ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

গাজীপুরে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেফতার ১

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪ ২০৯ বার পঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা এলাকায় সাত বছরের শিশুকন্যাকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে একটি ঝোপের ভেতর শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ওই রাতেই এক পরিবহনশ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপকমিশনার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান।

নিহত শিশুটির নাম মারিয়া আক্তার (৭)। তাঁর বাবার নাম মনজুরুল ইসলাম। পরিবারটি গাজীপুর নগরের বাসন থানার চান্দনা এলাকার আবদুল হালিমের বাসার ভাড়াটে। মারিয়া চান্দনা প্রতিভা মডেল একাডেমি স্কুলে নার্সারিতে পড়ত। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. জুয়েল (৩৯)। তিনি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার উলানিয়া গ্রামের মো. আবদুল লতিফের ছেলে। তিনি একই মালিকের বাড়িতে মারিয়ার পরিবারের প্রতিবেশী ভাড়াটে, তিনি পরিবহনশ্রমিক।

উপকমিশনার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান বলেন, রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শিশু মারিয়া বাড়ির কাছে খেলতে বের হয়েছিল। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাসায় ফিরে না আসায় তার মা-বাবা আশপাশের ভাড়াটেদের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে পাননি। পরে একটি অজ্ঞাত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসে। তাতে মারিয়াকে অপহরণের কথা জানিয়ে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মারিয়ার মা-বাবা দ্রুত পুলিশকে এ ঘটনা জানান। সোমবার রাত ৯টার দিকে তেলিপাড়া এলাকার একটি ঝোপের ভেতর একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে নিখোঁজ মারিয়ার মা-বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মারিয়ার বাবা বাদী হয়ে বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণের জন্য ফোন করা নম্বরটির সূত্র ধরে প্রতিবেশী জুয়েলকে রাতেই নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

উপকমিশনার আরও বলেন, নিহত শিশুর বাবার কাছ থেকে বেশ কিছুদিন আগে জুয়েল ৬০ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের শিশু মারিয়াকে অপহরণ করে তাঁর বাবার কাছে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন জুয়েল। সেই টাকা না পেয়ে এবং শত্রুতার জেরে মারিয়াকে তেলিপাড়া এলাকায় নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশটি গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত উপকমিশনার খায়রুল আলম, সহকারী কমিশনার ফাহিম আসজাদসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেফতার ১

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা এলাকায় সাত বছরের শিশুকন্যাকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে একটি ঝোপের ভেতর শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ওই রাতেই এক পরিবহনশ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপকমিশনার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান।

নিহত শিশুটির নাম মারিয়া আক্তার (৭)। তাঁর বাবার নাম মনজুরুল ইসলাম। পরিবারটি গাজীপুর নগরের বাসন থানার চান্দনা এলাকার আবদুল হালিমের বাসার ভাড়াটে। মারিয়া চান্দনা প্রতিভা মডেল একাডেমি স্কুলে নার্সারিতে পড়ত। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. জুয়েল (৩৯)। তিনি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার উলানিয়া গ্রামের মো. আবদুল লতিফের ছেলে। তিনি একই মালিকের বাড়িতে মারিয়ার পরিবারের প্রতিবেশী ভাড়াটে, তিনি পরিবহনশ্রমিক।

উপকমিশনার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান বলেন, রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শিশু মারিয়া বাড়ির কাছে খেলতে বের হয়েছিল। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাসায় ফিরে না আসায় তার মা-বাবা আশপাশের ভাড়াটেদের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে পাননি। পরে একটি অজ্ঞাত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসে। তাতে মারিয়াকে অপহরণের কথা জানিয়ে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মারিয়ার মা-বাবা দ্রুত পুলিশকে এ ঘটনা জানান। সোমবার রাত ৯টার দিকে তেলিপাড়া এলাকার একটি ঝোপের ভেতর একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে নিখোঁজ মারিয়ার মা-বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মারিয়ার বাবা বাদী হয়ে বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণের জন্য ফোন করা নম্বরটির সূত্র ধরে প্রতিবেশী জুয়েলকে রাতেই নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

উপকমিশনার আরও বলেন, নিহত শিশুর বাবার কাছ থেকে বেশ কিছুদিন আগে জুয়েল ৬০ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের শিশু মারিয়াকে অপহরণ করে তাঁর বাবার কাছে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন জুয়েল। সেই টাকা না পেয়ে এবং শত্রুতার জেরে মারিয়াকে তেলিপাড়া এলাকায় নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশটি গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত উপকমিশনার খায়রুল আলম, সহকারী কমিশনার ফাহিম আসজাদসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।