ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প: মৃত ৩,৫৩৫, প্রাণহানি ১ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পঠিত

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতের ১৩ দিন পার হলেও উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সময়ের সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ফলে উদ্ধারকারী দল এখন মূলত ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে দিতে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।
কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রবীণ দম্পতি পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজকে উদ্ধারে তাদের স্বজনরা আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, ওই দম্পতির কাছে পৌঁছাতে অন্তত ১০টি বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে হবে, যা করতে ভারী ক্রেন ও বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জামের প্রয়োজন।
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার। এসব ভবনের মধ্যে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও রয়েছে। সরকারি তথ্য ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের এই বড় পার্থক্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এর আগেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছিল ভেনেজুয়েলা। দুর্যোগের আগে দেশটিতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। ভূমিকম্পের পর নতুন করে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ সামরিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
গৃহহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকার লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসন প্রকল্প পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে নতুনভাবে প্রস্তুত করা অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মানবিক সংকট মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন।





















