ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আসল খরচ’ হতে পারে ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলার
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২৭ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা শুরুতে দাবি করেছিলেন, এ যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, এই হিসাব প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, পেন্টাগনের দেওয়া হিসাবের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির মেরামত ব্যয় ধরা হয়নি। এসব স্থাপনা পুনর্গঠন এবং ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যুক্ত করলে মোট ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের হামলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ৯টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন রাডার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। জর্ডানে একটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থাপনাতেও একই ধরনের রাডার ক্ষতির শিকার হয়েছে। সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে থাকা বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানও ইরানি হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ডব্লিও হার্স্ট তৃতীয় জানান, তার উল্লেখ করা ২৫ বিলিয়ন ডলারের বড় অংশই গোলাবারুদ খাতে ব্যয় হয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের ব্যয় রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট করেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এদিকে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না পেন্টাগনের এই হিসাবকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান এই সংঘাত মোকাবিলায় অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক বাজেট অনুমোদনের অনুরোধও জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহের বাজেট ব্রিফিংয়ে জুলস হার্স্ট বলেন, বিদেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে কীভাবে এগুলো পুনর্গঠন করা হবে, তার ওপরই চূড়ান্ত ব্যয় নির্ভর করবে। তিনি আরও জানান, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে এসব মেরামত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই বাজেট অনুমোদিত হলে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
























