ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হামে প্রাণহানি ৮০০ ছাড়াল, একদিনে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু Logo কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, বেড়েছে গ্যাস সংকট; তিতাস গ্যাস Logo সংকটে সিএনজি স্টেশন : ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট Logo আশুগঞ্জে খাল পুনঃখননে সাশ্রয়, ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত Logo চট্টগ্রামে অনারের ব্র্যান্ডশপ, উদ্বোধনে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করল হিউম্যানয়েড রোবট Logo টঙ্গীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু Logo টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেফতার Logo মামলার নথি পাঠিয়ে টাকা দাবি, লেনদেন হয় বিকাশে তবুও আসামী যুবলীগ নেতা Logo ময়মনসিংহে ট্রাকের সাথে অটোর সংঘর্ষ নিহত ৩ Logo পটুয়াখালীতে গৃহবধূ তানিয়া হত্যা:প্রতিবাদে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন!

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, বেড়েছে গ্যাস সংকট; তিতাস গ্যাস

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পঠিত

মাইনুল হোসেন পিন্নু, ২১ জুলাই ঢাকা

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এমনিতেই চাহিদার তুলনায় ঘাটতিতে থাকা গ্যাস ব্যবস্থায় নতুন এই বিঘ্নে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস মিলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ প্রতিদিনই প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুটের ঘাটতি থাকে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট। নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে যাওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি আরও বেড়েছে।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এ দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসায় চুলায় পর্যাপ্ত আগুন মিলছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও স্বল্পচাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি ও এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

ট্যাগস :

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, বেড়েছে গ্যাস সংকট; তিতাস গ্যাস

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মাইনুল হোসেন পিন্নু, ২১ জুলাই ঢাকা

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এমনিতেই চাহিদার তুলনায় ঘাটতিতে থাকা গ্যাস ব্যবস্থায় নতুন এই বিঘ্নে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস মিলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ প্রতিদিনই প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুটের ঘাটতি থাকে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট। নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে যাওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি আরও বেড়েছে।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এ দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসায় চুলায় পর্যাপ্ত আগুন মিলছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও স্বল্পচাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি ও এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।