কিছু মশবাহিত রোগ
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩ ২৪৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিশ্বের ৩,৫০০ প্রজাতির মশার মধ্যে ১০০ প্রজাতি মানুষের মধ্যে রোগ ছড়ায়। মশাবাহিত রোগ অন্যান্য পোকামাকড়ের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। সম্প্রতি ডেঙ্গু মহামারি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, চার ধরনের ডেঙ্গুর মধ্যে ডেঙ্গু-২ টাইপ এ বছর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তবে ডেঙ্গু ছাড়াও এই মৌসুমে মশাবাহিত কিছু রোগ হতে পারে। সেই সংক্রামক ব্যাধি নিয়েই আজকের সচেতনতামূলক লেখা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত পাঁচ ধরনের মশাবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে। কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রে সবাই ধরে নেয় ডেঙ্গু। সবসময় এমনটা নাও হতে পারে। আর এভাবে ভুল চিকিৎসায় উৎসাহিতও হন অনেকে। তাই মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে জানা জরুরি।
ডেঙ্গু-
সংকট বিবেচনায় প্রথমেই ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলতে হয়। মূলত দুই প্রজাতির এডিস মশা ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করে। এডিস ইজিপ্টি ও অ্যালবোপিকটাস, মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়। পাত্রে রাখা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। সাধারণত বর্ষাকালে এর ঘনত্ব বেশি থাকে, তাই এই সময়ে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।
ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। তীব্র পেটে ব্যথাও হতে পারে। শরীরে, বিশেষ করে পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বরের ৪/৫ দিন পর সারা শরীরে ফুসকুড়ির মতো লাল দাগ দেখা যায়। বমি বমি ভাব এবং বমিও হতে পারে। ডেঙ্গু মারাত্মক হলে রক্তে প্লেটলেট কমে যায়, চোখের কোণ, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। ডেঙ্গুর জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন নেই। আর ডেঙ্গুর ধরন অনুযায়ী এই রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকিও আলাদা। উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা এবং প্লেটলেট বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ফাইলেরিয়া-
বাংলাদেশে ফাইলেরিয়াল রোগ দুটি প্রজাতির কিউলেক্স মশা এবং এক প্রজাতির ম্যানসোনিয়া মশা দ্বারা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়ায়। ফাইলেরিয়াল রোগে ব্যক্তির হাত, পা এবং অন্যান্য অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। স্থানীয়ভাবে একে শিশুর রোগও বলা হয়। এটি মহামারী আকার ধারণ না করলেও দেশের প্রায় ৩৪টি জেলায় নিয়মিত এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়।
চিকুনগুনিয়া-
চিকুনগুনিয়াও এডিস মশা দ্বারা ছড়ায়। চিকুনগুনিয়া ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে। চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই। তবে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, ঠান্ডা লাগা এবং ফুসকুড়ি সহ শরীরের জয়েন্টে বা হাড়ের সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা হয়। চিকুনগুনিয়া সাধারণত তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর কেটে যায়। কিন্তু হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা কারো কারো জন্য দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ম্যালেরিয়া-
ম্যালেরিয়া এক সময় দেশের জন্য একটি মহামারী ছিল। তবে এ বিষয়ে সরকার নির্ধারিত কর্মসূচি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে এ সংকট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।
বাংলাদেশে মোট ৩৬ প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা পাওয়া যায়, যার মধ্যে সাতটি প্রজাতি বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এই সাতটি প্রজাতির মধ্যে চারটি প্রজাতিই বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার প্রধান বাহক। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৩টি জেলার ৭২টি থানায় ম্যালেরিয়া রয়েছে। ম্যালেরিয়া প্রধানত পাহাড়ি ও সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়। এটা গ্রীষ্মকালে হয়। এখন দেশের তিন পার্বত্য জেলায় ৯০ শতাংশের বেশি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশ্য আশাবাদী যে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে সক্ষম হবে।

























