ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি Logo রাজাপুরের উত্তর উত্তমপুর গ্রামে ২ কিলোমিটার রাস্তা মরণফাঁদ, বর্ষায় চরম ভোগান্তিতে শত শত শিক্ষার্থী Logo মাদকে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই আগে ব্যবস্থা: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি Logo দেশের বাজারে অনারের আল্ট্রা-স্লিম ফোল্ডেবল ‘ম্যাজিক ভি৬’ Logo সুস্থ সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গঠনে তরুণ সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিহার্য Logo একটি হুইল চেয়ারই বদলে দিতে পারে প্রতিবন্ধী দীপঙ্করের জীবন Logo ‘চাঁদা না দিলে রাস্তায় পড়ে থাকবে লাশ’: হিন্দু পল্লীতে আতঙ্ক Logo ফরিদপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা জন্মের প্রথম ঘণ্টায় শালদুধ, প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর আহ্বান Logo নগরকান্দায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে তদন্তে পুলিশ Logo বাগেরহাটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ

নরসিংদীতে নারীর  আত্মহত্যার চেষ্টা, ট্রেনের নিচ থেকে অক্ষত উদ্ধার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ২৩৯ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

তারেক পাঠান নরসিংদী প্রতিনিধি :
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন। ট্রেন আর যাত্রীদের হই-হুল্লোড়ে মুখর। গতকাল বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে সবার চোখে-মুখে নেমে আসে রাজ্যের বিস্ময়। আত্মহত্যা করবেন বলে কয়েক মুহূর্ত আগেও যে নারী ট্রেনের নিচে শুয়ে পড়েছিলেন; তিনি অক্ষত আছেন। তাঁর বেঁচে যাওয়ার বিষয় নিয়ে স্টেশনজুড়ে চলছিল নানা কথাবার্তা। গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর নাম লতিফা বেগম (৭০)। তিনি নরসিংদী শহরের কাউরিয়াপাড়ার নতুন লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকার জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী। তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল বিকেলে নরসিংদী রেলস্টেশনে ঢুকছিল কর্ণফুলী মেইল ট্রেন। ১ নম্বর লাইনে যাত্রাবিরতি দেওয়ার আগমুহূর্তে ওই নারী রেললাইনের ওপর লম্বালম্বি শুয়ে পড়েন। লোকোমাস্টার (চালক) তখন হঠাৎ হার্ড ব্রেক কষেন। এতে ওই নারী দ্বিতীয় বগির নিচে থাকা অবস্থাতেই ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পুরোপুরি থেমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী। অনেকেই ট্রেন থেকে নেমে সড়ক পথে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে রওনা হন। আবার অনেককেই পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সোয়া আটটার দিকে ইঞ্জিন সচল হলে ট্রেনটি আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়।
এ দিকে আত্মহত্যা চেষ্টার কারণ নিয়ে জানতে চাইলে লতিফা বেগম বলেন, ডায়াবেটিস ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন তিনি। তাঁর স্বামীও অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছেলে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। ছেলের বেতনের আট হাজার টাকার মধ্যে অর্ধেকই ব্যয় হয় দুজনের চিকিৎসা আর ওষুধের পেছনে। এ কারণে সংসারই ঠিকমতো চলছে না। তাই ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন।
এসব বিষয়ে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, ওই নারীকে বাঁচাতে কর্ণফুলী মেইল ট্রেনের লোকোমাস্টার হার্ড ব্রেক কষেন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি শরীরের কোথাও আঘাত পাননি, পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তাঁকে এরই মধ্যে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর তিন ঘণ্টা পর ট্রেনটির ইঞ্জিন সচল হলে আবার রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করে।

ট্যাগস :

নরসিংদীতে নারীর  আত্মহত্যার চেষ্টা, ট্রেনের নিচ থেকে অক্ষত উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশ কন্ঠ ।।

তারেক পাঠান নরসিংদী প্রতিনিধি :
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন। ট্রেন আর যাত্রীদের হই-হুল্লোড়ে মুখর। গতকাল বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে সবার চোখে-মুখে নেমে আসে রাজ্যের বিস্ময়। আত্মহত্যা করবেন বলে কয়েক মুহূর্ত আগেও যে নারী ট্রেনের নিচে শুয়ে পড়েছিলেন; তিনি অক্ষত আছেন। তাঁর বেঁচে যাওয়ার বিষয় নিয়ে স্টেশনজুড়ে চলছিল নানা কথাবার্তা। গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর নাম লতিফা বেগম (৭০)। তিনি নরসিংদী শহরের কাউরিয়াপাড়ার নতুন লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকার জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী। তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল বিকেলে নরসিংদী রেলস্টেশনে ঢুকছিল কর্ণফুলী মেইল ট্রেন। ১ নম্বর লাইনে যাত্রাবিরতি দেওয়ার আগমুহূর্তে ওই নারী রেললাইনের ওপর লম্বালম্বি শুয়ে পড়েন। লোকোমাস্টার (চালক) তখন হঠাৎ হার্ড ব্রেক কষেন। এতে ওই নারী দ্বিতীয় বগির নিচে থাকা অবস্থাতেই ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পুরোপুরি থেমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী। অনেকেই ট্রেন থেকে নেমে সড়ক পথে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে রওনা হন। আবার অনেককেই পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সোয়া আটটার দিকে ইঞ্জিন সচল হলে ট্রেনটি আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়।
এ দিকে আত্মহত্যা চেষ্টার কারণ নিয়ে জানতে চাইলে লতিফা বেগম বলেন, ডায়াবেটিস ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন তিনি। তাঁর স্বামীও অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছেলে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। ছেলের বেতনের আট হাজার টাকার মধ্যে অর্ধেকই ব্যয় হয় দুজনের চিকিৎসা আর ওষুধের পেছনে। এ কারণে সংসারই ঠিকমতো চলছে না। তাই ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন।
এসব বিষয়ে নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, ওই নারীকে বাঁচাতে কর্ণফুলী মেইল ট্রেনের লোকোমাস্টার হার্ড ব্রেক কষেন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি শরীরের কোথাও আঘাত পাননি, পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তাঁকে এরই মধ্যে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর তিন ঘণ্টা পর ট্রেনটির ইঞ্জিন সচল হলে আবার রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করে।