ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জব্দকৃত জাহাজ বিক্রি করবে ইরান Logo স্ত্রী গৌরী পাশে থাকলেও সহকারী পূজার ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ খান Logo জ্বরের কারণে প্রতিযোগিতায় নামতে পারলেন না সাইক্লিস্ট সবুর, এক ল্যাপেই হাল ছাড়লেন শাহাদাত Logo এ বছর স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা কম: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী Logo বৃহৎ পরিসরের এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড উন্মোচন করল হুয়াওয়ে Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানায় অভিযোগ করায় বাদী পক্ষের ওপর ফের হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, আহত ৪ Logo মিউজিক্যাল নাইট নিয়ে আসছে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ প্রেজেন্টস ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ Logo চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ, বাদীই বলছেন ‘চিনি না’ Logo অবাধ নৌচলাচলে হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত-ফ্রান্স Logo বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

মেম্বার পদে পরাজিত হয়ে গ্রাম পুলিশ এখন এমপি প্রার্থী

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ৩০২ বার পঠিত

নাটোর প্রতিনিধি :
দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি-মেম্বার) পদে পরাজিত মো. এসকেন আলী এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। জমি বিক্রি করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন এই গ্রাম পুলিশ।

আগামীকাল নাটোরের লালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করবেন। গত বুধবার দুপুরে লালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন উত্তোলন করেন বলে নিশ্চিত করেন লালপুরের ইউএনও শামীমা সুলতানা।

উপজেলার লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের একজন গ্রাম পুলিশ মো. এসকেন আলী। বাবা মৃত আকবর আলী মন্ডল ও মা রংবাস বেগমের ৫ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। স্ত্রী শাহানাজ বেগম গৃহিনী। তাঁদের দুই সন্তান ইয়াসমিন খাতুন একাদশ শ্রেণি ও সুরমিলা আক্তার লাবনী সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে।

মো. এসকেন আলী বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণি পাশ করার পর তৃতীয় শ্রেণিতে উঠার পর পর বাবা মারা যান। সংসারের হাল ধরতে আর পড়াশুনা করা হয়নি। যেকোনো ভোট এলে খুব আনন্দ লাগে। অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছে করে। এর আগে দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম বার সপ্তম আর গত নির্বাচনে একটি গরু বিক্রি করে তৃতীয় হয়েছিলেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট করার জন্য সকলের দোয়া চেয়ে পোস্টার লাগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সে বছর আর্থিক সংকটের জন্য ভোট করতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ বছর ভোট করার জন্য বাড়ির পাশের ১ কাঠা জমি আড়াই লাখ টাকা দিয়ে বিক্রি করেছেন। মনোনয়ন ফর্ম তুলে ভোটের কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত এতে ৩৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন বসত ভিটের ১ কাঠা জমি অবশিষ্ট রয়েছে।

জনগণ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে গ্রাম পুলিশের চাকরি করেন। বিনা স্বার্থে অনেক মানুষের উপকার করেছেন। তাই একটা ভোট চাইলে তারা অবশ্যই দেবে। এই আসনে ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ আর ২টি পৌরসভা আছে। সব এলাকার গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তাঁরা সবাই কাজ করবে ইনশাল্লাহ।

তাঁর স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, স্বামীর এ খামখেয়ালীপনায় তিনি কখনো বাধা দেননি। স্বামীর ভাল লাগাই নিজের ভাল লাগা মেনে নিয়ে পাশে থাকতে চান সব সময়।

লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পরিষদের গ্রাম পুলিশ এসকেন আলীর মনোনয়ন ফরম উত্তোলনের খবরটি শুনে অবাক হয়েছেন।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা সুলতানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক গ্রাম পুলিশ মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। সরকারি (গ্রাম পুলিশ) চাকরি করলে নির্বাচনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিনা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছায়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়গুলো দেখবেন। আইনবিধি অনুযায়ী ত্রুটিযুক্ত হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

নাটোর-১ আসনে নির্বাচনে ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচন যুদ্ধে নেমেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন ১৯। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন করে মনোনয়ন তুলেছেন।

মেম্বার পদে পরাজিত হয়ে গ্রাম পুলিশ এখন এমপি প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩

নাটোর প্রতিনিধি :
দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি-মেম্বার) পদে পরাজিত মো. এসকেন আলী এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। জমি বিক্রি করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন এই গ্রাম পুলিশ।

আগামীকাল নাটোরের লালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করবেন। গত বুধবার দুপুরে লালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন উত্তোলন করেন বলে নিশ্চিত করেন লালপুরের ইউএনও শামীমা সুলতানা।

উপজেলার লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের একজন গ্রাম পুলিশ মো. এসকেন আলী। বাবা মৃত আকবর আলী মন্ডল ও মা রংবাস বেগমের ৫ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। স্ত্রী শাহানাজ বেগম গৃহিনী। তাঁদের দুই সন্তান ইয়াসমিন খাতুন একাদশ শ্রেণি ও সুরমিলা আক্তার লাবনী সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে।

মো. এসকেন আলী বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণি পাশ করার পর তৃতীয় শ্রেণিতে উঠার পর পর বাবা মারা যান। সংসারের হাল ধরতে আর পড়াশুনা করা হয়নি। যেকোনো ভোট এলে খুব আনন্দ লাগে। অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছে করে। এর আগে দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম বার সপ্তম আর গত নির্বাচনে একটি গরু বিক্রি করে তৃতীয় হয়েছিলেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট করার জন্য সকলের দোয়া চেয়ে পোস্টার লাগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সে বছর আর্থিক সংকটের জন্য ভোট করতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এ বছর ভোট করার জন্য বাড়ির পাশের ১ কাঠা জমি আড়াই লাখ টাকা দিয়ে বিক্রি করেছেন। মনোনয়ন ফর্ম তুলে ভোটের কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত এতে ৩৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন বসত ভিটের ১ কাঠা জমি অবশিষ্ট রয়েছে।

জনগণ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে গ্রাম পুলিশের চাকরি করেন। বিনা স্বার্থে অনেক মানুষের উপকার করেছেন। তাই একটা ভোট চাইলে তারা অবশ্যই দেবে। এই আসনে ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ আর ২টি পৌরসভা আছে। সব এলাকার গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তাঁরা সবাই কাজ করবে ইনশাল্লাহ।

তাঁর স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, স্বামীর এ খামখেয়ালীপনায় তিনি কখনো বাধা দেননি। স্বামীর ভাল লাগাই নিজের ভাল লাগা মেনে নিয়ে পাশে থাকতে চান সব সময়।

লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, পরিষদের গ্রাম পুলিশ এসকেন আলীর মনোনয়ন ফরম উত্তোলনের খবরটি শুনে অবাক হয়েছেন।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা সুলতানা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক গ্রাম পুলিশ মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। সরকারি (গ্রাম পুলিশ) চাকরি করলে নির্বাচনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিনা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছায়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়গুলো দেখবেন। আইনবিধি অনুযায়ী ত্রুটিযুক্ত হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

নাটোর-১ আসনে নির্বাচনে ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচন যুদ্ধে নেমেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন ১৯। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন করে মনোনয়ন তুলেছেন।