বাঁশ এখন বাণিজ্যিক চাষের উদ্ভিদ, লাভবান হচ্ছেন অনেক পরিবার
- আপডেট সময় : ০৪:১২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পঠিত

রাশেদুল ইসলাম, নবীনগর প্রতিনিধি :-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রাচীন কাল থেকেই বাঁশের জনপ্রিয় বেচাকেনার হাট হল- ইব্রাহিমপুর। বাঁশের এই জনপ্রিয়তার কারণে এ বাজারের নাম হয়েছে বাঁশবাজার। নবীনগরের বিভিন্ন বাজারে যেমন- সদর, সলিমগঞ্জ, শ্রীঘর, বিটঘর, কাইতলা বাজারে প্রতিদিনই বাঁশ বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার অনেক পরিবার বাঁশ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিশেষ করে ইব্রাহিমপুর, লাউর-ফতেহপুর, শ্যামগ্রাম, কাইতলা, বিদ্যাকুট প্রভৃতি গ্রামে প্রচুর বাঁশ জন্মে।
গতকাল ছিল (১৬/৯/২৬) ২০তম বিশ্ব বাঁশ দিবস। এবার বিশ্ব বাঁশ দিবস- ২০২৬ এর অফিশিয়াল প্রতিপাদ্য ছিল-“পুনরুজ্জীবনশীল ভবিষ্যতের জন্য বাঁশ: প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা, নির্মাণ ও সমৃদ্ধির বৈশ্বিক আহ্বান।”
বাঁশ নিয়ে সমাজে নেতিবাচক আলোচনা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে বাঁশ এখন টাকা উপার্জনের আকর্ষণীয় মাধ্যম। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে, বেড়েছে এর বহুমুখী ব্যবহারও।
বাঁশ বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ নয়, ঘাস প্রজাতির উদ্ভিদ। বর্তমানে বিশ্বে কাঠের বিকল্প হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে বাঁশ। বাঁশকে বলা হয় গ্রিন গোল্ড বা সবুজ সোনা। বাঁশ হচ্ছে জনপ্রিয় পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিদ। অন্যান্য কাঠ জাতীয় উদ্ভিদ যেখানে পরিপক্ষ ও ব্যবহার উপযোগী হতে ৩০-৪০ বছর সময় লাগে এবং কেটে ফেললে সেটির জীবনচক্র শেষ হয়ে যায়, সেখানে বাঁশ চার থেকে পাঁচ বছরে পরিপক্ষ হয়। পরিপক্ষ বাঁশ কাটার পর বাঁশের গোড়া থেকে অসংখ্য নতুন বাঁশের জন্ম হয়। এ ভাবে বাঁশের জীবন চক্র চলতে থাকে বাঁশঝাড়ে ফুল আসা পর্যন্ত।
বিশ্বে ১,৬৭৮ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের দেশে ৩০- ৪০ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। বান্দরবানের লামায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করে ২ শতাধিক প্রজাতির বাঁশের এক চমৎকার সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে। বাঁশ অতিমাত্রায় সহনশীল ও দ্রুতবর্ধনশীল উদ্ভিদ। বাঁশ অন্যান্য গাছের চেয়ে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি অক্সিজেন ত্যাগ এবং বেশি মাত্রায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে। প্রক্রিয়াজাত বাঁশ ৫০ বছর বা তারও বেশি সময় নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
বাঁশের ব্যবহারিক প্রয়োগ ব্যাপক। বাঁশ থেকে ঘরের কাঠামো, ছাউনি, সাঁকো, মঞ্চ, মই, মাদুর, ঝুড়িসহ দৈনদিন ব্যবহার্য নানা জিনিসপত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের বিকাশে বাঁশ একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান। উষ্ণ
মন্ডলীয় দেশ গুলোতে কাগজ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হল বাঁশ।



















