ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সিএমপির ডিবি বন্দর বিভাগের অভিযানে ৪০ লাখ টাকার আত্মসাৎকৃত ক্রোকারিজ উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ জরুরি সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন Logo রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা প্রধানমন্ত্রীর Logo নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে পাকিস্তান বিধ্বস্ত, ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ Logo ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হাজার কোটি টাকার প্রত্নসম্পদের রহস্য, আসল সরিয়ে রাখা হয়েছে নকল Logo জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে কমছে ইলিশ, বলছেন গবেষকরা Logo ট্রাম্প মানেই কি সংঘাত আর যুদ্ধ Logo শেষ বিকেলে তাসকিন-তাইজুলের আগুনে বোলিং, জয়ের পথে বাংলাদেশ Logo ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ চেয়ে আদালতে জয়া আহসান Logo দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনায় সরকার: সেতুমন্ত্রী

শরতের অ্যালার্জি কেন ভিন্ন?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৯৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শরৎ একটি স্নিগ্ধ ঋতু। শরতের সৌন্দর্য আপনাকে স্পর্শ করুক বা না করুক তবে শরতের অ্যালার্জি যে কোনো সময় আপনাকে ছাপিয়ে যেতে পারে। একদিন আচমকা দেখবেন হাঁচির দমকে টিকে থাকা যাচ্ছে না। নাক বন্ধ হয়ে গেছে। চামড়াটা লালচে দেখাচ্ছে। শরতের এই অ্যালার্জির উপদ্রব প্রতিরোধ করার জন্য আপনাকে একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে।

আমাদের দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলক অক্ষতিকর কোনো উপাদানকে দেহের জন্য ক্ষতিকর ভেবে বসে তখন অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন দেখা দেয়। আর আপনার শরীরেও অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করবে। শরতকালে অ্যালার্জি হওয়ার জন্য এই ঋতুর বৈশিষ্ট্য অনেকটা দায়ী। পরাগ রেণু, ছাঁচের স্পোর, ডাস্ট মাইট শরতের সাধারণ অ্যালার্জেন। শরতে অনেকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। আর শহরে বাতাসেও এসব অ্যালার্জেন থাকতে পারে। তাই বাড়তি কিছু সতর্কতা এ সময় জরুরি।

শরতের অ্যালার্জির লক্ষণগুলি-
সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, চোখে পানি আসা, হাঁচি, গোঙানি, চোখ ও নাক অনবরত চুলকানো এবং চোখের নিচে ক্ষত হওয়া। এর কিছু লক্ষণ সাধারণ সর্দি বা করোনাভাইরাসের মতোই, তাহলে কীভাবে বুঝবেন আপনার মৌসুমি অ্যালার্জি আছে? প্রকৃতপক্ষে, অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে জ্বর একটি প্রধান উপসর্গ হলেও, অ্যালার্জি জ্বর সৃষ্টি করে না এবং এটি সংক্রামকও নয়।

শরৎকালে অ্যালার্জেন এড়াতে আপনি কিছু সহজ জিনিস করতে পারেন। নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরাগ রেণু এড়িয়ে চলুন-
গ্রীষ্মের শেষের দিকে এবং শরতের শুরুর দিকে বাতাসে পরাগের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে। গরমের দিনে এবং ঝড় বা বৃষ্টির পরেও পরাগের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তাই পরাগ গণনা বেশি হলে আপনার বহিরঙ্গন কার্যকলাপ সীমিত করুন। বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশের সময় পোশাক পরিবর্তন করুন। ভেজা কাপড় বাইরে শুকানোর জন্য রেখে দিলেও ঝাঁকিয়ে ভাঁজ করে নিতে হবে।

ঘরের স্যাঁতসেঁতে জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখুন-
স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মোল্ড বা ছত্রাক জন্মায় যা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গিয়ে আপনাদের ত্বকেও সংক্রমণ ছড়ায়। ছত্রাক আমাদের ঘরের ভেজা স্যাঁতসেঁতে স্থান, যেমন- টয়লেট, রান্নাঘর, লন্ড্রিরুমে থাকে। এক্ষেত্রে বাড়িতেই ভিনেগারের দ্রবণে যন্ত্রের মোল্ডযুক্ত পার্টগুলো পরিষ্কার করে নিতে পারেন। ঘর যদি রঙও করান তার আগে মোল্ড পরিষ্কার করে নেবেন।

পরিবেশ ধুমপানমুক্ত রাখুন-
এই ঋতুতে ধূমপান পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আপনার বাড়ির পরিবেশকে যতটা সম্ভব ধুমপানমুক্ত রাখুন।

বিছানার চাদর ও অন্দরে নজর-
আপনার বিছানা নোংরা হলে সেখান থেকেই অ্যালার্জি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শরতের সময় বিছানায় অনেক ধূলিকণা পাওয়া যায়। অপরিচ্ছন্ন, ভারী চাদরের পরিবর্তে মেশিনে ধোয়া যায় এবং শ্বাস নেওয়া যায় এমন কাপড় ব্যবহার করুন। ধুলো মাইট প্রতিরোধী কভার দিয়ে বালিশ এবং গদি ঢেকে রাখতে ভুলবেন না। ধুলাবালি এবং ধূলিকণা দূর করার জন্য গৃহসজ্জার সামগ্রী এবং কার্পেটগুলি সপ্তাহে অন্তত একবার ভ্যাকুয়াম করা উচিত।

সুগন্ধি ক্লিনার ব্যবহার না করাই ভালো-
বিশেষজ্ঞরা যখনই সম্ভব গন্ধহীন ক্লিনার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। নন-ক্লোরিন ক্লিনার এবং ডিটারজেন্ট বেছে নেওয়া ভাল।

শরতের অ্যালার্জি কেন ভিন্ন?

