ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

ঘূর্ণিঝড় মিধিলি:তলিয়ে গেছে পেঁয়াজ-রসুনসহ মশলা জাতীয় ফসলী মাঠ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১৭১ বার পঠিত

শাহরিয়ার আহমেদ রিয়াজ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে দেশের স্থলভাগে দুইদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি ঝড়ছে। শরীয়তপুরে এ বছর পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, কালোজিরাসহ, মশলা জাতীয় রবিশস্য চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৩৩৭ হেক্টর জমিতে। আমন ধান চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমিতে। মশলা জাতীয় রবিশস্য বেশিদিন পানির নিচে থাকলে নষ্ট হয়ে যায়। ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে দুইদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি না থামায় মশলা জাতীয় ফসলগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমন ধান যা চাষ হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ ঘরে তুলে নিয়েছে কৃষক। বাকি ৪০ ভাগ এখনও মাঠে। এই ৪০ ভাগ আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে শরীয়তপুরের আমন ধানসহ মশলা জাতীয় রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে বৃষ্টির পানি অন্যত্র চলে গেলে ফসলের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। মশলা জাতীয় রবিশস্যের বীজ ও চারা সাধারণত চার দিন থেকে এক সপ্তাহ পানির নিচে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলার ফসলী মাঠে ইতোমধ্যে পানি জমে মশলা জাতীয় ফসলগুলো তলিয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।

জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিতে পাকা আমন ধানসহ মশলা জাতীয় রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, কালোজিরা, মরিচসহ অন্যান্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও রসুন চাষীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁয়াজ, রসুনের বীজ থেকে মাটি ফুঁড়ে চারা গজাতে দেখা গেছে মাত্র এক সপ্তাহ আগে থেকে। মিধিলির প্রভাবে মুষলধারে বৃষ্টির জমাট বাঁধা পানিতে এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি এত বেশি হয়েছে যে, ফসলের চাঁরা মাটি থেকে উপড়ে গিয়ে পানিতে ভেসে এক জায়গায় একত্রিত হয়ে গেছে। ঋণ করে এসব ফসল চাষ করা কৃষকদের পথে বসতে হবে এখন।
নশাসন এলাকার কৃষক হাকিম মিয়া বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বেশি লাভের আশায় পেঁয়াজ ও রসুন চাষ করেছিলাম। তিন চারদিন আগে চারা গজিয়েছে আমার জমিতে। সেই চারাগুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। ভেসেও গেছে অনেকটা। কিস্তির টাকা শোধ করব কীভাবে এখন আমি? ঘূর্ণিঝড় মিধিলি আমাকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেল।

নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর ইউনিয়নের কৃষক রব মাদবর বলেন, হঠাৎ করেই গতকাল থেকে বৃষ্টি নামায় আমার চাষ করা কালোজিরা, ধনিয়া ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। মিধিলি নামে নাকি ঘুর্ণিঝড় এসেছে। সেই ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হয়ে আমার জমি এখন পানির নিচে। বৃষ্টি শেষ হলে আমাকে আবার নতুন করে বীজ রোপন করতে হবে।

সখিপুর এলাকার কৃষক রুহুল আমিন বলেন, গতকাল সকালে ফসলের জমিতে গেছিলাম কেমন চারা গজিয়েছে তা দেখতে। হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামল। বৃষ্টিতে আমার ফসলের জমিতে পানি জমে গেছে। এই পানি নদী বা খালে নামতে সময় লাগবে। কিন্তু এখন আবার বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে। আমার পিঁয়াজ, রসুন সব শেষ হয়ে গেল।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, শরীয়তপুরে দুইদিন ধরে ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিগুলো ফসলের মাঠ থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। আমন ধান বেশিরভাগ কৃষকরা ঘরে তুলেছে। কিছু অংশ বাকি রয়েছে। বৃষ্টিতে মশলা জাতীয় ফসলগুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মিধিলি:তলিয়ে গেছে পেঁয়াজ-রসুনসহ মশলা জাতীয় ফসলী মাঠ

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩

শাহরিয়ার আহমেদ রিয়াজ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে দেশের স্থলভাগে দুইদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি ঝড়ছে। শরীয়তপুরে এ বছর পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, কালোজিরাসহ, মশলা জাতীয় রবিশস্য চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৩৩৭ হেক্টর জমিতে। আমন ধান চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমিতে। মশলা জাতীয় রবিশস্য বেশিদিন পানির নিচে থাকলে নষ্ট হয়ে যায়। ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে দুইদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি না থামায় মশলা জাতীয় ফসলগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমন ধান যা চাষ হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ ঘরে তুলে নিয়েছে কৃষক। বাকি ৪০ ভাগ এখনও মাঠে। এই ৪০ ভাগ আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে শরীয়তপুরের আমন ধানসহ মশলা জাতীয় রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তবে বৃষ্টির পানি অন্যত্র চলে গেলে ফসলের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। মশলা জাতীয় রবিশস্যের বীজ ও চারা সাধারণত চার দিন থেকে এক সপ্তাহ পানির নিচে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেলার ফসলী মাঠে ইতোমধ্যে পানি জমে মশলা জাতীয় ফসলগুলো তলিয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।

জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিতে পাকা আমন ধানসহ মশলা জাতীয় রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, কালোজিরা, মরিচসহ অন্যান্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও রসুন চাষীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁয়াজ, রসুনের বীজ থেকে মাটি ফুঁড়ে চারা গজাতে দেখা গেছে মাত্র এক সপ্তাহ আগে থেকে। মিধিলির প্রভাবে মুষলধারে বৃষ্টির জমাট বাঁধা পানিতে এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি এত বেশি হয়েছে যে, ফসলের চাঁরা মাটি থেকে উপড়ে গিয়ে পানিতে ভেসে এক জায়গায় একত্রিত হয়ে গেছে। ঋণ করে এসব ফসল চাষ করা কৃষকদের পথে বসতে হবে এখন।
নশাসন এলাকার কৃষক হাকিম মিয়া বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বেশি লাভের আশায় পেঁয়াজ ও রসুন চাষ করেছিলাম। তিন চারদিন আগে চারা গজিয়েছে আমার জমিতে। সেই চারাগুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। ভেসেও গেছে অনেকটা। কিস্তির টাকা শোধ করব কীভাবে এখন আমি? ঘূর্ণিঝড় মিধিলি আমাকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেল।

নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর ইউনিয়নের কৃষক রব মাদবর বলেন, হঠাৎ করেই গতকাল থেকে বৃষ্টি নামায় আমার চাষ করা কালোজিরা, ধনিয়া ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। মিধিলি নামে নাকি ঘুর্ণিঝড় এসেছে। সেই ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হয়ে আমার জমি এখন পানির নিচে। বৃষ্টি শেষ হলে আমাকে আবার নতুন করে বীজ রোপন করতে হবে।

সখিপুর এলাকার কৃষক রুহুল আমিন বলেন, গতকাল সকালে ফসলের জমিতে গেছিলাম কেমন চারা গজিয়েছে তা দেখতে। হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামল। বৃষ্টিতে আমার ফসলের জমিতে পানি জমে গেছে। এই পানি নদী বা খালে নামতে সময় লাগবে। কিন্তু এখন আবার বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে। আমার পিঁয়াজ, রসুন সব শেষ হয়ে গেল।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, শরীয়তপুরে দুইদিন ধরে ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিগুলো ফসলের মাঠ থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। আমন ধান বেশিরভাগ কৃষকরা ঘরে তুলেছে। কিছু অংশ বাকি রয়েছে। বৃষ্টিতে মশলা জাতীয় ফসলগুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।