ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

চাচা-চাচির লাশের মধ্যে লুকিয়ে থেকেও প্রাণে বাঁচলো না ৬ বছরের হিন্দ!

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২০৩ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজায় একটি পরিবারের গাড়িতে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গুলি চালানোর ঘটনার ১২ দিন পর ওই পরিবারের ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মেয়ে হিন্দ রজবের লাশ পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, হিন্দ, তার চাচা, চাচি এবং তাদের তিন সন্তানের মৃতদেহ শহরের তাল আল-হাওয়া শহরতলির একটি গোলচত্বরের কাছে পাওয়া গেছে।

হিন্দের আরেক চাচা সামেহ হামাদেহ বলেছেন, পরিবারটিকে বহনকারী গাড়িটি বুলেটে বিদ্ধ হয়ে ছিদ্র হয়ে গিয়েছিল।

প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছে যে গাড়ির ভিতরে থাকা পরিবারের পাঁচ সদস্যই নিহত হয়েছে। এছাড়া তাদের উদ্ধারে পাঠানো রেড ক্রিসেন্টের দুইজন ক্রুও মারা গেছেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সেই হামলায় তারা তাদের ক্রু সদস্য ইউসুফ জেইনো এবং আহমেদ আল-মাদউনকে হারিয়েছেন।

কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে যে ২৯শে জানুয়ারি হিন্দ রজব তার চাচা ও চাচি এবং তিন চাচাতো ভাইয়ের সাথে গাজা শহর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী তাল-আল-হাওয়াতে যাচ্ছিল। পথে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো তাদের বহনকারী যানবাহনে গুলি চালায়। গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ সময় ছোট শিশু হিন্দ রজব গাড়িতে বসে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) জরুরি নম্বরে ফোন করে তাকে বাঁচাতে বলে।

সে বলতে থাকে, ‘আমি খুব ভয় পাচ্ছি। দয়া করে তোমরা আসো। অনুগ্রহ করে কাউকে এসে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলুন’। এসময় ফোনের এপাশ থেকে ব্যাপক গুলির শব্দ পান পিআরসিএসের জরুরি কল অপারেটরের।

কল অপারেটর শিশুটিকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, সেই সময় হিন্দের কান্না শোনা যাচ্ছিল।

কল অপারেটরদের সাথে হিন্দের কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে। বোঝা যায় সে সময় হিন্দ ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে গাড়িতে থাকা স্বজনদের লাশের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন।

সেদিন কল কেটে যাওয়ার পর পিআরসিএস-এর দুই সদস্য হিন্দকে উদ্ধার করতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু এরপর থেকে তাদেরও আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

ঘটনার বারো দিন পর, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি শনিবার বলেছে যে হিন্দ একটি কালো কিয়া গাড়িতে চার পরিবারের সদস্যদের সাথে ছিল। ১২ দিন ধরে গাড়িটি সেখানে পড়ে আছে। এর উইন্ডস্ক্রিন এবং ড্যাশবোর্ড টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। গাড়ির চারপাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। গাড়ির পিছনে কয়েক মিটার উল্টো শুয়ে আছে যে অ্যাম্বুলেন্সটি হিন্দকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ওই গাড়ির ভেতরেই দুই ক্রু সদস্যের লাশও পাওয়া গেছে।

তারা আরও বলেন, প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা গত ১২ দিন ধরে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবিসির কাছে পিআরসিএস দাবি করেছে, শিশুটিকে উদ্ধার করতে যাওয়া রেডক্রসের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

চাচা-চাচির লাশের মধ্যে লুকিয়ে থেকেও প্রাণে বাঁচলো না ৬ বছরের হিন্দ!

আপডেট সময় : ০২:২৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গাজায় একটি পরিবারের গাড়িতে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গুলি চালানোর ঘটনার ১২ দিন পর ওই পরিবারের ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মেয়ে হিন্দ রজবের লাশ পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, হিন্দ, তার চাচা, চাচি এবং তাদের তিন সন্তানের মৃতদেহ শহরের তাল আল-হাওয়া শহরতলির একটি গোলচত্বরের কাছে পাওয়া গেছে।

হিন্দের আরেক চাচা সামেহ হামাদেহ বলেছেন, পরিবারটিকে বহনকারী গাড়িটি বুলেটে বিদ্ধ হয়ে ছিদ্র হয়ে গিয়েছিল।

প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছে যে গাড়ির ভিতরে থাকা পরিবারের পাঁচ সদস্যই নিহত হয়েছে। এছাড়া তাদের উদ্ধারে পাঠানো রেড ক্রিসেন্টের দুইজন ক্রুও মারা গেছেন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সেই হামলায় তারা তাদের ক্রু সদস্য ইউসুফ জেইনো এবং আহমেদ আল-মাদউনকে হারিয়েছেন।

কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে যে ২৯শে জানুয়ারি হিন্দ রজব তার চাচা ও চাচি এবং তিন চাচাতো ভাইয়ের সাথে গাজা শহর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী তাল-আল-হাওয়াতে যাচ্ছিল। পথে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো তাদের বহনকারী যানবাহনে গুলি চালায়। গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ সময় ছোট শিশু হিন্দ রজব গাড়িতে বসে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) জরুরি নম্বরে ফোন করে তাকে বাঁচাতে বলে।

সে বলতে থাকে, ‘আমি খুব ভয় পাচ্ছি। দয়া করে তোমরা আসো। অনুগ্রহ করে কাউকে এসে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলুন’। এসময় ফোনের এপাশ থেকে ব্যাপক গুলির শব্দ পান পিআরসিএসের জরুরি কল অপারেটরের।

কল অপারেটর শিশুটিকে শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, সেই সময় হিন্দের কান্না শোনা যাচ্ছিল।

কল অপারেটরদের সাথে হিন্দের কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে। বোঝা যায় সে সময় হিন্দ ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে গাড়িতে থাকা স্বজনদের লাশের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন।

সেদিন কল কেটে যাওয়ার পর পিআরসিএস-এর দুই সদস্য হিন্দকে উদ্ধার করতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু এরপর থেকে তাদেরও আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

ঘটনার বারো দিন পর, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি শনিবার বলেছে যে হিন্দ একটি কালো কিয়া গাড়িতে চার পরিবারের সদস্যদের সাথে ছিল। ১২ দিন ধরে গাড়িটি সেখানে পড়ে আছে। এর উইন্ডস্ক্রিন এবং ড্যাশবোর্ড টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। গাড়ির চারপাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। গাড়ির পিছনে কয়েক মিটার উল্টো শুয়ে আছে যে অ্যাম্বুলেন্সটি হিন্দকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ওই গাড়ির ভেতরেই দুই ক্রু সদস্যের লাশও পাওয়া গেছে।

তারা আরও বলেন, প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা গত ১২ দিন ধরে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবিসির কাছে পিআরসিএস দাবি করেছে, শিশুটিকে উদ্ধার করতে যাওয়া রেডক্রসের অ্যাম্বুলেন্সটিকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।