আপডেট সময় : ০৬:০১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শরৎ একটি স্নিগ্ধ ঋতু। শরতের সৌন্দর্য আপনাকে স্পর্শ করুক বা না করুক তবে শরতের অ্যালার্জি যে কোনো সময় আপনাকে ছাপিয়ে যেতে পারে। একদিন আচমকা দেখবেন হাঁচির দমকে টিকে থাকা যাচ্ছে না। নাক বন্ধ হয়ে গেছে। চামড়াটা লালচে দেখাচ্ছে। শরতের এই অ্যালার্জির উপদ্রব প্রতিরোধ করার জন্য আপনাকে একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে।

আমাদের দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা তুলনামূলক অক্ষতিকর কোনো উপাদানকে দেহের জন্য ক্ষতিকর ভেবে বসে তখন অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন দেখা দেয়। আর আপনার শরীরেও অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করবে। শরতকালে অ্যালার্জি হওয়ার জন্য এই ঋতুর বৈশিষ্ট্য অনেকটা দায়ী। পরাগ রেণু, ছাঁচের স্পোর, ডাস্ট মাইট শরতের সাধারণ অ্যালার্জেন। শরতে অনেকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। আর শহরে বাতাসেও এসব অ্যালার্জেন থাকতে পারে। তাই বাড়তি কিছু সতর্কতা এ সময় জরুরি।

শরতের অ্যালার্জির লক্ষণগুলি-
সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, চোখে পানি আসা, হাঁচি, গোঙানি, চোখ ও নাক অনবরত চুলকানো এবং চোখের নিচে ক্ষত হওয়া। এর কিছু লক্ষণ সাধারণ সর্দি বা করোনাভাইরাসের মতোই, তাহলে কীভাবে বুঝবেন আপনার মৌসুমি অ্যালার্জি আছে? প্রকৃতপক্ষে, অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে জ্বর একটি প্রধান উপসর্গ হলেও, অ্যালার্জি জ্বর সৃষ্টি করে না এবং এটি সংক্রামকও নয়।

শরৎকালে অ্যালার্জেন এড়াতে আপনি কিছু সহজ জিনিস করতে পারেন। নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরাগ রেণু এড়িয়ে চলুন-
গ্রীষ্মের শেষের দিকে এবং শরতের শুরুর দিকে বাতাসে পরাগের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে। গরমের দিনে এবং ঝড় বা বৃষ্টির পরেও পরাগের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তাই পরাগ গণনা বেশি হলে আপনার বহিরঙ্গন কার্যকলাপ সীমিত করুন। বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশের সময় পোশাক পরিবর্তন করুন। ভেজা কাপড় বাইরে শুকানোর জন্য রেখে দিলেও ঝাঁকিয়ে ভাঁজ করে নিতে হবে।

ঘরের স্যাঁতসেঁতে জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখুন-
স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মোল্ড বা ছত্রাক জন্মায় যা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গিয়ে আপনাদের ত্বকেও সংক্রমণ ছড়ায়। ছত্রাক আমাদের ঘরের ভেজা স্যাঁতসেঁতে স্থান, যেমন- টয়লেট, রান্নাঘর, লন্ড্রিরুমে থাকে। এক্ষেত্রে বাড়িতেই ভিনেগারের দ্রবণে যন্ত্রের মোল্ডযুক্ত পার্টগুলো পরিষ্কার করে নিতে পারেন। ঘর যদি রঙও করান তার আগে মোল্ড পরিষ্কার করে নেবেন।

পরিবেশ ধুমপানমুক্ত রাখুন-
এই ঋতুতে ধূমপান পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আপনার বাড়ির পরিবেশকে যতটা সম্ভব ধুমপানমুক্ত রাখুন।

বিছানার চাদর ও অন্দরে নজর-
আপনার বিছানা নোংরা হলে সেখান থেকেই অ্যালার্জি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শরতের সময় বিছানায় অনেক ধূলিকণা পাওয়া যায়। অপরিচ্ছন্ন, ভারী চাদরের পরিবর্তে মেশিনে ধোয়া যায় এবং শ্বাস নেওয়া যায় এমন কাপড় ব্যবহার করুন। ধুলো মাইট প্রতিরোধী কভার দিয়ে বালিশ এবং গদি ঢেকে রাখতে ভুলবেন না। ধুলাবালি এবং ধূলিকণা দূর করার জন্য গৃহসজ্জার সামগ্রী এবং কার্পেটগুলি সপ্তাহে অন্তত একবার ভ্যাকুয়াম করা উচিত।

সুগন্ধি ক্লিনার ব্যবহার না করাই ভালো-
বিশেষজ্ঞরা যখনই সম্ভব গন্ধহীন ক্লিনার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। নন-ক্লোরিন ক্লিনার এবং ডিটারজেন্ট বেছে নেওয়া ভাল।