ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিএম কলেজের দুই শিক্ষার্থী Logo গৌরনদীর দুই যুবক মাদকসহ বরিশালে আটক Logo সীমান্তে ফের বড় চালান জব্দ, ভারতীয় পণ্যের রহস্যময় প্রবেশপথে বিজিবির হানা Logo কুষ্টিয়ায় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা ভাংচুর, আ’লীগ নেতার বাড়িতে আগুন Logo এ দেশে কেউ আর ভাগ্যহত থাকবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল Logo কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের প্রশিক্ষণ, সনদ বিতরণ ও পরিচিতি সভা Logo বাঁশ এখন বাণিজ্যিক চাষের উদ্ভিদ, লাভবান হচ্ছেন অনেক পরিবার Logo মন্দিরের মেহেদি পরলে এক বছরের মধ্যে বিয়ে নিশ্চিত, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি Logo মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী

পরকীয়ার জেরে ছেলেকে হত্যা, মা ফরিদপুর হতে গ্রেফতার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩ ২৩২ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট:
পরকীয়ার জেরে আপন ছেলেকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত দীর্ঘদিন পলাতক আসামী মা খুকি বেগম’কে ফরিদপুর জেলার বৈঠাখালী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

১০ নভেম্বর শুক্রবার আনুমানিক রাত ১১ টায় র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১১ এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলার বৈঠাখালী এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার মামলা নং-০৫ তারিখ-১৯/১১/২০১৫ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দণ্ড বিধি; চাঞ্চল্যকর পরকীয়ার জেরে আপন ছেলেকে হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দীর্ঘদিন পলাতক প্রধান আসামী মা খুকি বেগম (৫০), পিতা-আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঁইয়া, সাং-দক্ষিণ আলগী, উপজেলা- হাইমচর, জেলা- চাঁদপুর’কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামী খুকি বেগম(৫০) এর সাথে পার্শ্ববর্তী এলাকার জয়নাল গাজী নামক এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি খুকি বেগমের ছেলে আরিফ হোসেন জানতে পারে এবং এ নিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। ২০১৫ সালের শুরুতে ছেলে আরিফ হোসেন পার্শ্ববর্তী এলাকার আব্দুস সালাম মিজির মেয়ে আসমা আক্তারকে (১৯)’কে বিয়ে করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের বিয়ে মা খুকি বেগম প্রথমে মেনে না নিলেও এক পর্যায়ে মেনে নেন। তার কিছুদিন পর থেকে আরিফ হোসেন ও তার বউয়ের সাথে আরিফের মা খুকি বেগমের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে ঝগড়াবিবাদ হয়। এরই মধ্যে মা খুকি বেগম ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখ খুকি বেগত তার ছেলের বউ আসমা বেগমকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

অতঃপর গত ১৮ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখ রাতে খুকি বেগম পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার নিজ গৃহে ছেলে আরিফকে গরুর দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। আরিফ দুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পরলে আরিফের মা খুকি বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিকসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১/২ জনের সহযোগীতায় ছেলে আরিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে, বটি ও ব্লেড দিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করে। পরদিন ১৯ নভেম্বর ২০১৫ তারিখ সকালে খুকি বেগম আরিফের স্ত্রী আসমাকে ফোন করে জানান যে ডাকাতরা আরিফকে মেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে গেছে। আরিফের স্ত্রী আসমা তাৎক্ষণিক স্বামীর বাড়িতে চলে আসেন এবং আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মতলব ফেরিঘাট পার হওয়ার সময় আরিফ মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় ওই দিন মৃত আরিফের স্ত্রী আসমা শাশুড়ি খুকি বেগমসহ অজ্ঞানামা ২/৩ জন ব্যক্তিদের আসামী করে হাইমচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এরপর থেকে আসামী খুকি আত্মগোপনে চলে যায় ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাম পরিচয় গোপন করে থাকে। ফরিদপুরেও উক্ত আসামী নাম পরিচয় গোপন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে বসবাস করতে থাকে। উক্ত মামলার ছায়া তদন্দের এক পর্যায়ে উক্ত আসামীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে র‌্যাব ১০ ও র‌্যাব ১১ এর যৌথ প্রচেষ্টায় আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরকীয়ার জেরে ছেলেকে হত্যা, মা ফরিদপুর হতে গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৬:২০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

ডেস্ক রিপোর্ট:
পরকীয়ার জেরে আপন ছেলেকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত দীর্ঘদিন পলাতক আসামী মা খুকি বেগম’কে ফরিদপুর জেলার বৈঠাখালী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

১০ নভেম্বর শুক্রবার আনুমানিক রাত ১১ টায় র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১১ এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলার বৈঠাখালী এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার মামলা নং-০৫ তারিখ-১৯/১১/২০১৫ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দণ্ড বিধি; চাঞ্চল্যকর পরকীয়ার জেরে আপন ছেলেকে হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দীর্ঘদিন পলাতক প্রধান আসামী মা খুকি বেগম (৫০), পিতা-আনোয়ার উল্ল্যাহ ভূঁইয়া, সাং-দক্ষিণ আলগী, উপজেলা- হাইমচর, জেলা- চাঁদপুর’কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামী খুকি বেগম(৫০) এর সাথে পার্শ্ববর্তী এলাকার জয়নাল গাজী নামক এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি খুকি বেগমের ছেলে আরিফ হোসেন জানতে পারে এবং এ নিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। ২০১৫ সালের শুরুতে ছেলে আরিফ হোসেন পার্শ্ববর্তী এলাকার আব্দুস সালাম মিজির মেয়ে আসমা আক্তারকে (১৯)’কে বিয়ে করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের বিয়ে মা খুকি বেগম প্রথমে মেনে না নিলেও এক পর্যায়ে মেনে নেন। তার কিছুদিন পর থেকে আরিফ হোসেন ও তার বউয়ের সাথে আরিফের মা খুকি বেগমের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে ঝগড়াবিবাদ হয়। এরই মধ্যে মা খুকি বেগম ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখ খুকি বেগত তার ছেলের বউ আসমা বেগমকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

অতঃপর গত ১৮ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখ রাতে খুকি বেগম পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার নিজ গৃহে ছেলে আরিফকে গরুর দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। আরিফ দুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পরলে আরিফের মা খুকি বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিকসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১/২ জনের সহযোগীতায় ছেলে আরিফকে ঘুমন্ত অবস্থায় হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে, বটি ও ব্লেড দিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করে। পরদিন ১৯ নভেম্বর ২০১৫ তারিখ সকালে খুকি বেগম আরিফের স্ত্রী আসমাকে ফোন করে জানান যে ডাকাতরা আরিফকে মেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে গেছে। আরিফের স্ত্রী আসমা তাৎক্ষণিক স্বামীর বাড়িতে চলে আসেন এবং আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে মতলব ফেরিঘাট পার হওয়ার সময় আরিফ মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় ওই দিন মৃত আরিফের স্ত্রী আসমা শাশুড়ি খুকি বেগমসহ অজ্ঞানামা ২/৩ জন ব্যক্তিদের আসামী করে হাইমচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এরপর থেকে আসামী খুকি আত্মগোপনে চলে যায় ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাম পরিচয় গোপন করে থাকে। ফরিদপুরেও উক্ত আসামী নাম পরিচয় গোপন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে বসবাস করতে থাকে। উক্ত মামলার ছায়া তদন্দের এক পর্যায়ে উক্ত আসামীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে র‌্যাব ১০ ও র‌্যাব ১১ এর যৌথ প্রচেষ্টায় আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।