অল্প বয়সেই চুল পাকছে! সমাধানে ঘরোয়া পদ্ধতি
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৪৯ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
একটা সময় ছিল যখন ৫০ পেরোলে চুলে পাক ধরত। কিন্তু এখন, পরিবেশ দূষণ এবং আধুনিক জীবনযাত্রার চাপের কারণে, ৩০ বছর হওয়ার আগেই কালো চুলের মধ্যে সাদা চুল উঁকি দিতে শুরু করে। এবং সময়ের সাথে সাথে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ছেলে অথবা নাকি মেয়েরা সবাই সম্মুখীন হতে পারে। তবে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে যার ব্যবহারে চিরদিনের জন্য চুল কালো করতে পারবেন। চুলের রং তখনই বদলাতে শুরু করে যখন তার মধ্যে থাকা পিগমেন্টের উৎপাদন কমে যায় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এই পিগমেন্টের কারণেই চুলের রং কালো হয়।
তবে, অনেক কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন- বার্ধক্য, জিনগত কারণ, স্ট্রেস, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাইপোথাইরয়েডিজম, ভিটিলিগো, ধূমপান, পুষ্টির ঘাটতি, পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া, পরিবেশ দূষণ এবং চুলের যত্ন ঠিক মতে না নেওয়া প্রভৃতি।
পরিসংখ্যান দেখায় যে মানসিক চাপ ৩০ বছর বা তার কম বয়সে চুল পড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী। কারণ এই বয়সীদের মানসিক চাপের মাত্রা বাকিদের তুলনায় অনেক বেশি। চলুন ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো জেনে নেই-
আমলকি:অকালে পাকা চুল ফিরিয়ে আনতে আমলকির বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটি পাত্রে সামান্য নারকেল তেল ও কয়েক টুকরো আমলকি গরম করুন। তারপর ধীরে ধীরে সারা চুলে তেল লাগিয়ে কয়েক মিনিট ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এভাবে ১৫ দিন করলেই উপকার পাবেন। আসলে আমলকিতে উপস্থিত কিছু উপাদান পিগমেন্টের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাদা চুল কালো হতে শুরু করে।
আদা:১ চামচ মধুর সঙ্গে আদা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর প্রতিদিন চুলে লাগান। ঘরে তৈরি এই মিশ্রণটি চুলকে দীর্ঘ সময় কালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নারকেল তেল:চুলের যত্নে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে একটি পাত্রে সমপরিমাণ নারকেল তেল ও লেবুর রস নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এভাবে চুলের যত্ন নিলে চুল পাকবে না। সেই সঙ্গে চুলের হারানো সৌন্দর্যও ফিরে আসে।
ঘি:সাদা চুলের সমস্যা দূর করতে সপ্তাহে দুইবার পরিমাণমতো ঘি চুলে লাগিয়ে মাসাজ করুন। এমনটা কয়েক দিন করলেই চুলে পরিবর্তন আসতে শুরু করবে।
কারি পাতা:নারকেল তেলে কিছু কারি পাতা গরম করুন। যখন দেখবেন পাতা সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেছে, তখন তাপ বন্ধ করে মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বকে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। এই ঘরোয়া প্রতিকার চুল পড়া কমাতে এবং পিগমেন্ট উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রসঙ্গত, নারকেল তেলের বদলে দই বা বাদাম দুধের সঙ্গে কারি পাতা মিশিয়েও চুলে লাগাতে পারেন।
মেহেদি:একটি পাত্রে ২ চামচ মেহেদির গুঁড়া, ১ চামচ মেথি বীজ, ২ চামচ তুলসী পাতার পেস্ট, ৩ চামচ কফি পাউডার, ৩ চামচ পুদিনা পাতার রস এবং ১ চামচ দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর প্রতিদিন চুলে লাগানো শুরু করুন। এটা করলে সাদা চুল নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। আপনি চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে মেহেদির গুঁড়া মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। এক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যায়।
লিকার চা:এক কাপ ব্রুড লিকার চায়ে ১ চা চামচ লবণ মেশান। তারপর চা চুলে এবং মাথার ত্বকে লাগান। এক ঘণ্টা পর চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এই ঘরোয়া প্রতিকারটি প্রতিদিন করা উচিত। তবেই আপনি দ্রুত ফলাফল পাবেন।
পেঁয়াজ:এতে উপস্থিত কিছু বিশেষ এনজাইম সাদা চুলের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি চুল পড়া কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে পেঁয়াজ থেকে পরিমাণ মতো রস সংগ্রহ করে চুলে লাগাতে হবে।
বাদাম তেল:সমপরিমাণ বাদাম তেল, লেবুর রস ও আমলকির রস মিশিয়ে চুলে লাগালে এ ধরনের সমস্যায় খুব উপকার পাওয়া যায়।
অ্যালোভেরা জেল: অকালে পাকা চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য এই প্রাকৃতিক উপাদানটি দুর্দান্ত। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে প্রতিদিন চুলে লাগান। তবেই সুফল পাওয়া যাবে।
সরিষা তেল: ঠিক শুনেছেন! সাদা চুল পুনরুদ্ধারের জন্য সরিষার তেল দুর্দান্ত। এক্ষেত্রে ২৫০ গ্রাম সরিষার তেলের সঙ্গে ৬০ গ্রাম মেহেদি পাতা মিশিয়ে ভালো করে গরম করুন। যখন দেখবেন মেহেদি পাতা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, তখন আঁচ বন্ধ করে তেলটি মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগান। প্রতিদিন এভাবে চুলের যত্ন নিলে কয়েকদিনের মধ্যে একটিও সাদা চুল পাবেন না।

























