ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হবেনা : ইসরায়েলি সেনাপ্রধান Logo ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা Logo ৬ বিভাগে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা Logo ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আসল খরচ’ হতে পারে ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলার Logo প্রথম ভোটযুদ্ধেই বাজিমাত করলেন থালাপতি বিজয় Logo ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo নাহিদ ইসলাম দুর্নীতিতে জড়িত না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ: রাশেদ খাঁন Logo আবারও বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম Logo বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি Logo ক্লিন ও গ্রিন ঢাকা গড়তে ১২ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২৪ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ।।

বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতেও তারা ধর্মকে কখনো রাজনীতির হাতিয়ার বানাননি এবং ভবিষ্যতেও সে পথে হাঁটার কোনো পরিকল্পনা নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বসবাসরত সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রতি তিনি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী আছে। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে এবং প্রত্যেকটির নিজস্ব নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকা, চুরি না করা, ব্যভিচার পরিহার, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা এবং সকল জীবের প্রতি দয়ার শিক্ষা বৌদ্ধধর্মে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, এসব নীতিমালা কেবল ধর্মীয় অনুসারীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিকরা নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষাও অনুসরণ করলে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের অঙ্গীকার হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় অধিকার পালন করতে পারবেন। দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার”—এই নীতিতেই সরকার বিশ্বাস করে। বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সে সময় ধর্ম বা বিশ্বাসের পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ সবার—এখানে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দর্শনই দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ যেন নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করেন। রাষ্ট্র সবার এবং সকল নাগরিকের পরিচয় একটাই—‘আমরা বাংলাদেশি’। শেষে তিনি আবারও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান এবং দিনটি সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক বলে প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বুদ্ধমূর্তির প্রতীকী উপহার তুলে দেওয়া হয়।

ট্যাগস :

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:৩৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ।।

বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতেও তারা ধর্মকে কখনো রাজনীতির হাতিয়ার বানাননি এবং ভবিষ্যতেও সে পথে হাঁটার কোনো পরিকল্পনা নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বসবাসরত সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রতি তিনি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী আছে। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে এবং প্রত্যেকটির নিজস্ব নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকা, চুরি না করা, ব্যভিচার পরিহার, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা এবং সকল জীবের প্রতি দয়ার শিক্ষা বৌদ্ধধর্মে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, এসব নীতিমালা কেবল ধর্মীয় অনুসারীদের জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিকরা নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষাও অনুসরণ করলে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের অঙ্গীকার হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় অধিকার পালন করতে পারবেন। দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার”—এই নীতিতেই সরকার বিশ্বাস করে। বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সে সময় ধর্ম বা বিশ্বাসের পার্থক্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ সবার—এখানে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দর্শনই দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ যেন নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করেন। রাষ্ট্র সবার এবং সকল নাগরিকের পরিচয় একটাই—‘আমরা বাংলাদেশি’। শেষে তিনি আবারও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান এবং দিনটি সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক বলে প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বুদ্ধমূর্তির প্রতীকী উপহার তুলে দেওয়া হয়।