শীতকালে ঠান্ডা পানিতে গোসলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে কেন?
- আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪ ৩৩৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
শীতকালে বেশিরভাগ মানুষই গরম পানিতে গোসল করেন। তবে যারা ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে অভ্যস্ত তারা এই সময়ে অজান্তেই বিপদে পড়তে পারেন। কারণ প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়ায় শীতল পানিতে গোসল করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা এমনটাই বলছে। আর এ কারণে শীতকালে বাথরুমে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বেশি ঘটে।
ভারতের মোহালিতে ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. করুণ বেহালের মতে, ইনডোর এবং আউটডোর তাপমাত্রার পার্থক্য হার্টের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ঠান্ডা রক্তনালীকে সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়। এ কারণে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরে শক লাগে। শীতে গোসলের জন্য আদর্শ উপায় হলো বেশি ঠান্ডা আবার গরম নয় এমন পানিতে গোসল করা।
অত্যধিক ঠান্ডা আবহাওয়ায় গায়ে পানি ঢালতেই শরীরে একটি ঝাঁকুনি অনুভুত হয়, একই সঙ্গে শরীরের সব লোম দাঁড়িয়ে যায় (গুজবাম্প হয়)। ঠিক ওই মুহূর্তে শরীর রক্ত সঞ্চালনকে ওভারড্রাইভে পাঠায়।
অত্যাবশ্যক অঙ্গগুলিকে রক্ষা করার জন্য হৃদযন্ত্র দ্রুত রক্ত পাম্প করতে শুরু করে এবং ত্বককে সংকুচিত করে। এ কারণে শরীরে কম্পনের সৃষ্টি হয়। যার ফলে হার্টের উপর বেশি চাপ পড়ে।
তবে ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা শরীরের মেটাবলিজম বাড়ানোর জন্য ঠান্ডা শাওয়ার ব্যবহারের সুবিধার জন্য বিভিন্ন যুক্তি ব্যবহার করেছেন। তাদের মতে, ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করার জন্য শরীরের উচ্চতর প্রতিক্রিয়া বিপাকীয় হার বাড়ায়, শক্তি ব্যয় করে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ায়।
কিছু গবেষক আরও দাবি করেন যে ঠান্ডা পানিতে গোসলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং অসুস্থতার বিরুদ্ধে আরও প্রতিরোধী করে তুলতে পারে।
নেদারল্যান্ডে একটি ক্লিনিকাল ট্রায়াল দেখা গেছে যে নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসলে মানুষের অসুস্থতার ঝুঁকি প্রায় ২৯ শতাংশ কমিয়ে দেয়। যদিও ঠাণ্ডা পানিতে গোসলেরও অনেক উপকারিতা আছে, তবে তা শরীর বুঝেই মেনে চলতে হবে।
যারা শারীরিকভাবে একেবারে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান শুধু তারাই এ ধরনের অভ্যাস অনুসরণ করতে পারেন। তবে আপনি যদি ফিট না হন ও হার্টের অসুখে ভুগেন তাহলে ঠান্ডা পানিতে গোসল এড়িয়ে যান।
শীতে রক্তচাপ বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ধমনীর সংকোচন। কম সূর্যের সংস্পর্শে যাওয়া, শারীরিক কার্যকলাপ না করা, যার থেকে শরীরে লবণ ধারণ করে ও রক্ত জমাট বাঁধে। তাই ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন ও শরীরচর্চা করুন নিয়মিত।
হালকা খাবার গ্রহণ করুন, পর্যাপ্ত পশমী পোশাক পরুন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন।


























