ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সহজ অর্থায়নে স্বপ্নের গাড়ি, ইউসিবি-বিওয়াইডির নতুন যাত্রা শুরু Logo ডিউরাবিলিটি আর এআইয়ের নতুন কম্বিনেশনে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০সি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরীতে সমন্বয় সভা Logo প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান-পদায়নে সুখবর Logo ৬০ লাখ ডলারে গয়না লুটের মামলায় মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান Logo ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo পরাজয় ঢাকতে হলিউডি সিনেমার মতো গল্প তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি Logo ফার্নিচারসহ ব্যয়বহুল পণ্য আমদানিতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ Logo ৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা Logo রাজাপুরে রফিকুল ইসলাম জামালকে গণসংবর্ধনা

অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা, চীনা নাগরিকসহ ১৫ জন গ্রেফতার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ২৬৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঘরে বসে টাকা আয়সহ নানা প্রতারণার অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চক্রের ১৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম বিভাগ। রাজধানীর হাতিরঝিল ও কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান চীনা নাগরিক হলেন ঝাং জি ঝায়াং (৬০)।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহজে ফোন দেওয়ার নামে ফাঁদ পাততেন তারা। এ ফাঁদে পা দিয়ে কেউ এ চীনা অ্যাপ ডাউনলোড করলেই বিপদে পড়েতেন। অ্যাপ ডাউনলোড করার পরেই মোবাইলের ছবি, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য চক্রের হাতে যেত। এরপর চক্রের সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। প্রথমে সরাসরি ভুক্তভোগীকে নানাভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন তারা। তাকে না পেলে বাবা-মাসহ পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতজনদের নম্বরে আপত্তিকর বিভিন্ন ছবি তৈরি করে পাঠানো হতো। একইভাবে মোবাইলফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ঘরে বসে দিনে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ দেওয়া হতো। এমন এসএমএস পাঠিয়ে বিভিন্নজনকে প্রলুদ্ধ করা হতো। আর এ প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

গোয়েন্দা প্রধান বলেন, অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সিমে ২৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ছয় মাসে এই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা পাচার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে দেশ থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ চক্রের হাতে এ পর্যন্ত দেশে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত দেড় হাজার মানুষ।

এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ভারতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অ্যাপটি তৈরি করেছে চীনা নাগরিকরা। এর সার্ভার সিঙ্গাপুরে। আর কল সেন্টারগুলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। পাকিস্তানি নম্বর দিয়ে বাংলাদেশিদের ডাকা হয়। আর ভারতীয়দের বাংলাদেশি নম্বর ব্যবহার করে ডাকা হতো।

দলটি অল্প টাকায় ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা লুট করত। এভাবে এক ভিকটিম থেকে আট লাখ টাকা চুরি করে তারা। তারা আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষকে হুমকি দেয়। এ চক্রের ১৫ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তবে চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তারা লুকিয়ে আছে। অভিযান চলমান আছে।

অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা, চীনা নাগরিকসহ ১৫ জন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৬:১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঘরে বসে টাকা আয়সহ নানা প্রতারণার অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ চক্রের ১৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম বিভাগ। রাজধানীর হাতিরঝিল ও কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান চীনা নাগরিক হলেন ঝাং জি ঝায়াং (৬০)।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহজে ফোন দেওয়ার নামে ফাঁদ পাততেন তারা। এ ফাঁদে পা দিয়ে কেউ এ চীনা অ্যাপ ডাউনলোড করলেই বিপদে পড়েতেন। অ্যাপ ডাউনলোড করার পরেই মোবাইলের ছবি, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য চক্রের হাতে যেত। এরপর চক্রের সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। প্রথমে সরাসরি ভুক্তভোগীকে নানাভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন তারা। তাকে না পেলে বাবা-মাসহ পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতজনদের নম্বরে আপত্তিকর বিভিন্ন ছবি তৈরি করে পাঠানো হতো। একইভাবে মোবাইলফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ঘরে বসে দিনে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ দেওয়া হতো। এমন এসএমএস পাঠিয়ে বিভিন্নজনকে প্রলুদ্ধ করা হতো। আর এ প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

গোয়েন্দা প্রধান বলেন, অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সিমে ২৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ছয় মাসে এই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা পাচার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে দেশ থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এ চক্রের হাতে এ পর্যন্ত দেশে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত দেড় হাজার মানুষ।

এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ভারতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অ্যাপটি তৈরি করেছে চীনা নাগরিকরা। এর সার্ভার সিঙ্গাপুরে। আর কল সেন্টারগুলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। পাকিস্তানি নম্বর দিয়ে বাংলাদেশিদের ডাকা হয়। আর ভারতীয়দের বাংলাদেশি নম্বর ব্যবহার করে ডাকা হতো।

দলটি অল্প টাকায় ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা লুট করত। এভাবে এক ভিকটিম থেকে আট লাখ টাকা চুরি করে তারা। তারা আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষকে হুমকি দেয়। এ চক্রের ১৫ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তবে চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। তারা লুকিয়ে আছে। অভিযান চলমান আছে।