বিত ব্যক্তিরা অজান্তেই বিভিন্ন শারীরিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আমরা যখন রেগে যাই, তখন স্ট্রেস রাসায়নিক আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীরকে প্লাবিত করে। একই সঙ্গে এটি মেটাবলিজমেও পরিবর্তন আনে। যারা অতিরিক্ত রাগের সমস্যা পোষণ করেন তারা নিয়মিত মাথাব্যথা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং হজমের সমস্যায় ভুগতে পারেন।

এ ছাড়া ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন একজিমা এবং বিভিন্ন চর্মরোগও শরীরে শিকড় গাড়তে পারে। এই ধরনের ব্যক্তিদের স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি থাকে।

রেগে কারও সঙ্গে তর্ক করা কিংবা উত্তপ্ত ও কঠোর শব্দ বিনিময় আপনার মস্তিষ্কেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অনেকেই রাগের মাথায় এটা সেটা বলে ফেললেও পরবর্তী সময়ে আবার সেসব কিছু মনে করতে পারেন না।

যদিও অনেকে মনে করেন এটা মিথ্যা, আসলে বেশিরভাগ মানুষই রাগের মাথায় বলা কথাগুলো খুব সহজেই ভুলে যায়!

জেনে অবাক হতে পারেন যে রাগ করে চিৎকার করলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে! কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামনে বাবা-মায়ের চিৎকার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে বাধা দেয়। তাদের মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। এই ধরনের শিশুরা বড় হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে পারে। এর মধ্যে পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা ও বাতের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

অতিরিক্ত রাগ দেখিয়ে মারাত্মক রোগ ডেকে আনছেন না তো?

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধি:

অনেকেই অতিরিক্ত রাগের সমস্যায় ভোগেন। রাগ অনেক সময় মানসিক রোগের কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই রেগে উত্তেজিত হয়ে ভুল সিদ্দান্ত নেয় বা অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন।

রাগ মানসিক চাপ বাড়ায়। এছাড়া রাগের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও হয়। ২০১৮ সালে গ্যালাপের (গ্লোবাল ইমোশনস রিপোর্ট) রিপোর্ট অনুসারে, ১৪০টি দেশের ১৫১,০০০ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২২ শতাংশই অত্যধিক রাগে ভুগছিলেন।

অন্যদিকে, ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী রাগের কারণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। আসলে রাগ হল মনের একটি অবস্থা যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন আমাদের চাপের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন তা প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

যদিও একেক জনের রাগের কারণ একেক রকম। কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতিতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। জেনে নিন অতিরিক্ত রাগ ও চিৎকার কোন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়-

রাগে চিৎকার করলে শরীরে ৫টি জিনিস ঘটে। এর মধ্যে একটি হ’ল হঠাৎ হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি। খেয়াল করলে দেখবেন, বেশির ভাগ মানুষ রাগ করে কিছু বললে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো রাগও রক্তচাপ বাড়ায়।

এর কারণে ত্বক ও মুখ লাল হয়ে যায় এবং শিরা বেরিয়ে আসে। রেগে গেলে দ্রুত শ্বাস নিতে হয় এবং হাত পা স্বাভাবিকের চেয়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। বুঝতেই পারছেন হঠাৎ রেগে গেলে শরীরের সমস্ত সিস্টেম বদলে যায়। যা কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন যে অতীতের উত্তপ্ত তর্ক স্মরণ করা বা রাগে চিৎকার করা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ ঘন্টার জন্য কমিয়ে দেয়। যারা সহজে রেগে যায় তারা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন! কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। অতিরিক্ত রাগান্বিত ব্যক্তিরা অজান্তেই বিভিন্ন শারীরিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

আমরা যখন রেগে যাই, তখন স্ট্রেস রাসায়নিক আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীরকে প্লাবিত করে। একই সঙ্গে এটি মেটাবলিজমেও পরিবর্তন আনে। যারা অতিরিক্ত রাগের সমস্যা পোষণ করেন তারা নিয়মিত মাথাব্যথা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং হজমের সমস্যায় ভুগতে পারেন।

এ ছাড়া ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন একজিমা এবং বিভিন্ন চর্মরোগও শরীরে শিকড় গাড়তে পারে। এই ধরনের ব্যক্তিদের স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি থাকে।

রেগে কারও সঙ্গে তর্ক করা কিংবা উত্তপ্ত ও কঠোর শব্দ বিনিময় আপনার মস্তিষ্কেও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অনেকেই রাগের মাথায় এটা সেটা বলে ফেললেও পরবর্তী সময়ে আবার সেসব কিছু মনে করতে পারেন না।

যদিও অনেকে মনে করেন এটা মিথ্যা, আসলে বেশিরভাগ মানুষই রাগের মাথায় বলা কথাগুলো খুব সহজেই ভুলে যায়!

জেনে অবাক হতে পারেন যে রাগ করে চিৎকার করলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে! কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামনে বাবা-মায়ের চিৎকার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে বাধা দেয়। তাদের মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। এই ধরনের শিশুরা বড় হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে পারে। এর মধ্যে পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা ও বাতের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।