ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সহজ অর্থায়নে স্বপ্নের গাড়ি, ইউসিবি-বিওয়াইডির নতুন যাত্রা শুরু Logo ডিউরাবিলিটি আর এআইয়ের নতুন কম্বিনেশনে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০সি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরীতে সমন্বয় সভা Logo প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান-পদায়নে সুখবর Logo ৬০ লাখ ডলারে গয়না লুটের মামলায় মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান Logo ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo পরাজয় ঢাকতে হলিউডি সিনেমার মতো গল্প তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি Logo ফার্নিচারসহ ব্যয়বহুল পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ Logo ৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা Logo রাজাপুরে রফিকুল ইসলাম জামালকে গণসংবর্ধনা

বোরো ধানের বীজতলা পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা, ক্ষতির আশঙ্কা!

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪ ১৮৫ বার পঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা বরো ধানের বীজতলা পরিচর্যা ও যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যাতে ধানের চারার কোন রকম ক্ষতি না হয়। তবে জেলার কৃষক-কৃষাণীরা বীজতলার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও এই তীব্র শীতের সাথে ঘন কুয়াশায় বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
স্থায়ী বাসিন্দা কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, এবছরে তিনি ১ বিঘা জমিতে বোরা ধান লাগাবেন। তবে বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে খরচের মাত্রা বেশি হবে বলে ধারনা করছেন তিনি। প্রচুর শীত আর তীব্র কুয়াশার কারণে অনেক বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম, আতিয়ার ও পিন্টু জানান, আমাদের জেলাতে ক’দিন থেকে ঘন কুয়াশা আর শীত রয়েছে। ফলে বোরো বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। তবে বীজতলায় যেন বড় ক্ষতি না হয় সেজন্য আমাদের মতো জেলার কৃষকরা সবরকম প্রস্ততি গ্রহণ করেছেন। আর কয়েক মাস পর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপন করতে হবে।এরপর উৎপাদন করা হবে প্রধান খাদ্যশ্যর্ষা,আর এর মাঝে যদি বীজতলা চারা নষ্ট হয় তাহলে ধান চাষের খরচ বেশি হয়ে যাবে।আর চারার ক্ষতি হলে দাম বেশি হলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে কিছু কিছু স্থানের বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বীজতলা হলুদ রং হয়েছে। এমন কুয়াশা চলতে থাকলে ধান উৎপাদনে ব্যাহত হবেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০২০-২৪ অর্থবছরে চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলাতে ১ হাজর ২’৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। তা থেকে ৩৪ হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে জেলাতে ঘন কুয়াশা থাকায় বীজতলার চারার ক্ষতি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বীজতলা হলুদ রংয়ের বর্ণ ধারণ করেছে। ফলে লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে দেখা গেছে কিছুটা চিন্তায় কৃষকরা।এ বছরে বীজের দাম কিছুটা বেশি থাকায় খরচের অংকটাও বেশি। এরপর এ খরচের পরেও যদি আবার ক্ষতি দেখা যায় তবে ধান উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেশি হবে। জেলার বীজতলা ক্ষতি হলে বাহিরে থেকে চারা কিনতে হলে খরচ আরও বেশি হবে।এতে করে বোরো মৌসুমে ধানের খরচ ডাবল হবে। তবে জেলার কৃষকদের বীজতলা যেন ভালো থাকেন এবং তেমন কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে স্ব স্ব উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, জেলার কৃষক ভায়েরা তাদের বীজ তলা যত্ন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে জেলাতে কিছুদিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা ক্ষতি আশঙ্কায় হতাশা রয়েছে।প্রতি বছরেই জেলাতে কিছু বীজতলা ক্ষতির মুখে পরেন শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে।তবে এ বছরে যাতে বীজতলা ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শীত ও কুয়াশায় বীজের চারা ভালো রাখতে যা যা করণীয় তা সঠিকভাবে পালন করলে চারার তেমন ক্ষতি হবে না। ফলে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে যে লক্ষ্যমাত্রা থাকবে আশা করছি তা পূরণ হবেন।

বোরো ধানের বীজতলা পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা, ক্ষতির আশঙ্কা!

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা বরো ধানের বীজতলা পরিচর্যা ও যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যাতে ধানের চারার কোন রকম ক্ষতি না হয়। তবে জেলার কৃষক-কৃষাণীরা বীজতলার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও এই তীব্র শীতের সাথে ঘন কুয়াশায় বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
স্থায়ী বাসিন্দা কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, এবছরে তিনি ১ বিঘা জমিতে বোরা ধান লাগাবেন। তবে বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে খরচের মাত্রা বেশি হবে বলে ধারনা করছেন তিনি। প্রচুর শীত আর তীব্র কুয়াশার কারণে অনেক বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম, আতিয়ার ও পিন্টু জানান, আমাদের জেলাতে ক’দিন থেকে ঘন কুয়াশা আর শীত রয়েছে। ফলে বোরো বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। তবে বীজতলায় যেন বড় ক্ষতি না হয় সেজন্য আমাদের মতো জেলার কৃষকরা সবরকম প্রস্ততি গ্রহণ করেছেন। আর কয়েক মাস পর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপন করতে হবে।এরপর উৎপাদন করা হবে প্রধান খাদ্যশ্যর্ষা,আর এর মাঝে যদি বীজতলা চারা নষ্ট হয় তাহলে ধান চাষের খরচ বেশি হয়ে যাবে।আর চারার ক্ষতি হলে দাম বেশি হলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে কিছু কিছু স্থানের বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বীজতলা হলুদ রং হয়েছে। এমন কুয়াশা চলতে থাকলে ধান উৎপাদনে ব্যাহত হবেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০২০-২৪ অর্থবছরে চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলাতে ১ হাজর ২’৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। তা থেকে ৩৪ হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে জেলাতে ঘন কুয়াশা থাকায় বীজতলার চারার ক্ষতি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বীজতলা হলুদ রংয়ের বর্ণ ধারণ করেছে। ফলে লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে দেখা গেছে কিছুটা চিন্তায় কৃষকরা।এ বছরে বীজের দাম কিছুটা বেশি থাকায় খরচের অংকটাও বেশি। এরপর এ খরচের পরেও যদি আবার ক্ষতি দেখা যায় তবে ধান উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেশি হবে। জেলার বীজতলা ক্ষতি হলে বাহিরে থেকে চারা কিনতে হলে খরচ আরও বেশি হবে।এতে করে বোরো মৌসুমে ধানের খরচ ডাবল হবে। তবে জেলার কৃষকদের বীজতলা যেন ভালো থাকেন এবং তেমন কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে স্ব স্ব উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, জেলার কৃষক ভায়েরা তাদের বীজ তলা যত্ন ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে জেলাতে কিছুদিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা ক্ষতি আশঙ্কায় হতাশা রয়েছে।প্রতি বছরেই জেলাতে কিছু বীজতলা ক্ষতির মুখে পরেন শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে।তবে এ বছরে যাতে বীজতলা ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শীত ও কুয়াশায় বীজের চারা ভালো রাখতে যা যা করণীয় তা সঠিকভাবে পালন করলে চারার তেমন ক্ষতি হবে না। ফলে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদনে যে লক্ষ্যমাত্রা থাকবে আশা করছি তা পূরণ হবেন।