ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী, বোর্ডভিত্তিক সংখ্যা কত Logo দেশের বর্তমান গ্যাস মজুত দিয়ে আগামী ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভবঃ জ্বালানিমন্ত্রী Logo কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পথচারী নিহত Logo বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ Logo বরিশালে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই নিয়ে তোলপাড় Logo রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠিত Logo বনানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট Logo গাজীপুরে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে গাকৃবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

দেশে আবারও আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ১৯.০২.২০২৬ ।।

**সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ভূমিকম্প, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত**

১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্র করে এক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও বেশ কয়েকটি সেকেন্ড ধরে টের পাওয়া যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের সময় ছিল দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। যদিও এই কম্পন থেকে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কিছু সময়ের জন্য কর্মজীবী মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, বিশেষ করে ছাতক ছিল এর মূল কেন্দ্র। ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে ছাতক উপজেলার মধ্যে এই কম্পনটির উৎপত্তি।

এবারের ভূমিকম্পের বিশেষত্ব ছিল এর গভীরতা। সাধারণত বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পগুলো অগভীর হলেও এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছিল, যা ভূ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে বিরল এবং গভীর বলে বিবেচিত। এই কারণে ভূমিকম্পের তীব্রতা তেমন বেশি অনুভূত হয়নি, যার ফলে বড় ধরনের কোনো স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি ছিল না। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন বিশেষত ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বেশ ভালোভাবে কম্পনটি অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্পের পরপরই ঢাকার বহুতল ভবনগুলো থেকে অনেক মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তী কোনো আফটারশক বা বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা আছে কি না, তা যাচাই করছেন।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, সিলেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে চিহ্নিত। আজকের এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পটি সেই প্রাকৃতিক ঝুঁকি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, তারা মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর যাচাই করছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং ভূমিকম্পের সময় করণীয় পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

দেশে আবারও আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প

আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ১৯.০২.২০২৬ ।।

**সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ভূমিকম্প, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত**

১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলাকে কেন্দ্র করে এক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও বেশ কয়েকটি সেকেন্ড ধরে টের পাওয়া যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের সময় ছিল দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। যদিও এই কম্পন থেকে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কিছু সময়ের জন্য কর্মজীবী মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, বিশেষ করে ছাতক ছিল এর মূল কেন্দ্র। ‘মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ অ্যাপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে ছাতক উপজেলার মধ্যে এই কম্পনটির উৎপত্তি।

এবারের ভূমিকম্পের বিশেষত্ব ছিল এর গভীরতা। সাধারণত বাংলাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পগুলো অগভীর হলেও এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছিল, যা ভূ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে বিরল এবং গভীর বলে বিবেচিত। এই কারণে ভূমিকম্পের তীব্রতা তেমন বেশি অনুভূত হয়নি, যার ফলে বড় ধরনের কোনো স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি ছিল না। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন বিশেষত ছাতক, সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বেশ ভালোভাবে কম্পনটি অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্পের পরপরই ঢাকার বহুতল ভবনগুলো থেকে অনেক মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তী কোনো আফটারশক বা বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা আছে কি না, তা যাচাই করছেন।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, সিলেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে চিহ্নিত। আজকের এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পটি সেই প্রাকৃতিক ঝুঁকি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, তারা মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর যাচাই করছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং ভূমিকম্পের সময় করণীয় পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।