মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রত্যেক ভারতীয় সেনাকে সরতে হবে: ড. মুইজ্জু
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ২৩৪ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গত সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মোহামেদ মুইজ্জু। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর, তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করেছিলেন এবং তাকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রত্যেক ভারতীয় সেনাকে সরতে হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জু বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আমি ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি এবং তাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি মালদ্বীপের মাটিতে একজনও ভারতীয় সেনা থাকতে পারবে না। দ্রুতই তাদেরকে সরিয়ে নিতে হবে।’
ড. মোহামেদ মুইজ্জু আরো বলেন, ‘আমরা চাই না বিদেশী সৈন্যরা মালদ্বীপের মাটিতে থাকুক। আমি মালদ্বীপের জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে একদিন আমি বিদেশী সৈন্যদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করব।’
মালদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় প্রভাব রয়েছে। এমতাবস্থায় চীনপন্থি ড. মোহামেদ মুইজ্জু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় দিল্লির সঙ্গে মালের কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মেদ সলিহ ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি দিল্লির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। দেশটির সাথে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং ভারতকে মালদ্বীপের ভূখণ্ডে একটি ছোট সামরিক বাহিনী পরিচালনা করার অনুমতি দেয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ড. মোহামেদ মুইজ্জু নির্বাচিত হওয়া ভারতের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্যবেক্ষণের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক জায়গায় অবস্থিত এ দ্বীপরাষ্ট্রকে পাশে রাখতে চায় ভারত। এজন্য দেশটিকে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে নয়া দিল্লি। এখন যদি ভারতের সৈন্যদের চলে যেতে বাধ্য করা হয় তবে তা হবে দিল্লির জন্য একটি বড় ধাক্কা।
প্রসঙ্গত, দিল্লি ২০১০ এবং ২০১৩ সালে দুটি হেলিকপ্টার এবং ২০২০ সালে একটি ছোট বিমান মালদ্বীপকে উপহার দিয়েছিল। দিল্লি বলেছে যে ক্রাফট দুটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধার উভয় কাজেই ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ২০২১ সালে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে যে ৭৫ জন ভারতীয় সামরিক কর্মী ভারতীয় বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশে অবস্থান করছে। এটি সন্দেহ এবং ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে কারণ অনেকেই মনে করেছিলেন যে বিমানগুলিকে মালদ্বীপে ভারতীয় সৈন্যদের রাখার জন্য একটি অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।





















