সংবাদ শিরোনাম :
উজিরপুর হাসপাতালের বদ্ধ কক্ষে সরকারি ওষুধ- সরঞ্জামের পাহাড়: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৪:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পঠিত

রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের তালাবদ্ধ একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম পাওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের তালাবদ্ধ একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১১ জুলাই একটি অফিস আদেশ জারি করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের আলোকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংরক্ষণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বে গাফিলতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাবুগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে এম মনিরুল ইসলাম কে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, বিভিন্ন বিভাগের কনসালট্যান্ট, প্রধান সহকারী, সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টোর কিপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে—দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম তালাবদ্ধ কক্ষে কেন রাখা হয়েছিল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাসময়ে বিধি অনুযায়ী অপসারণ বা ধ্বংস করা হয়নি কেন, সরকারি সম্পদের অপচয় বা অব্যবস্থাপনা ঘটেছে কি না এবং এসব ঘটনার জন্য কারও অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা রয়েছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। তদন্তে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা সরকারি সম্পদের অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ, বিতরণ ও হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দীর্ঘদিনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও বিভিন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্য প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
























