গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনতে পাম্প মালিকদের বিরত থাকার আহ্বান
- আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৬৩ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ৩১ মার্চ ২০২৬ ।।
দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে হামলা বন্ধ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনতে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, সরকারের চালু করা রেশনিং ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা জরুরি। পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তেল বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারের গলফেশা প্লাজায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্থিরতা, হামলা ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে পাম্পে নিরাপত্তা জোরদার এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের প্রতি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে। তবে এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পাম্প মালিকরা নির্ধারিত দামে জ্বালানি বিক্রি করে যাচ্ছেন এবং কর্মীরা দিনভর দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও ভুল তথ্যের কারণে কিছু জায়গায় পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আশ্বস্ত করেছে যে দেশে জ্বালানির কোনো স্থায়ী সংকট নেই এবং বর্তমান মজুত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের কারণে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, যদি সবাই একসঙ্গে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে থাকে, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটবে এবং জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই তেল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিশেষ করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু পাম্পে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ যথেষ্ট থাকলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। সংগঠনটি পাম্পে তেল বিক্রির নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তবতার ভিত্তিতে সরবরাহ সমন্বয় করা এবং ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। সবশেষে, পাম্প মালিকদের ওপর একতরফাভাবে দোষ চাপানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনিটরিং আরও জোরদার করা এবং হামলা-সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
























