ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইতালি পাঠানোর নামে জাল ভিসায় মালয়েশিয়া পাচার: গাজীপুর ও নরসিংদী থেকে মানব পাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার Logo সীমান্তে প্রতিদিনই অভিযান, ৬০ বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান আটক-৪২, মুচলেকায় মুক্তি Logo রাজাপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতন সভা অনুষ্ঠিত Logo সিনেমায় নিশো-মেহজাবীন জুটি, আসতে পারেন ঈদে Logo সংখ্যায় সংখ্যায় মেসির ৭৭২০ দিনের আর্জেন্টিনা অধ্যায় Logo রাশিয়ার সহায়তায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প Logo আগামী বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪টি নতুন বই: শিক্ষামন্ত্রী Logo এলপিজি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে ডিসিদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ Logo ‘কিডনি আবার গজাবে’- দালালের চক্রে নেপালের যে গ্রাম এখন ‘কিডনি ভ্যালি’

সীমান্তে প্রতিদিনই অভিযান, ৬০ বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬৪ বার পঠিত

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে প্রতিনিয়তই চলছে অভিযান। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধরা পড়ছে চোরাচালানের চালান। কখনো মাদক, কখনো ভারতীয় পণ্য, আবার কখনো গবাদিপশু, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ধারাবাহিক অভিযানে সাফল্য পাচ্ছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) সর্বশেষ একদিনের অভিযানে জব্দ হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানি মালামাল।
৬ অক্টোবর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৬০ বিজিবির টহলদল। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার চণ্ডীদার ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল ও খারেরা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
অভিযানে জব্দ করা হয় বাসমতি চাল, শাড়ি, একটি গরু, ফুচকা, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, গাঁজা ও মদ। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী নিয়মিতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন ও অভিযান পরিচালনা করলেও সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৬০ বিজিবির ধারাবাহিক তৎপরতা বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। বিজিবির প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযানের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তের কোনো না কোনো এলাকায় মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দের তথ্য আসছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, সীমান্তে চোরাচালানের এত বিপুল চালান প্রতিদিন কোথা থেকে আসছে, কারা এসব চালানের সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্তের কোন কোন পথ ব্যবহার করে এসব পণ্য পাচারের চেষ্টা চলছে?
অন্যদিকে অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম থাকলেও প্রতিদিনের ধারাবাহিক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে এমন সাফল্যের চিত্র তুলনামূলকভাবে কমই চোখে পড়ে। এ কারণে সীমান্তে ৬০ বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যেই মিলছে একের পর এক চালান
৬০ বিজিবি জানিয়েছে, সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, এএসসি-এর দিকনির্দেশনায় সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুশ-ইন, নারী ও শিশু পাচার, মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে একের পর এক চালান আটকের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিজিবির অভিযানে প্রতিদিনই যখন বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য ধরা পড়ছে, তখন সীমান্তের ওপার থেকে এসব পণ্য দেশের ভেতরে ঢোকার সুযোগ তৈরি করছে কারা?
চোরাচালানের নেপথ্যে থাকা পুরো চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ বাণিজ্য আরও কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস :

সীমান্তে প্রতিদিনই অভিযান, ৬০ বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

আপডেট সময় : ০৬:৫০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে প্রতিনিয়তই চলছে অভিযান। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধরা পড়ছে চোরাচালানের চালান। কখনো মাদক, কখনো ভারতীয় পণ্য, আবার কখনো গবাদিপশু, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ধারাবাহিক অভিযানে সাফল্য পাচ্ছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) সর্বশেষ একদিনের অভিযানে জব্দ হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানি মালামাল।
৬ অক্টোবর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৬০ বিজিবির টহলদল। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার চণ্ডীদার ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল ও খারেরা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
অভিযানে জব্দ করা হয় বাসমতি চাল, শাড়ি, একটি গরু, ফুচকা, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, গাঁজা ও মদ। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী নিয়মিতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন ও অভিযান পরিচালনা করলেও সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৬০ বিজিবির ধারাবাহিক তৎপরতা বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। বিজিবির প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযানের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তের কোনো না কোনো এলাকায় মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দের তথ্য আসছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, সীমান্তে চোরাচালানের এত বিপুল চালান প্রতিদিন কোথা থেকে আসছে, কারা এসব চালানের সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্তের কোন কোন পথ ব্যবহার করে এসব পণ্য পাচারের চেষ্টা চলছে?
অন্যদিকে অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম থাকলেও প্রতিদিনের ধারাবাহিক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে এমন সাফল্যের চিত্র তুলনামূলকভাবে কমই চোখে পড়ে। এ কারণে সীমান্তে ৬০ বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যেই মিলছে একের পর এক চালান
৬০ বিজিবি জানিয়েছে, সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, এএসসি-এর দিকনির্দেশনায় সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুশ-ইন, নারী ও শিশু পাচার, মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে একের পর এক চালান আটকের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিজিবির অভিযানে প্রতিদিনই যখন বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য ধরা পড়ছে, তখন সীমান্তের ওপার থেকে এসব পণ্য দেশের ভেতরে ঢোকার সুযোগ তৈরি করছে কারা?
চোরাচালানের নেপথ্যে থাকা পুরো চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ বাণিজ্য আরও কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।