কোবে বিফ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বাংলাদেশে প্ল্যান্ট স্থাপনে ইচ্ছুক জাপান
- আপডেট সময় : ০২:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩ ৪২০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
জাপানে এক বিশেষ ধরনের কালো রঙের গরু উৎপাদন হয়। ‘কোবে বিফ’ নামে পরিচিত এই বিশেষ গরুর মাংস বিশ্বের সবচেয়ে দামি গরুর মাংস হিসেবে পরিচিত। কোবে গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত করতে বাংলাদেশে একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি। এস ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠান জাপান থেকে এই মাংস এনে প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশে বিক্রি করতে চায়।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকে কোম্পানির কর্পোরেট কর্মকর্তা ও বিজনেস গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক শিনিচি মিয়াওয়াকি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় জাপানের আরও ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, সালমান এফ রহমান এস ফুডসের প্রতিনিধির কাছে জানতে চান, তারা হালাল উপায়ে মাংস রপ্তানি করতে পারবেন কি না? এ ছাড়া তারা বাংলাদেশে ওইসব গরুর খামার করতে চান কি না?
মিয়াওয়াকি জানান, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও তারা এসব পণ্য রপ্তানি করছেন। এ কারণে তাদের হালাল সনদ রয়েছে। তারা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের জন্য জাপান থেকে মাংস বাংলাদেশে আনতে চায়।
জাপানি কোবে গরুর মাংসকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গরুর মাংস। এর দাম প্রতি কেজি ২৪০০০ থেকে ৩৫০০০ টাকা। তাজিমা জাতের গরু থেকে এই মাংস উৎপাদিত হয়।
এই মাংস শুধু দাম বা স্বাদের দিক থেকে নয়, রঙ ও গন্ধের দিক থেকেও আলাদা। এটি এমন একটি খাবার যা এর সমৃদ্ধ চর্বি, নরম এবং তুলতুলে মাংস এবং স্বাদের জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তাজিমা গরু উৎপাদনের জন্য পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের গরু অত্যন্ত উন্নত ও চাপমুক্ত পরিবেশে পালন করা হয়। উচ্চ মানের কোবে মাংস উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট খাওয়ানোর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ঐতিহ্য ধরে রাখতে জাপান কর্তৃপক্ষ বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখে। তবে এ ধরনের মাংস উৎপাদনের খুবই সামান্য অংশ রপ্তানি করা হয়। ২০২২ সালে, জাপান ৭৭৭৮ মেট্রিক টন কোবের মাংস রপ্তানি করেছে।
জানতে চাইলে এস ফুডস ইনকর্পোরেটেডের বিজনেস গ্রুপের কর্পোরেট অফিসার ও জেনারেল ম্যানেজার শিনিচি মিয়াওয়াকি বলেন, আমরা জাপান থেকে গরুর মাংস এনে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা করছি। সুস্বাদু এই মাংস হালাল পদ্ধতিতে রপ্তানির বিষয়ে বেসরকারি উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।
এস ফুডস ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জাপানের বাইরে আমেরিকা, কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর সহ বিভিন্ন দেশে এর ফুড চেইন রয়েছে।




















