স্বামীর পর সেই দগ্ধ চিকিৎসক স্ত্রীর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২১৬ বার পঠিত

তারেক পাঠান, নরসিংদী প্রতিনিধি :
নরসিংদীর রায়পুরায় তালাক দেওয়ার জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাক্তন চিকিৎসক স্ত্রীর ঘরে ঠুকে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রাক্তন স্বামী স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ঘটনার সেই চিকিৎসক স্ত্রী লতা আক্তার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এর আগে প্রাক্তন স্বামী খলিলুর রহমান সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয়।
লতা আক্তারের নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেন লতার চাচা ফারুক। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নিহতের লাশ হাসপাতালের প্রকৃয়া শেষ করে বাড়ি নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের ব্রাহ্মণেরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর খবর পেয়ে ওই নারীর ঘর থেকে অগ্নিদগ্ধ তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ওই নারী চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী লতা আক্তার (৩২)জেলার রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়ন ব্রাহ্মনেরটেক গ্রামের মফিজ উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকা গুলশান এলাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসক। নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করতেন।
অপর দিখে প্রাক্তন স্বামী খলিলুর রহমান(৪০)গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী গ্রামের আতর আলী বেপারীর ছেলে।
জানা যায়, চিকিৎসক লতা আক্তার ও খলিল উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক থেকে একপর্যায়ে উভয়েই গোপনে বিয়ে করে সংসার পাতেন। গত দুই মাস আগে ওই নারী উকিলের মাধ্যমে তার স্বামীকে তালাক নামা পাঠান। তালাকের চিঠি খলিল তাকে নিয়ে ঘর সংসার করতে চান। এ নিয়ে উভয়ের মতামতের ভিত্তিতে গত মাসে গ্রাম্য সালিসি দরবার হয়। রোববার দুপুরে ওই নারীর বাবার বাড়ি মরজাল এসে ঘরে ঠুকে দরজা বন্ধ করে স্ত্রী ও তার নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। এ সময় স্থানীয়রা হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে দরজা ভেঙে ঘর থেকে উভয়কেই দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। ওই নারীকে স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠান। অপর দিখে আহত ওই যুবককে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
ভুক্তভোগী ওই নারীর খালু ফরহাদ হোসেন জানান, ‘লতা আক্তার ঢাকায় শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে। বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। লতা ২ বছর আগে নিজের পছন্দে খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বিয়ের বেশ কিছুদিন পর লতা জানতে পারেন খলিলুর রহমান পেশায় একজন ড্রাইভার। বিষয়টি লতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। তাই মিথ্যে পরিচয়ে প্রতারণা করে বিয়ে করার অভিযোগে তার স্বামীকে সম্প্রতি ডিভোর্স দেন লতা। এ ঘটনায় স্বামী খলিলুর ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ বাড়িতে এসে হঠাৎ দুপুরের দিকে লতার বাড়িতে এসে পেট্রোল ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিজেও দগ্ধ হন। পরে এলাকাবাসী লতাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সন্ধ্যার দিকে লতাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা আসংখ্যাজনক।’
মরজাল ইউপি সদস্য তুহিন ভূইয়া বলেন, ‘লতার পরিবার সূত্রে জানতে পারি বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। রায়পুরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দগ্ধ লতা ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পর লতার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছিলো। সেই স্বামী ও দগ্ধ হয়ে গত সোমবার মারা যায়।


















