২,৭৮০ টাকার লাইসেন্সে নেওয়া হয় ১০ হাজার, তদন্তে কর্মীর স্বীকারোক্তি
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৬ (বাসন) কার্যালয়ে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে সরকারি ফি ২ হাজার ৭৮০ টাকা। কিন্তু এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এই লাইসেন্স নবায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনের তদন্তে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তিভিত্তিক কর্মী মো. আওলাদ হোসেন ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনে দাখিল করা লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাসন এলাকার ব্যবসায়ী সেকান্দার হোসেন তাঁর প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য অঞ্চল-৬ কার্যালয়ে গেলে নবায়ন প্রক্রিয়ায় তাঁকে সহযোগিতা করেন আওলাদ হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় লাইসেন্স নবায়নের জন্য তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
সেকান্দার হোসেনের অভিযোগ, তিনি দাবিকৃত ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে তাঁকে দেওয়া হয় ২ হাজার ৭৮০ টাকার রশিদ। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি গুদাম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বাড়তি অর্থ প্রয়োজন হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়।
তবে সিটি করপোরেশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সরকারি ফি হিসেবে ২ হাজার ৭৮০ টাকা গ্রহণের রশিদ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সেকান্দার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আওলাদ হোসেন ১০ হাজার টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে ২ হাজার ৭৮০ টাকার রশিদ দেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। অর্থাৎ, সরকারি ফির চেয়ে অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ২২০ টাকা। ওই অতিরিক্ত অর্থ কেন নেওয়া হয়েছিল এবং এর কোনো হিসাব বা অনুমোদন ছিল কি না—এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একই কার্যালয় ঘিরে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার আরও একটি অভিযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর ২ হাজার ৭৮০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পৃথক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, আওলাদ হোসেনকে নিয়ে এর আগেও প্রশাসনিক পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁকে অঞ্চল-৬ (বাসন) কার্যালয় থেকে অঞ্চল-২ (পূবাইল) কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরদিন তাঁকে বাসন কার্যালয় থেকে অবমুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাসন কার্যালয়ের লাইসেন্স শাখায় কাজ করার সময় বিভিন্ন বিষয়ে আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বদলির পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তিনি বিভিন্ন অভিযোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে বাসন কার্যালয়ের লাইসেন্স কর্মকর্তা মো. গোলাম রসুল এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধেও তাঁর অভিযোগ করার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. আওলাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।












