সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধ করে দেওয়া ইটভাটা ফের চালুর চেষ্টা, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পরিবেশ অধিদপ্তরের
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৬৪ বার পঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ ও সিলগালা করে দেওয়া একটি ইটভাটা ফের চালুর প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। গত মার্চে ওই ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাপায় এক শিক্ষক নিহত হওয়ার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় ইটভাটাটি বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় পাঁচ মাস পর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে ইট তৈরির জন্য চুলা সাজানোর কাজ চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের শশীর মোড় এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বলে অভিযোগ থাকা (বিবিসি ব্রিকস) নামের ইটভাটায় ইট তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সেখানে চুলা সাজানোর কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ বেলা ১১টার দিকে কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর এলাকায় বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রিমন হোসেন (৩০) নিহত হন। তিনি কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সেদিন রিমন হোসেন মোটরসাইকেলে করে প্রাইভেট পড়াতে আড়চা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা শশীর মোড়ে অবস্থিত বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকুতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাঁরা নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইটভাটাটি বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধরা সড়ক থেকে সরে যান।
পরে প্রশাসনের উদ্যোগে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ ও চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয় এবং ইটভাটাটি সিলগালা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জরিপে নওগাঁ জেলায় মোট ১৫০টি সচল ইটভাটার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২৫টি ইটভাটার কোনো ছাড়পত্র নেই বলে জানা গেছে।
বিবিসি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী শহীদকে একাধিকবার কল করার পর পরিবেশের ছাড়পত্র নেই জানিয়ে ফোন কল কেটে দেন।
নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন, ইটভাটাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে এর চুল্লি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ইটভাটাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আবারও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাপায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন ইটভাটাটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় এবং ভবিষ্যতে যাতে অবৈধভাবে এটি চালু করা না যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




















