ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ইরাবতী ডলফিন Logo কুমিল্লা চান্দিনায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা, পথচারী নিহত Logo বসত বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হলো ১২শত লিটার পেট্রোল, গ্রেপ্তার-৩ Logo বরিশালে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ব্রিজের ঢালাই নিয়ে তোলপাড় Logo রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠিত Logo বনানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট Logo গাজীপুরে তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান Logo ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারে গাকৃবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo শুল্ক হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি চীনের Logo জ্বালানি চাহিদা পূরণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ৯৯ বার পঠিত

হরমুজ প্রণালী পাহারা দিচ্ছে ইরান। ছবি: রয়া নিউজ

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ১১ মার্চ ২০২৬ ।।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালী দাবি নিয়ে তীব্র সমালোচনায়

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাংকারকে সুরক্ষিত রাখার সামরিক অভিযানের দাবিকে ভ্রান্ত হিসেবে উপহাস করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলের জাহাজকে পাহারা দিয়েছে। তবে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ এই ঘটনার পর মন্তব্য করেন, মার্কিন দাবি বৈশ্বিক তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। হোয়াইট হাউসও দ্রুত এই বক্তব্যকে ভুল হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন ক্রিস রাইট জানান যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সময় বিশ্ব জ্বালানি স্থিতিশীল রাখার দায়িত্বে রয়েছে। তবে পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পরিষ্কার করেছেন যে, এখন পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী কোনো ট্যাংকার বা জাহাজের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনও নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো তেলের ট্যাংকার সুরক্ষার অভিযান শুরু হয়নি। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন কর্মকর্তাদের এই মুছে ফেলা পোস্টকে ‘পরিকল্পিত বিভ্রান্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, মার্কিন পক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে, কিন্তু এটি তাদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আরাকচি সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিশ্ব তেলের বাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা অতীতে আরব তেল অবরোধ বা কুয়েত যুদ্ধের প্রভাবকেও ছাপিয়ে যাবে। উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিকে, মার্কিন জনগণের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের প্রতি বিরোধিতাও দৃঢ়ভাবে দেখা যাচ্ছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কঠোর বিরোধী। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে এই বিরোধিতা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে হুমকির মুখে। মার্কিন প্রশাসন যদিও পাহারার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ট্যাগস :

ইরানের দাবি: যুক্তরাষ্ট্র তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ১১ মার্চ ২০২৬ ।।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালী দাবি নিয়ে তীব্র সমালোচনায়

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালীতে তেলের ট্যাংকারকে সুরক্ষিত রাখার সামরিক অভিযানের দাবিকে ভ্রান্ত হিসেবে উপহাস করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলের জাহাজকে পাহারা দিয়েছে। তবে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ এই ঘটনার পর মন্তব্য করেন, মার্কিন দাবি বৈশ্বিক তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। হোয়াইট হাউসও দ্রুত এই বক্তব্যকে ভুল হিসেবে ঘোষণা করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন ক্রিস রাইট জানান যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সময় বিশ্ব জ্বালানি স্থিতিশীল রাখার দায়িত্বে রয়েছে। তবে পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পরিষ্কার করেছেন যে, এখন পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী কোনো ট্যাংকার বা জাহাজের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনও নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো তেলের ট্যাংকার সুরক্ষার অভিযান শুরু হয়নি। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন কর্মকর্তাদের এই মুছে ফেলা পোস্টকে ‘পরিকল্পিত বিভ্রান্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, মার্কিন পক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে, কিন্তু এটি তাদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আরাকচি সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিশ্ব তেলের বাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা অতীতে আরব তেল অবরোধ বা কুয়েত যুদ্ধের প্রভাবকেও ছাপিয়ে যাবে। উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিকে, মার্কিন জনগণের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের প্রতি বিরোধিতাও দৃঢ়ভাবে দেখা যাচ্ছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কঠোর বিরোধী। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে এই বিরোধিতা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে হুমকির মুখে। মার্কিন প্রশাসন যদিও পাহারার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি