ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পথচারী নিহত Logo বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ Logo বরিশালে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই নিয়ে তোলপাড় Logo রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠিত Logo বনানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট Logo গাজীপুরে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে গাকৃবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo শুল্ক হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি চীনের Logo জ্বালানি চাহিদা পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্টি হয় টাইফয়েড, ছড়ায় যেভাবে

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৯৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাইফয়েড জ্বর একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) অনুসারে, সালমোনেলা হল সেই ব্যাকটেরিয়া যা খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায়। এটি খাওয়ার পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখন টাইফয়েডের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে, তখন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টাইফয়েডের দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর সংক্রমণ ও জটিলতা হতে পারে। যা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ করে।

টাইফয়েড জ্বর সহজেই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি মলত্যাগের পর তার হাত সঠিকভাবে পরিষ্কার না করে এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে স্পর্শ করে তাহলে তার থেকে ব্যাকটেরিয়া খাবারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টাইফয়েড শুধুমাত্র মলের মাধ্যমে নয়, আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাবের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। এজন্য সবার উচিত টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা।

এছাড়া যারা দূষিত পানি পান করেন বা দূষিত পানিতে ধুয়ে খাবার খান তাদের টাইফয়েড জ্বর হতে পারে। স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টাইফয়েড জ্বর বিভিন্ন উপায়ে ছড়াতে পারে যেমন:

১. পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার পর হাত না ধুয়ে মুখে স্পর্শ করা
২. দূষিত জলের উৎস থেকে সামুদ্রিক খাবার খাওয়া
৩. মানুষের বর্জ্য দিয়ে নিষিক্ত করা কাঁচা শাকসবজি খাওয়া
৪. দূষিত দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া
৫. সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির বাহক এমন ব্যক্তির সাথে সহবাস করা।

মায়ো ক্লিনিকের মতে, টাইফয়েড জ্বরের বেশিরভাগ লক্ষণ ও উপসর্গ ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। রোগের সংস্পর্শে আসার এক থেকে তিন সপ্তাহ পরে লক্ষণগুলি প্রায়ই দেখা যায়। টাইফয়েডের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল:

জ্বর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে; মাথাব্যথা; দুর্বলতা ও ক্লান্তি; পেশী ব্যথা; ঘাম; শুকনো কাশি; ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া; পেট ব্যাথা; ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য; ফুসকুড়ি; পেট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

টাইফয়েডের সঠিক চিকিৎসা না করা হলে উপসর্গগুলো মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

টাইফয়েড জ্বর সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের একটি কোর্সের মাধ্যমে সফলভাবে চিকিৎসা করা যেতে পারে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সেটা জানিয়েছেন। সংক্রামিত ব্যক্তির বাড়িতেও চিকিৎসা করা যেতে পারে, যদি তার গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়।

বেশিরভাগ টাইফয়েড জ্বরের রোগীদের ৭-১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত ওষুধ খেতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ২-৩ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান, সঠিকভাবে খাওয়া, নিয়মিত খাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে।

টাইফয়েড প্রতিরোধ করতে চাইলে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রথমত, নিশ্চিত করুন যে আপনার পানীয় জল নিরাপদ। তারপরে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন যেমন ঘন ঘন আপনার হাত ধোয়া, কাঁচা ফল এবং শাকসবজি এড়িয়ে চলা, দূষিত এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং বাড়ির চারপাশে স্যানিটেশন উন্নত করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টাইফয়েডের টিকা নেওয়া।

ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্টি হয় টাইফয়েড, ছড়ায় যেভাবে

আপডেট সময় : ০২:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাইফয়েড জ্বর একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস (এনএইচএস) অনুসারে, সালমোনেলা হল সেই ব্যাকটেরিয়া যা খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায়। এটি খাওয়ার পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখন টাইফয়েডের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে, তখন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টাইফয়েডের দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর সংক্রমণ ও জটিলতা হতে পারে। যা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ করে।

টাইফয়েড জ্বর সহজেই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি যদি মলত্যাগের পর তার হাত সঠিকভাবে পরিষ্কার না করে এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে স্পর্শ করে তাহলে তার থেকে ব্যাকটেরিয়া খাবারসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

টাইফয়েড শুধুমাত্র মলের মাধ্যমে নয়, আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাবের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। এজন্য সবার উচিত টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা।

এছাড়া যারা দূষিত পানি পান করেন বা দূষিত পানিতে ধুয়ে খাবার খান তাদের টাইফয়েড জ্বর হতে পারে। স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, টাইফয়েড জ্বর বিভিন্ন উপায়ে ছড়াতে পারে যেমন:

১. পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার পর হাত না ধুয়ে মুখে স্পর্শ করা
২. দূষিত জলের উৎস থেকে সামুদ্রিক খাবার খাওয়া
৩. মানুষের বর্জ্য দিয়ে নিষিক্ত করা কাঁচা শাকসবজি খাওয়া
৪. দূষিত দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া
৫. সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির বাহক এমন ব্যক্তির সাথে সহবাস করা।

মায়ো ক্লিনিকের মতে, টাইফয়েড জ্বরের বেশিরভাগ লক্ষণ ও উপসর্গ ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে। রোগের সংস্পর্শে আসার এক থেকে তিন সপ্তাহ পরে লক্ষণগুলি প্রায়ই দেখা যায়। টাইফয়েডের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল:

জ্বর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে; মাথাব্যথা; দুর্বলতা ও ক্লান্তি; পেশী ব্যথা; ঘাম; শুকনো কাশি; ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া; পেট ব্যাথা; ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য; ফুসকুড়ি; পেট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

টাইফয়েডের সঠিক চিকিৎসা না করা হলে উপসর্গগুলো মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

টাইফয়েড জ্বর সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের একটি কোর্সের মাধ্যমে সফলভাবে চিকিৎসা করা যেতে পারে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সেটা জানিয়েছেন। সংক্রামিত ব্যক্তির বাড়িতেও চিকিৎসা করা যেতে পারে, যদি তার গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়।

বেশিরভাগ টাইফয়েড জ্বরের রোগীদের ৭-১৪ দিনের জন্য নির্ধারিত ওষুধ খেতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ২-৩ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান, সঠিকভাবে খাওয়া, নিয়মিত খাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে।

টাইফয়েড প্রতিরোধ করতে চাইলে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রথমত, নিশ্চিত করুন যে আপনার পানীয় জল নিরাপদ। তারপরে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন যেমন ঘন ঘন আপনার হাত ধোয়া, কাঁচা ফল এবং শাকসবজি এড়িয়ে চলা, দূষিত এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং বাড়ির চারপাশে স্যানিটেশন উন্নত করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টাইফয়েডের টিকা নেওয়া।